জার্মান নির্বাচন

মুসলিম ও অভিবাসন বিরোধীদের অভাবনীয় সাফল্য

ইউরোপ ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৪৪ | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:১৯

সদ্য ঘটে যাওয়া জার্মানির ১৯তম জাতীয় নির্বাচনে অভিবাসনবিরোধী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র অভাবনীয় সাফল্যের পর পপুলিস্ট শিবিরে উল্লাস দেখা যাচ্ছে৷ চতুর্থবারের মতো অ্যাঙ্গেলা মের্কেল দেশটির চ্যান্সেলর নির্বাচিত হলেও, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

এদিকে এএফডি নির্বাচন পূর্ববর্তী জরিপে পাঁচ শতাংশেরও কম ভোট পাবে বলে ধারণা করা হলেও দলটি সাড়ে ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে অন্যান্যদের মাথা ব্যাথার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম চরম দক্ষিণপন্থি কোন দল জার্মানির সংসদে প্রবেশাধিকার পেল। শুধু ‘পপুলিস্ট' ও ইউরোপ-বিরোধী হিসেবে এএফডি বা ‘জার্মানির জন্য বিকল্প' দল যাত্রা শুরু করলেও নির্বাচনী প্রচারে দলের নেতারা বর্ণবাদী, ফ্যাসিবাদী ও বিদেশি-বিদ্বেষী মন্তব্য করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গণে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, জার্মানিতে কিভাবে এত অল্প সময়ে কট্টরপন্থী দলটি এতো সাফল্য পেল? বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন দেশের অর্থনীতির অবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক এবং বেকারত্বের হার খুবই কম৷ অর্থাৎ ইউরোপের বাকি দেশের তুলনায় জার্মানির পরিস্থিতি অত্যন্ত উজ্জ্বল৷ এমনকি ২০১৫ সালে শরণার্থীর ঢল নামার ফলে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছিল, গত দুই বছরে সরকার তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে৷ বিষয়টা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে।

জার্মান নির্বাচনে সাড়ে ১৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সংসদে তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার পর প্রশ্ন উঠছে, কারা এই দলের প্রতি এমন সমর্থন দেখিয়েছেন এবং তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণ কি?

অনেকের মতে, এএফডি-র উত্থান ঠেকাতে মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলি সঠিক কৌশল গ্রহণ করেনি৷ এএফডি-র সম্ভাব্য সমর্থকদের মন বুঝে তাদের দলে টানতে ব্যর্থ হয়েছে।

জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল অনেক মানুষও এই দলকে ভোট দিয়েছে৷

শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অবসর ভাতা, পরিবেশ ও ডিজিটাল রূপান্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এএফডি দলের স্পষ্ট অবস্থান নেই৷ কিন্তু শরণার্থী ও অভিবাসীদের কারণে জার্মানির ‘মূল সংস্কৃতি'-র অবক্ষয়, ইসলাম-বিরোধিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো বিভাজনমূলক বিষয়কে হাতিয়ার করে তারা এই সাফল্য দেখিয়েছে৷ অর্থাৎ এই সব বিষয়গুলো মানুষের কাছে গুরুত্ব পেয়েছে৷ বিশ্বায়ন থেকে শুরু করে বহু জাতি-ধর্ম-বর্ণের সমন্বয় নিয়ে তাদের মনে সংশয় রয়েছে৷ মূল স্রোতের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই সব প্রশ্নের জবাব পায়নি এই সব মানুষ৷ সেই শূন্যতা পূরণ করতে সফল হয়েছে এএফডি৷ দুই প্রধান দলের মহাজোট সরকার সেই পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে৷

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/জেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত