নরসিংদী-২: আ.লীগের সরবতায় বিএনপি কোণঠাসা

এম লুৎফর রহমান, নরসিংদী প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ০৮ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:১৩

একসময় ছিল বিএনপির একাধিপত্য। এখন নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আধিপত্যে অনেকটা কোণঠাসা বিএনপির নেতাকর্মীরা। স্বাভাবিকভাবেই আগামী নির্বাচন ঘিরে এখানে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের সরবতা বেশি।

তবে দু্ই দলেই চলছে নির্বাচনের প্রস্তুতি। দল দুটির সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী  লীগের বর্তমান এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটন আসনটি ছেড়ে দিতে পারেন বড় ভাই  ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খানকে (দিলীপ)। আর বিএনপি থেকে আপাতত ড. মঈন খানের বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।    

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান (দিলীপ)  নরসিংদী-২ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রভাবশালী ও চারবারের এমপি ড. আবদুল মঈন খানকে পরাজিত করে। তারপর থেকে মূলত কোণঠাসা হতে থাকে বিএনপি, যা বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষায় ‘নির্যাতন’।

এরপর একে একে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যান- স্থানীয় সরকারের শীর্ষ পদগুলো চলে যায় আওয়ামী লীগের হাতে। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃণমূলকে শক্তিশালী করে শক্ত অবস্থানে চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে (জাসদ ইনু) কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল কবিরকে মহাজোট থেকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিলে অনেকটা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে পলাশ উপজেলার তৃণমূল আওয়ামী লীগ। পরে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থান ধরে রাখার জন্য বর্তমান সভাপতির (আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলিপ) ছোট ভাই কামরুল ইসলাম পোটনকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করান। তৃণমূল আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় কামরুল ইসলাম পোটন মহাজোটের প্রার্থীকে পরাজিত করে মার্কায় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।

পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাদুল কবির মৃধা ঢাকাটাইমসকে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০০৮ সালে প্রথম আমরা সংসদ সদস্যের ক্ষমতা অর্জন করি। আমরা আশা করি ঐকবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনেও দল থেকে এমপি নির্বাচিত করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে উপহার দেব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পলাশ আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, নরসিংদী-২ আসনের বর্তমান এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ভাই সাবেক এমপি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপকে নিজের আসন ছেড়ে দিচ্ছেন- এটা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে আগ্রহী মহাজোটের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক জায়েদুল কবির।

এসব বিষয়ে জানতে পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এরফান আলীর সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

পলাশ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল হক বলেন, ‘পলাশ হচ্ছে বিএনপির ভোট ব্যাংক। সরকারের শত নির্যাতনের মধ্যেও ড. আবদুল মঈন খানের নেতৃত্বে আমাদের সাংগঠনিক অবস্থা অনেক ভালো। কিন্তু সরকারের হামলা-মামলা, নির্যাতনের কারণে আমরা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করতে পারি না। আশা করি আগামী নির্বাচনে ভোটাররা এর জবাব দেবে।’

আওয়ামী লীগও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন বলে দাবি করে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলম মোল্লার দাবি, দেশে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে পলাশে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ  সম্পাদক ও নরসিংদী কলেজ সংসদের তিনবারের সম্পাদক কালাম গাজী বলেন, পলাশ উপজেলায় আওয়ামী লীগের একক আধিপত্যের ফলে কোনো ধরনের মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করতে পারে না বিএনপি। আমরা মনে করি এখনও পলাশের মাটি বিএনপির ঘাঁটি। দেশে যদি আগামীতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয় তবে পলাশে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত।

এ আসনে মহাজোটের জায়েদুল কবির একজন শক্তিশালী প্রার্থী। বিএনপির  প্রার্থী আব্দুল মঈন খানের মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে এলদেম কবির ও অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত ভুঁইয়ার।

(ঢাকাটাইমস/৮অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত