ধরায় নিষেধাজ্ঞার আগে বেড়েছে ইলিশের দাম

আউয়াল খাঁন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:৫৮

গত কয়েক দিন ধরে বাজারে অনেকটা ক্রেতাদের নাগালে ছিল ইলিশের দাম। চড়া দামের কারণে সারা বছর যারা ইলিশ খেতে পারেন না তারাও এই কয়েক দিন ইলিশ খেয়েছেন। কিন্তু মধ্যবিত্তের সেই স্বস্তি আর বাকি থাকছে না। আগামী মাসের শুরু থেকে ইলিশ মাছ ধরা যাবে না টানা ২২ দিন। এই ঘোষণা আসার পরপরই রাজধানীর মাছের বাজারে বাড়তে শুরু করেছে বাঙালির প্রিয় এই মাছটির দাম। গত দুই দিনের ব্যবধানে জোড়া ইলিশের দাম বেড়েছে দুইশ থেকে চারশ টাকার মতো।

হঠাৎ কেন মাছের দাম বাড়ছে, এর কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চাঁদপুরের মাছ আড়তের এক ব্যবসায়ী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ভাইজান, বর্ষা প্রায় শেষ। আমরা তো এহন থেইকাই ইলিশ মাছ পাইতাছিনা। তার উপরে এক তারিখ থেইকা ইলিশ ধরা বন্দ। তহন তো আরো পামু না। জেল জরিমানার ডরে আমরাই তো জেলেগো থেইকা মাছ নিমু না। তবে এই বারের বর্ষায় কিন্তু অনেক মাছ পাইছি। মাছ ধরা কিছুদিন বন্ধ থাকবো, হুইনা এর লইগাই হয়তো খুচরা ব্যবসায়ীরা একটু লাভ বাড়ানো শুরু করছে। আবার পূজাও তো চলতাসে মনে হয়।’

এবারের বর্ষায় জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ে। ফলে অন্যান্য বারের তুলনায় ইলিশের দাম অনেকটাই ক্রয়সীমার মধ্যে ছিল। চলতি মাসজুড়ে রামপুরা খুচরা বাজারে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি হালি ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা করে বিক্রি করতে দেখা যায়। একই মাছ অন্য সময় দেড় হাজার টাকায় কিনতে গেলেও বেগ পেতে হতো। তবে যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতারা অন্যান্য লোকাল বাজারের তুলনায় একই মাছের দাম কিছুটা কম রাখতো।

এবার ৫ অক্টোবর প্রথম পূর্ণিমা। চন্দ্রমাসের ভিত্তিতে প্রধান প্রজনন মৌসুম ধরে এ বছর আশ্বিন মাসের চাঁদের প্রথম পূর্ণিমার দিন এবং এর আগে চার ও পরের ১৭ দিনসহ মোট ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ থাকবে। ফলে বাড়তে শুরু করেছে ইলিশের দাম। এতদিন কম দামে ইলিশ পেলেও তা পাবে না নগরবাসী।

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, রামপুরা কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা যায় মাছের দামের তারতম্য। দুই দিন আগে যে ইলিশ জোড়ায় বিক্রি হতো ১৬০০ টাকা সেই ইলিশ দুই হাজার টাকার কমে ছাড়তে নারাজ ব্যবসায়ীরা।

যাত্রাবাড়ী বাজারের ইলিশ ব্যবসায়ী সুমন ঢাকাটাইমস বলেন, ‘এক তারিখ থেইকা ইলিশ ধরা বন্দ। তহন আবার যদি মাছ পান দাম হুইনা অবাক হইবেন। মাছের সংখ্যা কইমা যাইতাছে। তাই মাছের দাম বাড়তাসে এহন থেইকাই।’

রামপুরা বাজারের ইলিশ বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, ‘এবার কম দামে বেশি মাছ বিক্রি হইলেও লাভ তেমন নেই। হালিতে দেড়-দুইশ টাকা পাই। কিন্তু বছরের অন্য সময় প্রতিদিন সর্বোচ্চ পাঁচ হালি বেচলেও হালিতে চার-পাঁচশ টাকা লাভ হতো। এখন যে মাছের হালি ১৫০০ টাকা রাখি সেই মাছই সিজন ছাড়া ৩০০০-৩২০০ টাকা বেচি।’

রামপুরা বাজারের ক্রেতা সোলেমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মাসখানেক আগে যে মাছের জোড়া আড়াই হাজার দিয়া নিসে সেরকম জোড়াই এখন নিলাম ১২০০ টাকায়। কিন্তু এই শনিবারই একই সাইজের নিসিলাম ১০০০ টাকায়।’

কারওয়ান বাজারের ইলিশের ক্রেতা মাহফুজুল আলম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গতকাল শুনলাম ইলিশের দাম নাকি কয়েক দিনের মধ্যে বাড়বে। তাই আজই নিয়ে নিলাম। এই যে দেখেন প্রত্যেকটা দুই কেজি ওজনের। দাম ছাড়তে চায় না, আমিও শেষে দর কষাকষি করে ছয়টা নিলাম ১১ হাজার টাকা দিয়ে।’

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘১৯৫০ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন (প্রটেকশন অ্যান্ড কনজারভেশন ফিস অ্যাক্ট, ১৯৫০) অনুযায়ী এ বছর ইলিশের প্রধান প্রজনন মেৌসুম ১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন (১৬ আশ্বিন থেকে ৭ কার্তিক) সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ বা বিক্রয় নিষদ্ধি করা হল।’

ইলিশ ধরা নিষিদ্ধের সময় ১৫ দিন থেকে সাতদিন বাড়িয়ে গত বছরই ২২ দিন করা হয়। আর এই আদেশ যে সকল জেলে বা ব্যসসায়ী অমান্য করবে, তাদেরকে কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/এএকে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত