খালেদাকে গ্রেপ্তারে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:২১ | প্রকাশিত : ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৩:৩৩
ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে সরকারের কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

প্রায় তিন মাস যুক্তরাজ্যে অবস্থান শেষে আগামীকাল বুধবার দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া। যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

একইদিন স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি করার মামলায়ও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী। এছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে আগুন দিয়ে আটজনকে হত্যার দায়ে করা মামলাতেও তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি হয়।

পরোয়ানা জারির পর বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ারা জারি করা হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনকে গ্রোপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। আদালতের এই পরোয়ানা বাস্তবায়ন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তারা কোন প্রক্রিয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করবে সেটা তাদের ব্যাপার। এখানো সরকারের কোনো নির্দেশনা বা করার কিছু নেই।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, ‘অপরাধ করার কারণে কোনো দলের নেতানেত্রী যদি গ্রেপ্তার হন তাহলে নির্বাচন কোনো বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই হবে। কারো গ্রেপ্তারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই।’

শক্তিশালী দলের নেতা হিসেবে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে কি না জানতে চাইলে ইনু বলেন, ‘অপরাধ করার কারণে কোনও দলের নেতানেত্রী যদি গ্রেপ্তার হন, তাহলে নির্বাচন কোনও বাধাগ্রস্ত হবে না। নির্বাচন সুষ্টুভাবেই হবে। ছোট দলের প্রধান গ্রেপ্তার হলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে না, আর বড় দলের কেউ গ্রেপ্তার হলে বাধাগ্রস্ত হবে? কারও গ্রেপ্তারের সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আছি। জঙ্গিবাদ ও আগুন সন্ত্রাসে অনেক দলের নেতাকর্মী সরাসরি জড়িত। এই ধরণের অপরাধী যেন নির্বাচনে না আসে আমরা তাই চাইবো।’

ইসিকে দেয়া বিএনপির ২০ দফা প্রস্তাবকে অযৌক্তিক দাবি করে ইনু বলেন, বিএনপি যে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়ে সেগুলোর বেশিরভাগই ইসির এখতিয়ার বহির্ভূত বর্হিভূত ও আরপিওর পরিপন্থী।

সশস্ত্র বাহিনীকে নির্বাচনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়ার দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তিনশ জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন এক হাজার দুইশ জন। এতো লোক থাকার পরও স্বশস্ত্র বাহিনীকে কেন ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে? এ দাবি আরপিও পরিপস্থী।’ বিএনপি ঘোলাজলে অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে এই প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান ইনু।

(ঢাকাটাইমস/১৭অক্টোবর/এমআর/এমএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত