শখের রেডিও স্টেশনে একদিন

আসাদুজ্জামান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:১৮ | প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৫৪

আশ্বিন মাসের দুপুর। গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ঘরে বসে থাকলেও গরমে হাসফাঁস লাগে। ঘরের বাইরে গরমের তীব্রতা বেশি। আর খোলা ছাদে যেন লু হাওয়া বইছে। এমন এক দুপুরে ছাদে মাদুর পেতে বসেছেন একদল তরুণ। যাদের চোখ একটি ল্যাপটপের পর্দায় আটকে আছে। এদের মধ্যে একজন লম্বা একটি অ্যান্টেনা হাতে নিয়ে আকাশের দিকে তাক করে আছেন। ওদিকে ল্যাপটপের সাউন্ড কার্ডে টি টি শব্দ হচ্ছে। আর সবাই আগ্রহ ভরে ল্যাপটপের পর্দার দিকে তাকিয়ে দেখছেন কি হচ্ছে। এমন দৃশ্য দেখা গেল রাজধানীর ডেমরা এলাকার একটি বাসার ছাদে।

যে তরুণ আকাশের দিকে অ্যান্টেনা তাক করে ছিলেন তিনি তারিফ এইচ শান্ত। পেশায় প্রকৌশলী হলেও ধ্যান-জ্ঞান শখের রেডিও তরঙ্গ নিয়ে। যিনি একজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটর। অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের বলা হয় হ্যাম।

দেশের অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের একটি সংগঠন আছে।  নাম বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও লীগ (বিএআরএল)। এই সংগঠনটি নতুন হ্যামদের নিয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আয়োজন করে। আর যারা হ্যাম হতে চায় তাদেরও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেয়। পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখায় কীভাবে অ্যামেচার রেডিওর মাধ্যমে দেশ-বিদেশের অন্য একজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এটি মূলত অবাণিজ্যিক শখের কারবার। 

পৃথিবীর সব দেশেই অ্যামেচার রেডিও ব্যবহার করতে লাইসেন্স লাগে। বাংলাদেশে এই লাইসেন্স ইস্যু করে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি)। এজন্য প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা নেয়। এবছর যারা অ্যামেচার রেডিও লাইসেন্স পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দিয়েছে তাদের এই রেডিও পরিচালনা করার জন্য একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর আয়োজন করেছে বিএআরএল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত অ্যামেচার রেডিও সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের সাতটি দলে ভাগ করে চলছে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ। এরই একটি দল টিম চার্লি। এই দলের প্রশিক্ষক হিসেবে আছেন তারিফ এইচ শান্ত।

গতকাল শান্তর আমন্ত্রণে তার ডেমরার বাসায় টিম চালির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। সেখানে প্রশিক্ষক শান্ত ভর দুপুরে ইউএইচএফ/ভিএইচএফ রেডিও সেটের সঙ্গে ইয়াগি অ্যান্টেনা জুড়ে দিয়ে একটি স্যাটেলাইটের তথ্য গ্রহণের চেষ্টা করেন। তিনি সফলও হন। ওই স্যাটেলাইটটির নাম এনওএএ। এটি মূলত ওয়েদার স্যাটেলাইট। এনওএএ সিরিজ এর বিভিন্ন স্যাটেলাইট দিনের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের উপর দিয়ে যায়। তখন বাংলাদেশের আবহাওয়ার ছবি তুলে পাঠায়।

দুপুর সাড়ে তিনটার সময় এর ফুটপ্রিন্ট থাকে বাংলাদেশের উপরে। টিম চার্লির সদস্যরা আগেই থেকেই একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটির গতিবিধি নজর রাখছিলেন।

এরপর রেডিও সেটের অডিও আউটপুট ল্যানকার্ডের মাধ্যমে ল্যাপটপে জুড়ে দেয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই স্যাটেলাইটি ছবি পাঠাতে শুরু করে। পূর্ণাঙ্গ ছবি পাঠাতে সময় লাগে কয়েক মিনিট। শান্ত জানান, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ছবি প্রেরণের এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘অটোমেটিক পিকচার ট্রান্সমিশন।’ যদিও এভাবে গ্রহণকৃত ইমেজ কোড করা থাকে। একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে রেডিও সিগন্যালকে ডিকোডিং করে ইমেজ পাওয়া যায়। ওই ইমেজ থেকে বোঝা যায় আবহাওয়ার সার্বিক অবস্থা।

শান্ত ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তর হ্যামরা ওয়েদার স্যাটেলাইট থেকে অ্যামেচার রেডিও সেট দিয়ে বিনেপয়সায় ওয়েদার আপডেট পেয়ে থাকেন। এটি তাদের একটি শখ। এর মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাসও জানা যায়।’

এদিকে বেলা বাড়তে থাকলে শান্ত উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে একটি অ্যামেচার রেডিও স্টেশনের প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, একটি অ্যামেচার রেডিও স্টেশনে কয়েকটি মৌলিক উপকরণ লাগে। এগুলো হলো-রেডিও ট্রান্সসিভার, অ্যান্টেনা, এসডব্লিআর মিটার, ফিড লাইন ক্যাবল এবং পাওয়ার সাপ্লাই।

মূলত বাংলাদেশের অ্যামেচার রেডিও অপারেটররা হ্যাম ব্যান্ডে তিন ধরনের রেডিও সেট ব্যবহারের অনুমতি পান। এগুলো হলো-ভিএইচএফ, ইউএইচএফ এবং এইচএফ। এর মধ্যে দূরবর্তীস্থানে যোগাযোগের জন্য প্রয়োজন হয় এইচএফ রেডিও সেট। এসব সেটের মাধ্যমে সিগন্যাল গ্রহণ ও প্রেরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টেনার প্রয়োজন হয়। তাই একজন অ্যামেচার রেডিও অপারেটরকে অ্যান্টেনা বানানোর কৌশল শিখতে হয়।

শিখনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেকে জড়াতে চাইলে যোগাযোগ করতে হবে বাংলাদেশ অ্যামেচার রেডিও লীগের সঙ্গে। অ্যামেচার রেডিওর অপূর্ব জগতে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করে আছে দেশের হ্যামরা।

(ঢাকাটাইমস/২৪সেপ্টেম্বর/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত