কুর্দিস্তান কেন স্বাধীন রাষ্ট্র দাবি করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২১:০২ | প্রকাশিত : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫৭

ইরাকের স্বায়ত্বশাসিত কুর্দিস্তানের বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নে প্রস্তাবিত গণভোট নিয়ে গত দু'দিন ধরে যখন ব্যাপক পরস্পর বিরোধী খবর আসছে তখন ওই এলাকার প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারাজানি গণভোট সম্পন্ন করার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

কুর্দিস্তান রিজিওনাল গভর্নমেন্টের (কেআরজি) উদ্যোগে স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল ৬টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলার কথা রয়েছে। ভোট শেষ হওয়ার ৭২ ঘন্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল জানিয়ে দেয়া হবে।

কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্ট কেন ওই এলাকাকে আলাদা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন সেটাই এখন সবার প্রশ্ন। গত এক সপ্তাহে চারটি স্তরে অর্থাৎ কুর্দিস্তান এলাকা, সমগ্র ইরাকে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণভোটের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত দেখা দিয়েছে।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল এবাদি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নে আয়োজিত কুর্দিস্তানের গণভোটকে আগুন নিয়ে খেলা বলে মন্তব্য করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাদি সাইদ আফকাহি কুর্দিস্তানের গণভোটকে আগুন নিয়ে খেলার সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, বারাজানি এমন এক বৃহৎ খেলায় লিপ্ত হয়েছেন যা তার ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মানায় না। এ অবস্থায় বড় ধরণের সংকট সৃষ্টির আগেই কেন তিনি এ ধ্বংসাত্মক খেলা বন্ধ করছেন না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মাসুদ বারাজানি কুর্দিস্তান প্রদেশকে ইরাক থেকে আলাদা করার মাধ্যমে তিনটি লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছেন। প্রথমত, তিনি কুর্দিদেরকে এ অঞ্চলে বীর জাতি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজেকে এ অঞ্চলের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি এটাও প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, বেআইনিভাবে কুর্দিস্তানের প্রেসিডেন্টের পদ হস্তগত করা এবং গত চার বছরে তার পদত্যাগ না করার পেছনে যৌক্তিক কারণ ছিল। এখন এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে কুর্দিস্তানকে ইরাক থেকে আলাদা করা প্রশ্নে গণভোটে স্থানীয় জনগণ হয়তো ইতিবাচক ভোট দেবে কিন্তু ভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেছে। তারপরও মাসুদ বারাজানি কুর্দিস্তানকে আলাদা করার চেষ্টার মাধ্যমে নিজেকে কুর্দি জাতির ইতিহাসে অমর করে রাখতে চাইছেন।

কুর্দিস্তানকে ইরাক থেকে আলাদা করার পেছনে মাসুদ বারাজানির দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইরাক সরকারকে এটা বুঝিয়ে দেয়া যে এটা তাদের অধিকার ছিল। অর্থাৎ গণভোটের মাধ্যমে তিনি এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন যে, ইরাক থেকে আলাদা হওয়াটা কুর্দি জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবি।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা যদি ওই এলাকার মানুষের দাবিও হয়ে থাকে এবং মানুষ যদি ইতিবাচক ভোট দেয়া তাহলেও এটা মনে রাখতে হবে কুর্দিস্তান ইরাক ভূখণ্ডের অংশ। বিশ্বের সব দেশেই একাধিক জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। কুর্দিস্তানের মতো সব জাতির মানুষ যদি আলাদা হতে চায় তাহলে নিঃসন্দেহে সব দেশেই গোলযোগ সৃষ্টি হবে এবং মহা বিপর্যয় দেখা দেবে যার পরিণতিতে শুরু হবে ভয়াবহ রক্তাক্ত যুদ্ধ ও বিশৃঙ্খলা।

গণভোটের পেছনে মাসুদ বারাজানির তৃতীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, এ অঞ্চলের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদের ক্ষমতা মেপে দেখা। মনে করা হচ্ছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক অঙ্গনে গণভোটের যে তীব্র বিরোধিতার কথা শোনা যাচ্ছে মাসুদ বারাজানি তাকে আমলেই নিচ্ছেন না। বরং তিনি গণভোটের মাধ্যমে দেখতে চান এ অঞ্চলের নেতারা বারাজানির বিরুদ্ধে যে হুমকি দিয়েছেন তা আদৌ তারা বাস্তবায়ন করেন কিনা। এ অঞ্চলের দেশগুলো যদি কুর্দিস্তান আলাদা হয়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় তাহলে নিশ্চিতভাবে ব্যাপক রক্তপাতের সূচনা হবে এবং সবার আগে মাসুদ বারাজানিকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। এ ছাড়া, ইরান, তুরস্ক, ইরাক ও সিরিয়া যদি সামরিক পদক্ষেপ নাও নেয় তাহলেও কুর্দিস্তান কঠিন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে পতিত হবে।

সূত্র: পার্স  টুডে

(ঢাকাটাইমস/২৫সেপ্টেম্বর/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত