নির্বাচনের রোডম্যাপ ব্লক করতেই বিএনপির ২০ প্রস্তাব: ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:০১ | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ১২:৪৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তা ব্লক করতেই বিএনপি ইসিকে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘ইসিকে বিএনপির দেয়া ২০ দফা প্রস্তাব নির্বাচনী রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য নয় বরং তা নির্বাচনী রোড ব্লক (বাধাগ্রস্ত) করার প্রস্তাব।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রোডম্যাপ অনুযায়ী ২৪ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৫ অক্টোবর রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে বসে বিএনপি। সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার গঠন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ক্লোজ সার্কিট বা সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ দলটির পক্ষ থেকে ২০টি প্রস্তাব দেয়া হয় কমিশনকে।

বিএনপি যেসব প্রস্তাব দিয়েছে তার বেশিরভাগই অযৌক্তিক দাবি করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি যে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়ে সেগুলোর বেশিরভাগই ইসির এখতিয়ার বহির্ভূত ও আরপিওর পরিপন্থী। তাদের এসব প্রস্তাব মানতে গেলে নির্বাচনের ছয় মাস আগেই স্কুল, কলেজ ব্যাংক ও লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচনী লক্ষ্য স্থির না। তারা কখনও সহায়ক সরকার, কখনও নির্দলীয়, আবার কখনও নিরপেক্ষ সরকার চেয়েছে। বিএনপির নেতারা আসলে সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলেন।’

ইনু বলেন, ‘বিএনপির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দলীয় প্রার্থী, জোটের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন দিতে হবে। প্রার্থী মনোনয়নের আগে জোট করা অযৌক্তিক। তারা এ প্রস্তাব দিয়েছে মূলত জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের নির্বাচনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। এটা চক্রান্ত।’

সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিনশ জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন এক হাজার দুইশ জন। এতো লোক থাকার পরও সশস্ত্র বাহিনীকে কেন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে? এ দাবি আরপিও পরিপস্থী।’

মন্ত্রী বলেন, বহু কষ্টে সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হয়েছে। সেনাবাহিনীর ওপর বিএনপি দরদ দেখাচ্ছেন। কিন্তু তারাই সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। স্বাধীনতার পক্ষের কোনও দল আজ সেনাবাহিনীর সমালোচনা করেনি। সেনাবাহিনী নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছে এরকম কথা আমরা বলিনি। সশস্ত্র বাহিনী নির্বাচনের পক্ষ নিয়েছে আমরা বলিনি। বিএনপি ও খালেদা জিয়া ২০০৮ সালে সেনাবাহিনীকে বিতর্কের জায়গায় নিয়ে গেছে। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবটা তাদের বিতর্কের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। তারা সেনাবাহিনীর প্রতি দরদ দেখিয়ে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে চাইছে।

(ঢাকাটাইমস/১৭অক্টোবর/এমআর/এমএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত