হোল্ডিং ট্যাক্স সমন্বয়ে বিপাকে অনেক বাড়িওয়ালা

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:১৭

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্সে সমন্বয় ও সমতা আনায় বিপাকে পড়েছে রাজধানীর অনেক বাড়িওয়ালা। নব্বই সালের বাড়িভাড়ার হিসাবে এত দিন দিয়ে আসা হোল্ডিং ট্যাক্স এখন বর্তমান ভাড়ায় সমন্বয় হচ্ছে বলে ক্ষেত্রবিশেষে ট্যাক্স বেড়েছে তিন থেকে দশ গুণ।    

উপায় খুঁজতে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক অফিসগুলোতে ধরনা দিচ্ছেন বাড়িওয়ালারা। তারা অভিযোগ করছেন, হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর হার অস্বাভাবিক।

তবে সিটি করপোরেশন বলছে, মূলত হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। আগের মতো বছরে ১২ শতাংশ হারে ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে। কেবল বর্তমান ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে ট্যাক্স। এ ছাড়া বিভিন্ন বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্সের মধ্যে আনা হচ্ছে সমতা।

করপোরেশন বলছে, নব্বই সালের পর গত ২৭ বছরে অনেকের হোল্ডিং ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট করা হয়নি। এবার সেগুলো বর্তমান ভাড়া অনুযায়ী অ্যাসেসমেন্ট করায় তাদের কাছে সেটি বেশি মনে হচ্ছে। আবার যারা নতুন বাড়ি করেছেন কিংবা আগে অ্যাসেসমেন্ট করেছেন তাদের ট্যঅক্স খুব বেশি বাড়েনি।

উদাহরণ হিসেবে সিটি করপোরেশন বলছে, নব্বই সালে যে বাসার ভাড়া তিন হাজার টাকা ছিল, সেটা এখন ২৫/৩০ হাজার টাকা হয়েছে। বর্তমান ভাড়ার সাথে সমন্বয় করে এখন নতুন হোল্ডিং ট্যাক্স ঠিক করা হচ্ছে। এত দিন অনেক বাড়িওয়ালা নব্বই সালের বাড়িভাড়ার হিসাবে হোল্ডিং টেক্স দিয়েছেন, এখন থেকে বর্তমান ভাড়ার হিসেবে দেবেন।

ইতিমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচটি অঞ্চলের মধ্যে অঞ্চল-১ ও অঞ্চল-২ অ্যাসেসমেন্ট করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশন অঞ্চল-১ ও অঞ্চল-৩ এলাকায় নতুন করে ট্যাক্স ধার্য করা হয়।

বাড়িওয়ালারা বলছেন, হঠাৎ করে একসঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোয় বিপাকে পড়েছেন তারা। এতে বাড়িভাড়ার ওপর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।  

দক্ষিণ সিটির আরামবাগের বাসিন্দা আব্দুর রহমানের সঙ্গে আলাপ করলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে এ ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। এতে ঘরভাড়া বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে, সৃষ্টি হবে বিশৃঙ্খলা। আগে আমার বাড়ির হোল্ডিং ট্যাক্স ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এখন সেই ট্যাক্স হয়ে গেছে ৬০ হাজার টাকা। একবারে এত টাকা বাড়িয়ে আমাদের ওপর জুলুম করা হয়েছে, বিষয়টি মেয়রের দেখা উচিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শান্তিনগরের এক বাসিন্দা ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আগে আমাদের হোল্ডিং ট্যাক্স ছিল ১০ হাজার টাকা। এবার ধার্য করা হয়েছে ৯৮ হাজার টাকা। চাল-ডাল থেকে সবকিছুর দামই বাড়তি হয়ে গেছে। তার ওপর এভাবে ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে এখন আমাদেরও ভাড়াটিয়াদের ভাড়া বাড়িয়ে দিতে হবে, এ ছাড়া উপায় নেই।’

উত্তর সিটি করপোরেশন তাদের দুটি অঞ্চলের হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণের কাজ আগেই শেষ করেছে। এখন তারা নতুন করে বাকি তিনটি অঞ্চলে ট্যাক্স নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। একইভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন তাদের দুটি অঞ্চলের ট্যাক্স নির্ধারণের কার্যক্রম শেষ করলেও নাগরিকদের কাছে চিঠি পাঠানো বন্ধ ছিল। কারণ হাইকোর্টে এ-সংক্রান্ত একটি স্থগিতাদেশ ছিল। সেটি উঠে যাওয়ার পর এখন তারা বাসিন্দাদের কাছে চিঠি পাঠানো শুরু করেছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার ঢাকাটাইমসকে কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি। তিনি এ ব্যাপারে প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আসলে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স যা আছে তা বর্তমান বাড়িভাড়ার সঙ্গে নতুন করে সমতা করা হচ্ছে। ১৯৯০ সালের পরে এখন পর‌্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট করা হয়নি। অনেকের হোল্ডিং ট্যাক্স দীর্ঘদিন সমতা করা হয়নি, এখন সেটা করা হচ্ছে।’

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্র বড়ুয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, দীর্ঘদিন ট্যাক্স না বাড়ানোর কারণে পাশাপাশি দুটি ভবনের ট্যাক্সের পার্থক্য তৈরি হয়। এ পার্থক্য দূর করতে ট্যাক্স সমতাকরণ করা হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ট্যাক্স সমতা না করা বাড়িওয়ালাদের ট্যাক্স বেশি বেড়েছে। আবার যাদের কিছুদিন আগে ট্যাক্স সমন্বয় বাড়ানো হয়েছিল তাদের তেমন বাড়েনি।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/জিএম/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত