সিরাজগঞ্জে ওএমএস এর চালে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের

রানা আহমেদ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১০:০২

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার আওতায় ১৫ ডিলারের মাধ্যমে খোলাবাজারের (ওএমএস) ৩০টাকা দরের চাল বিক্রি কার্যক্রমে সঠিক তদারকি হচ্ছে না এবং এ চাল বেচার স্থানের প্রচারণা না থাকায় আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না গ্রাহকের মাঝে। কেউবা আবার চালের স্থলে আটার ব্যানার লাগিয়ে রেখেছেন।

চলতি সপ্তাহের প্রথম থেকে সিরাজগঞ্জের নয়টি উপজেলা ও ছয়টি পৌরসভায় ৩৩ জন ডিলার ৩০ টাকা কেজিতে এই চাল বিক্রি করছেন। প্রতিটি ডিলার এক মে. টন করে চাল সংশ্লিষ্ট গোডাউন থেকে কেজি প্রতি ২৮ টাকা ৫০ পয়সা দরে উত্তোলন করেন। পরে উপজেলা ও পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি করবেন প্রতিদিন। খোলা বাজারে চালের মান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তারা ওএমএস এর চাল মোটামুটি ভাল বলে দাবি করেছেন।

সপ্তাহের প্রতিদিন ছয়জন করে ডিলারের মাধ্যমে ডিলার প্রতি একটন করে চাল বিক্রির কথা থাকলেও নির্দিষ্ট ডিলার সঠিকভাবে খোলাবাজারে চাল বিক্রি করছেন না। তদারকি কর্মকর্তারা শুধু কাগজে কলমে স্বাক্ষর করেই দায়িত্ব শেষ করছেন।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অথবা চাল মজুদ থাকা পর্যন্ত ডিলার পয়েন্টে চাল বিক্রির কথা থাকলেও রবিবার সকাল ১১টার সময় থেকে বিকাল পর্যন্ত একজন ডিলারও ৩০ কেজি ওজনের তিন বস্তা চালও বিক্রি করতে পারেননি বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শহরের নিউ ঢাকা রোডের চামড়াপট্টি সিরাজগঞ্জের ঠিকানায় রবিন আহমেদ নামের একজন ডিলার চাল উত্তোলন করে নির্দিষ্ট স্থানে চাল বিক্রি না করে জেলা জজ কোর্টের সামনে ঘুপছির ভেতর ওয়ার্কসপের দোকানে চালের পরিবর্তে ১৭ টাকা কেজি দরের আটা বিক্রির লাল ব্যানার লাগিয়েছেন।

এ বিষয়টি ডিলার পয়েন্টে চাল বিক্রির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তা উপ-খাদ্য পরিদর্শক ফেরদৌস আলমীগরের নজরে আসেনি। রবিবার কোনো ডিলার পয়েন্টে চাল বিক্রির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদারকি কর্মকর্তাদের দেখা যায়নি। নিয়ম অনুযায়ী অবিক্রিত চাল পরের তারিখের চাহিদার সঙ্গে অবশিষ্ট চাল মজুদ থাকার কথা। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো ডিলার অবিক্রিত চাল পরের তারিখের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করছেন না। যেহেতু ওএমএস ডিলাররা খোলা বাজারে চাল বিক্রি করতে পারছেন না তা হলে ডিলারের কাছে থাকা অবিক্রিত চাল যাচ্ছে কোথায়।

সিরাজগঞ্জ শহরের খুচরা বাজারের চাল ব্যবসায়ী বাদশা আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন চালের মিল মালিক ও পাইকারি বাজারে দাম বাড়ায় জেলা শহরের প্রভাব পড়েছে। এছাড়া চাহিদা মত চাল দিতে পারছে না আড়ৎদাররা। যার ফলে পাইকাররা তাদের দেওয়া মূল্যে চাল কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

তবে চাল ব্যবসায়ী পাভেল খান বলেন, আমরা যেভাবে ক্রয় করি সেভাবে বিক্রি করছি। এর চেয়ে বেশি তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

সিরাজগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার জহিরুল ইসলাম খান জানান, এ চাল বিক্রিতে কোনো অনিয়ম দুর্নীতির আশ্রয় নিলে ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। খোলাবাজারে এ চাল বিক্রি অব্যাহত থাকায় কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা চালের দাম কমেছে।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত