প্রকল্পের দুই বছর পর শুধু সাইনবোর্ড!

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:২৮

রাজশাহীতে দেশের একমাত্র কারা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে। এই কারা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির স্থায়ী ভবন নির্মাণসহ সবকিছু আধুনিকায়ন করতে ২০১৫ সালে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের দুই বছর ইতোমধ্যে পার হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো ভবন হয়নি। এই সময়ের মধ্যে শুধু একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের দক্ষিণে পদ্মা নদীর বাধের ওপর এই সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সাইনবোর্ডে লেখা আছে- ‘কারা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির জন্য নির্ধারিত স্থান’। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাঁধের দক্ষিণ পাশের নিচু জমিটিতেই নির্মাণ করা হবে কারা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি। সে জন্য মাটি ভরাটও করতে হবে। কারণ, বর্ষা এলেই নদীর পানিতে তলিয়ে যায় জায়গাটি।

প্রকল্পের অনুমোদনের পর মাটি ভরাটসহ অন্যান্য সব কাজই যখন বাকি, তখন এর মেয়াদ পার হয়ে গেছে দুই বছর। এর মধ্যে শুধু গত বছরের নভেম্বরে কারা অধিপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতিখার উদ্দীন অ্যাকাডেমির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। কিন্তু কাজ শুরুর জন্য এখনও পর্যন্ত কোনো ঠিকাদারই নিয়োগ হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কর্মজীবনের শুরুতে রাজশাহী থেকেই প্রশিক্ষণ নেন সারাদেশের কারারক্ষীরা। এখানে প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠার পর ৩৭টি ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খুব একটা এগোয়নি। আবাসিক ও অবকাঠামোসহ নানা সমস্যায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে এই অ্যাকাডেমি। তাই অ্যাকাডেমির স্থায়ী ভবন নির্মাণসহ সবকিছুই আধুনিকায়ন করতে ২০১৫ সালের জুনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) সভায় ৭৩ কোটি ৪২ লাখ ৩৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

এরপর কাজ শুরু করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মৃদুলকান্তি ঘোষকে প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ করা হয়। কিন্তু কোনো কাজ শুরু করার আগেই ছয় মাস পর তিনি অবসরে চলে যান। এতেই থমকে যায় অ্যাকাডেমির নির্মাণকাজ। পরে মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আনোয়ার হোসেনকে এ প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ দেয়া হয়।

কাজের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, প্যাকেজ ওয়াইজ কাজটা হচ্ছে। গত জুন মাসে টেন্ডার হয়েছে। এখন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভা হবে। এ সভায় অনুমোদন হলে ঠিকাদার নিয়োগ করে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। সেটা আগামী মাসের দিকে হতে পারে। এরপরই দ্রুত কাজ শুরু হবে। আর নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হলে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কারারক্ষীদের অস্ত্র পরিচালনার জ্ঞান খুবই সীমিত। তথ্যপ্রযুক্তি ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনেও তারা অনেকটা পিছিয়ে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল আইন-কানুন ও বিধি-বিধান সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান দান এবং হালকা শারীরিক ও অস্ত্র সম্পর্কে কারারক্ষীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াটা জরুরি। কিন্তু প্রকল্প অনুমোদনের দুই বছর পরও প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির নির্মাণ কাজ শুরু না হওয়াটা হতাশাজনক।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ১৮ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে কারা প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির বিভিন্ন ভবন। অ্যাকাডেমিক ভবন ছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য থাকবে ব্যারাক ও কর্মকর্তাদের বাসভবন। প্রধান ফটক থেকেই চোখে পড়বে কারা অ্যাকাডেমির মনোগ্রামের নান্দনিক ভাস্কর্য। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত