অপহরণ মামলার আসামির কারামুক্তি, জেল সুপারের ক্ষমা প্রার্থনা

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১৪:৫৭

জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া জামিননামায় অপহরণ মামলার এক আসামির কারামুক্তির ঘটনায় ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

সোমবার ঢাকার ৪ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ওই ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জয়শ্রী সমাদ্দার প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে পরে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন।

এদিন ওই মামলার পালিয়ে যাওয়া আসামি মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর মামলার অপর ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছিল আদালত। অপর ১১ আসামি হলেন, রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম, মশিউর রহমান মন্টু, আলীম হোসেন চন্দন, সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ইকবাল হোসেন শুভ, জাহির উদ্দিন মোহাম্মাদ বসার, শেখ মো. অলিউল্লাহ, রেজা মৃধা ও কাওছার মৃধা।  

গত ১০ অক্টোবর মামলাটি অভিযোগ গঠনের জন্য দিন ধার্য ছিল। কারাগারে আটক আট আসামির সাতজনকে ওইদিন কারাকর্তৃপক্ষ আদালতে হাজির করে। কিন্তু মামলার প্রধান আসামি মিজান মাতুব্বরকে আদালতে হাজির না করলে ঢাকা কেদ্রীয় কারাগারের জেলারকে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে বলে ট্রাইব্যুনাল।

জেলার কর্তৃক লিখিত ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, গত ৩০ আগস্ট ওই আসামি জামিন সংক্রান্ত ছাড়পত্র পান। এরপর তারা ৩১ আগস্ট ওই আসামিকে মুক্তি দেন। তারা ব্যাখ্যার সঙ্গে ছাড়পত্রের কপিও ট্রাব্যুনালে দাখিল করেন।

এ সম্পর্কে ওই ট্রাইব্যুনালে স্পেশাল পিপি ফোরকান মিয়া বলেন, তাদের ট্রাইব্যুনাল থেকে কোনো ছাড়পত্র কারাগারে যায়নি। কারাকর্তৃপক্ষ কোনো জামিনের ছাড়পত্র পেলে তাদের যাচাই করা উচিত ছিল যা তারা করেননি। তাই এখন আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

২০১৫ সালের ২ মে মাসে ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন স্টাফ রোড এলাকায় ফ্লাইওভারের নিচ থেকে শিশু আবীরকে তাদের প্রাইভেটকার থেকে অপহরণকারীরা ছিনিয়ে নিয়ে মাইক্রোবাসে অপহরণ করে। এরপর অপহরণকারী ১০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরবর্তীতে একাধিক ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা এবং নগদ ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিলে অপহরণকারীরা শিশু আবীরকে ছেড়ে দেয়। পরে ওই ঘটনায় আবীরের মামা এনায়েত উল্লাহ বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করলে র‌্যাব পাঁচ আসামিকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের মধ্যে আসামি মিজান, রেজাউল ও নজরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের পরিদর্শক কবির হোসেন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/আরজে/জেডএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত