আরেক ‘পরিমলে’র সন্ধান, লালমনিরহাটে তোলপাড়

কালিগঞ্জ (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২৩:১৬ | প্রকাশিত : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২:২৩

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের বসুন্ধরা শাখার শিক্ষক পরিমলের পর এবার তারই চরিত্রের আরেক শিক্ষকে তোলপাড় শুরু হয়েছে লালমনিরহাটে। তিনি জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার আলিমুদ্দিন কলেজের শিক্ষক মেহেদি হাসান সুমন। ইংরেজি বিভাগের ওই শিক্ষক প্রাইভেট পড়ানোর আড়ালে অনেক ছাত্রীর সর্বনাশ করেছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

শনিবার রাতে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে এক ছাত্রীর সাথে তার কিছু আপত্তিকর ছবি ভেসে উঠে। রবিবার দুপুরে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে কলেজের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ ও কলেজ ছাত্রদল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেয় কলেজ প্রশাসন।

জানা গেছে, হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মেহেদি হাসান সুমন কলেজের ২০০ গজ দূরে একটি রুম ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের ইংরেজি প্রাইভেট পড়াচ্ছেন এবং এর আড়ালে অনেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করেছেন।

এ ঘটনায় ওই প্রাইভেট কক্ষে একটি পক্ষ গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘সত্যপ্রকাশ চৌবে’ নামে একটি ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ করে।

এর আগে গত শনিবার হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান মামুনের দেয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে এলাকাজুড়ে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়। তিনি তার ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন, ‘হাতীবান্ধার আলোচিত পরিমল জয়ধর ওরফে সুমন মাস্টারের মুখোশ আর উন্মোচিত হচ্ছে না। কারণ ওই গুন্ডা মাস্টারের লালসার শিকার হওয়া ওইসব কলেজছাত্রীরা আত্মসম্মানের ভয়ে এ ব্যাপারে কেউই মুখ খুলছেন না। তবে ভুক্তভোগী কেউ যদি আমাদের (ছাত্রলীগ) কাছের সাহায্য চায়, তার পরিচয় গোপন রেখে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

এদিকে ছাত্রলীগ সভাপতির দেয়া এমন ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাড়া দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ নানা মন্তব্য করছেন।

স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ফেসবুকের ওই স্ট্যাটাসে মন্তব্য করেছেন- ‘আমিও একজন শিক্ষক। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে বলে- এমন কাজ কোনো শিক্ষকের হতে পারে না। সে মানসিক বিকারগ্রস্ত। উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে বিচারের আওতায় আনা হোক।’

কেউ কেউ আবার কলেজ শিক্ষক সুমনের ছবিও ফেসবুক মন্তব্য অংশে আপলোড করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, ছাত্রীদের সাথে ওই শিক্ষকের যৌনাচারের একটি ভিডিও চিত্রও নাকি একটি পক্ষের হাতে আছে। আর সেই পক্ষটি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি চেপে যাচ্ছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

তবে মেহেদি হাসান সুমন এসব বিষয় অস্বীকার করে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমি এসবের কিছুই জানি না। যারা ফেসবুকে এসব ঘটনা রটাচ্ছে- তারা পারিবারিক শত্রুতার জন্য এমনটি করতে পারে।’

তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন? এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই পারিবারিকভাবে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

হাতীবান্ধা আলিমুদ্দিন কলেজ অধ্যক্ষ সারওয়ার হায়াত খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পাঁচ সদস্যের তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। ঘটনা প্রমাণিত হলে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’

(ঢাকাটাইমস/২৪সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত