রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘ হলে জঙ্গিবাদ ছড়াতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৭:৩৮ | প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৩৫

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু বাংলাদেশেই নয় এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কার কথা উঠে এসেছে রাজধানীতে এক গোলটেবিল আলোচনায়। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, `বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের কেউ কেউ নানা অপরাধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। সবচেয়ে শঙ্কার বিষয় চরমভাবে নিগৃহীত এ জনগোষ্ঠীকে স্বার্থান্বেষী মহল উগ্রবাদের পথে প্ররোচিত করতে পারে। যা শুধু বাংলাদেশে নয় পুরো অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।'

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘রোহিঙ্গা সমস্যা: বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক- সুজন। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বক্তা এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, `বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় দশ লাখ শরণার্থীর চাপ সহ্য করা দুরূহ হবে। এছাড়াও রোহিঙ্গা ইস্যু ভয়াবহ নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।এ বিরাট উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ করে রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে। ফলে তারা জীবন-জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, এমনকি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়তে পারে।'

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, `রোহিঙ্গা সংকটে দেশের সব দল তাদের নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। এটা জাতীয় সমস্যা, এ ক্ষেত্রে জাতীয় ঐক্যমত্য দরকার। আর এই জাতীয় ঐক্যমত্য থাকলে এই সংকট যতোই দীর্ঘ মেয়াদী হলেও সমাধানের দিকে নিয়ে যাওয়া যাবে।'

কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, `রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন যাবৎ বঞ্চিত, নিগৃহীত। এ সংকটের আশু সমাধান প্রয়োজন। ৭১’ এর পরে এ ধরনের জাতীয় দুর্যোগ আর আসেনি। এ সংকটের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব রয়েছে।'

সভাপতির বক্তব্যে সুজনের সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, `রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকার সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না, সরকারের হোমওয়ার্কও সেভাবে ছিল না। আর যদি সরকারের হোমওয়ার্ক থাকে সেটা সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের জানা উচিত। এ বিষয়ে সরকারের কোনো মুখপাত্র না থাকায় কোনটা সরকারি বক্তব্য সেটা বোঝা আমাদের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে স্পষ্ট করা উচিত।'

রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদী হলে দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে বাংলাদশে ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) এর চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, `রোহিঙ্গা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার চরম হুমকি। এই ইস্যুতে আমাদের জাতীয় ঐক্যমত্য দরকার। আর সেটা কিন্তু আছে, আমাদের সবাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রায় একই রকম কথা বলছে। তবে দৃশ্যমান কোনো প্লাটফর্ম হয় তো নাই।'

গোলটেবিল আলোচনায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, `রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন দেশের অবস্থান বাংলাদেশের পক্ষে এসেছে। তবে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে এবং তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সেভাবে কাজে আসেনি। এই সমস্যায় সমর্থন আদায়ের জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে ভারত, চীন, রাশিয়া সফর করতে পারেন।'

মূলপ্রবন্ধে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, `এই সমস্যা সৃষ্টির চরম মাশুল মিয়ানমারসহ এই অঞ্চলের সকল দেশকেই দিতে হবে। এই জন্য এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য বাংলাদেশকে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীন, এর ফলে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে।'

আলী ইমাম বলেন, `ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তরে বিভিন্ন ঘটনাবলীর কারণে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি অন্যদিকে সরে যেতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে প্রায় দশ লাখ শরনার্থীর চাপ সহ্য করা তখন দুরুহ হবে। এরা ভয়াবহ নিরাপত্তাজনিত সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।'

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম বলেন, `এই বিরাট উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আবদ্ধ করে রাখা অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে এক সময়। ফলে তারা জীবন জীবিকা নির্বাহের প্রচেষ্টায় স্থানীয়দের সঙ্গে প্রতিযোগিতা, এমনকি দ্বন্দ্বেও জড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে রোহিঙ্গা সংকট যত দ্রুত সম্ভব সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে, পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপড়তা অব্যাহত রাখতে হবে।'

গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, রামসুর পরিচালক অধ্যাপক সি আর আবরার, সমাজকর্মী রেহানা সিদ্দিকী প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/জিএম/জেডএ

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত