রাজশাহীর শাহাবুল হত্যায় ‘সন্ত্রাসী’ টাইগার গ্রেপ্তার

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:১৪

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙা ফেরতাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাহাবুল ইসলাম হত্যায় আরিফুল ইসলাম ওরফে টাইগার নামে এলাকার এক ‘চিহ্নিত সন্ত্রাসী’কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহীর আইডি হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

টাইগার নগরীর বহরমপুর এলাকার শামসুল ইসলামের ছেলে। তিনি শাহাবুল হত্যা মামলার ছয় নম্বর আসামি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। জিজ্ঞাসাবাদে শাহাবুল হত্যার ব্যাপারে টাইগারের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে বলে আশা করছে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পবা থানার পুলিশ পরিদর্শক হাসমত আলী বলেন, শাহাবুলকে হত্যার পর থেকেই আত্মগোপনে ছিল টাইগার। গোপন সংবাদে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাইগারকে রবিবার সকালে আদালতে তোলা হবে। তখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে তার রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা হাসমত আলী।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে পবা উপজেলার কৈকুড়ি এলাকার একটি রাস্তার পাশে শাহাবুলের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শাহাবুল রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার কাশিয়াডাঙ্গা ফেরতাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পুকুরে মাছ চাষ করতেন। এছাড়া তিনি জমি কেনা-বেচার ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

শাহাবুল হত্যায় তার মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জমি কেনার জন্য শাহাবুল জমির একজন বিক্রেতাকে ছয় লাখ টাকা বায়না দিয়েছিলেন। কিন্তু জমির মালিক রেজিস্ট্রি দিচ্ছিলেন না। জমির রেজিস্ট্রি না দিয়ে টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনায় শাহাবুল খুন হন বলে মনে করেন তার মা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বায়না নিয়েও জমি লিখে না দেয়ায় শাহাবুলের সঙ্গে জমির মালিকের চরম দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্বের মীমাংসার নামে বৃহস্পতিবার রাতে বহরমপুর মোড় থেকে একটি সাদা প্রাইভেটকারে করে এক আত্মীয়র সামনে থেকেই শাহাবুলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন তার গলাকাটা লাশ পাওয়া যায়।

মামলার এজাহারে শাহাবুলের মা জমির বায়নার টাকার কথা উল্লেখ করলেও স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, জমি কেনা-বেচার ব্যবসার পাশাপাশি নিহত শাহাবুল ক্রিকেট খেলায় বাজি খেলতেন। মামলার ছয় আসামির একজনের কাছে তিনি ৬ লাখ টাকা জিতেছিলেন। তিনি টাকা পরিশোধ করতে না পেরে তার একটি জমি শাহাবুলকে লিখে দিতে চেয়েছিলেন। এরই মধ্যে শাহাবুলকে গলাকেটে হত্যা করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাসমত আলী বলেছেন, তিনি সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত শুরু করেছেন। এই মামলার এজাহারনামীয় পলাতক অন্য পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারলে হত্যার রহস্য উন্মোচন হবে বলে মনে করেন তিনি। তাদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

(ঢাকাটাইমস/২৩সেপ্টেম্বর/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত