ডোমারে বিনা চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

নীলফামারী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৩৬

নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুইজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বিনা চিকিৎসায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছেন। এছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে ডোমার উপজেলার পূর্ব বোড়াগাড়ী হলদিয়াবন এলাকার মোজাফ্ফর আলীর নবম শ্রেণিতে পড়–য়া মেয়ে লিমু আক্তার নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার দিকে তাকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে লিমুকে রেখে পরিবারের লোকজন চিকিৎসককে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো চিকিৎসদের দেখা পাননি বলে অভিযোগ করেন।

হাসপাতালের ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী সে সময় শামীমা নামের একজন প্যারামেডিক দায়িত্ব ছিলেন। ঘণ্টাখানেক পর ওই চিকিৎসক এসে রোগীকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। পরে হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হয়ে তারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিনা চিকিৎসায় লিমুর মৃত্যুর হয়েছে এমনটা অভিযোগ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এর বিচার দাবি করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং মরদেহ উদ্ধার করে নীলফামারী হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসক শামীমাকে নির্যাতন ও হাসপাতালে ভাঙচুরের অভিযোগে এনে এলাকাবাসীর নামে ডোমার থানায় একটি অভিযোগ করেন। এছাড়া গত রবিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখেন। সেদিন হাসপাতালের জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও বহির্বিভাগে অনেক রোগী টিকিট কেটেও চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যান বলে জানা গেছে।

এছাড়া গত ৬ সেপ্টেম্বর জলঢাকার বাঁশদহ গ্রামের সলিম উদ্দিনের ছেলে মহুবর রহমান হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তিনিও বিনা চিকিৎসায় মারা যান বলে অভিযোগ উঠে।

নিহত মহুবর রহমানের ভাতিজা আনোয়ারুল হক অভিযোগ করেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে চাচা মহুবর রহমানকে ডোমার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু পরদিন সকাল ১১টা পর্যন্তও হাসপাতালে কোনো চিকিৎসককে খুঁজে পাওয়া যায়নি। অবশেষে চিকিৎসা না পেয়েই চাচা মারা যান।

জানতে চাইলে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা কারিমুল হাসান নাবিল তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে নীলফামারী সিভিল সার্জন ডা. রঞ্জিত কুমার বর্মন এসব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো প্রসিডিউর না মেনেই চলছে। বিষয়গুলি ধীরে ধীরে নির্ণয় করা হচ্ছে।’ পরবর্তীতে এসব ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোকসেদ আলী জানান, শনিবারের ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দিয়েছে। সেটি তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।  

ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত