পূজায় জমজমাট কেনাকাটা, বিক্রেতাদের মুখে হাসি

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:১৩

দুর্গাপূজার আর মাত্র একদিন বাকি। মঙ্গলবার ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ঘটা করে শুরু হবে পূজা। বাজবে শঙ্খ। উলুধ্বনিতে মুখরিত হবে চারদিক। আনন্দে ভাসবে শহর-নগর। ভক্তদের দর্শন দিতে স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসবেন দেবী দুর্গা।

ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ লেগেছে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে। ভক্তদের মাঝেও এখন উৎসবের আমেজ। ঘুরে ঘুরে দেখছেন রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলো। উৎসবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই  হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে দেবীকে বরণ করে নেয়ার প্রস্তুতি।

দেবীকে বরণ করে নিতে পূজায় নতুন পোশাক না হলে কি চলে! পরিবারের সবার নতুন পোশাক চাই। তাই পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজধানীতে বসবাসকারী হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে শিশু-কিশোররা নিজের পছন্দের পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন দোকানে দোকানে। পুজোতে যারা ঢাকার বাইরে যাবেন তারা দ্রুত শেষ করছেন কেনাকাটা।

উৎসব সামনে রেখে চলছে জমজমাট কেনাকাটা। ঢাকার প্রায় সব  শপিং মলেই এখন বাড়তি ভিড়।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ধানমন্ডি  হকার্স,  চাঁদনী চক,  মেট্রো শপিং মল, অরচার্ড পয়েন্ট, ইস্টার্ন প্লাজা, এলিফ্যান্ট রোড, অরচার্ড প্লাজা,  প্রিয়াঙ্গন শপিং কমপ্লেক্স, সীমান্ত স্কয়ার, রাপা প্লাজাসহ বেশ কয়েকটি শপিং মলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রত্যেকটিতেই চলছে পূজার কেনাকাটা।

ক্রেতাদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মল। রবিবার বিকালে সরেজমিনে বসুন্ধরা শপিং মলে গিয়ে দেখা যায়, পোশাকের দোকানগুলোতে ভিড় বেশি। নিচ তলায় শিশুদের দোকানগুলোতে চলছে কেনাবেচা। শিশুদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে থ্রি-কোয়ার্টার, ফোর-কোয়ার্টার প্যান্ট, গেঞ্জি, পাঞ্জাবি, ফ্রক, টপস, স্কার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক।

দোকানি ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারের পূজার বাজারে মেয়েদের শাড়ি ও সালোয়ার-কামিজের চাহিদা বেশি। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কাতান, জর্জেট,  সিল্ক, শিপন ও এমব্রয়ডারি দিয়ে কাজ করা ভারতীয় শাড়ির প্রতি আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের। কদর রয়েছে টাঙ্গাইলের তাঁত ও জামদানি শাড়িরও। ক্রেতা বুঝে যার যাই পছন্দ হোক না কেন, বেশিরভাগ ক্রেতাই আবহাওয়া উপযোগী শাড়িই কিনছেন। গরমের সময় হওয়ায় হালকা ও কম ওজনের শাড়ি বেশি বিক্রি হচ্ছে।

জ্যোতি শাড়ি দোকানের সেলসম্যান আরিফ আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বিক্রি ভালোই হচ্ছে। পূজার কালেশানও ভালো ছিল। কাস্টমারের বেশ আনাগোনা, তবে মিডিয়াম রেজ্ঞের কাস্টমারই বেশি। অষ্টমী পর্যন্ত আমাদের ব্যবসা চলবে।’ 

অন্যদিকে এবার তরুণীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে সারারা, ফ্লোরটাচ গাউন বা ব্রাইডাল গাউন, ক্যাপ গাউন, নরমাল পার্টি গাউন, লং গাউন বুটিকস, লং কামিজসহ বাহারি রং ও নানা ডিজাইনের চোখধাঁধানো পোশাক। ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে এবার পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে কটি বেশ চলছে। অনেকে পাঞ্জাবির সঙ্গে পরার জন্য পূজার আমেজের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন ধুতিও।

বসুন্ধরার শপিং মলের দেশি দশে পূজার আবহ পাওয়া গেল। সুতি, সিল্ক, অ্যান্ডি ও খাদি কাপড়ে তৈরি এসব ফতুয়াতে প্রিন্ট করা হয়েছে সংস্কৃত ভাষার বিভিন্ন বাণী ও স্বস্তিকা চিহ্ন। লেখা হয়েছে ওঁম, হরে কৃষ্ণ হরে রাম, ওম শান্তি ওমসহ বিভিন্ন শ্লোক ও মা দুর্গার বন্দনাসূচক বিভিন্ন বাক্য। এছাড়া রঙতুলিতে ফতুয়ার ওপর আঁকা হয়েছে দেবী দুর্গা, সরস্বতী, লক্ষ্মী এবং দেবতা গণেশ ও কার্তিকের প্রতিচ্ছবি। পাঞ্জাবিতে প্রাধান্য পেয়েছে সাদা, কালো, সবুজ, কমলা ও লাল রং।

এ বিষয়ে বাংলার মেলার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘অনেকেই পোশাকে পূজার আবহ পেতে চায়। ক্রেতাদের আগ্রহের বিষয় মাথায় রেখেই করা হয় ডিজাইন। এবারের পুজোতে এখন পর্যন্ত আমাদের ব্যবসা মোটামুটি ভালোই হয়েছে। আর কালারের দিক থেকে ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ লাল-সাদা।’

নামিদামি ব্র্যান্ডের দোকানগুলোর মধ্যে আড়ং, ইয়োলো, ক্যাটস আই, ইনফিনিটি, লুবানান, স্মার্টেক্স, ফ্রিল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দোকানে ক্রেতার ভিড়ের কারণে ঢোকাই কঠিন হয়ে পড়ে বিকালের দিকে। কেবল পোশাক বা শাড়ির দোকানেই নয়, স্যান্ডেল-জুতার দোকান এপেক্স ও বাটায় বেশ ভিড় দেখা গেছে। ড্রেসের সঙ্গে মিলিয়ে চলছে স্যান্ডেল-জুতা কেনা।

স্বপন সরকার তার পরিবার নিয়ে বসুন্ধরা সিটিতে এসেছেন পূজার কেনাকাটা করতে। সবার জন্য কেনাকাটা করা প্রায় শেষ। শুধু স্ত্রীর জন্য শাড়ি কেনা বাকি। জ্যোতি শাড়ি দোকানে অনেকক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন শাড়ি। কিন্তু কিছুতেই পছন্দ করতে পারছেন না। অবশেষে তিনি একটি লাল-সাদা শাড়ি নেন।

শুরভী সরকার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পুজোর শাড়ি বলে কথা। তার ওপর এখন গরমের সিজন, তাই একটু দেখেশুনেই নিলাম। আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলাম অন্য রং হলেও লাল-সাদা থাকতেই হবে, তাই পছন্দ করতে সময় একটু বেশিই খরচ করলাম।’

ধানমন্ডি হকার্স, চাঁদনী চক ও গাউছিয়ার শাড়ির দোকানে গিয়ে পূজার আবহ পাওয়া যায়। প্রায় সব দোকানেই লাল-সাদা ও বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের শাড়ি সাজানো। বিক্রিও হচ্ছে খুব। বেশিরভাগ শাড়ি দোকানিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলবে, এমন সময় কোথায়? কারো হাতে যে সময় নেই! কেউ ব্যস্ত টাকা গোনায়, কেউ ব্যস্ত দর কষাকষিতে, কেউ ক্রেতার কেনা পণ্য প্যাকিং নিয়ে, আবার কেউবা নতুন ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত। অনেক ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময়ের জন্য কথা বলতে রাজি হন মায়ের দোয়া শাড়ি বিতানের সেলসম্যান মোহাম্মদ বাবু।

তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আল্লার রহমতে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। ঈদুল আজহার বন্ধের পর থেকেই পূজার বেচাকেনা শুরু হয়েছে। এখন শেষমুহূর্তের কেনাকাটা চলছে, তাই একটু বেশিই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে আমাদের। শেষ বেচাকেনাতো।’

ইমিটেশনের গহনার দোকানগুলোতে হরদম চলছে কেনাকাটা। মেয়েরা পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কিনছেন চুড়ি, গলার হার, আংটিসহ নানা রকম অলঙ্কার। পোশাকের পাশাপাশি মেয়েদের জুয়েলারি, সিঁদুর, চুড়িসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ বেশ ভালোই বিক্রি হচ্ছে বলে জানালেন দোকানিরা।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/এনআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত