এবার আ.লীগকে প্রশংসায় ভাসালেন সিইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ১২:২৪ | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ১২:১৩

বিএনপির পর এবার সরকারি দল আওয়ামী লীগকে প্রশংসায় ভাসালেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা। দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য ও অর্জনগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন তিনি। বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির সিংহভাগ এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে। এমনকি নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলে উল্লেখ করেছেন সিইসি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপের সূচনা বক্তব্যে সিইসি এসব প্রশংসার কথা বলেন। বুধবার বেলা ১১টায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এই সংলাপ শুরু হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে দলটির কেন্দ্রীয় ২১ নেতা অংশ নিয়েছেন।

সিইসি তার সূচনা বক্তব্যে দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ইয়ার মোহাম্মদ খান, শামসুল হক, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা তুলে ধরেন।

সিইসি বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নিবেদিত নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ’৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-আন্দোলন, যা ছাত্র আন্দোলন হিসেবে আমরা জানি; তখনকার সফল নেতারা এখানে রয়েছেন। ৭০ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বহু অর্জন, বহুমুখী, গণমুখী সব আন্দোলন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ফসল।’

কেএম নুরুল হুদা বলেন, ‘৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কন করে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হুকুমে এবং এখানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদের অনেকের অনুপ্রেরণায়, নির্দেশে, পরিচালনায় আমরা তরুণ সন্তান বুকে গ্রেনেড ও কাঁধে অস্ত্র নিয়ে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। ঐতিহাসিক সব সফল আন্দোলন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে।’

সিইসি বলেন, ‘১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশ গঠনের দায়িত্ব কাঁধে নেন। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন; কূটনৈতিক সাফল্যে বহু দেশের আনকূল্য, সমর্থন অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করেন, ১৯৭৩ সালে জাতিকে প্রথম সংসদ নির্বাচন উপহার দেন এবং স্বাধীন দেশে প্রথম সংসদীয় সরকার গঠন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭৪ সালের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে।’ তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির জনকের সপরিবারের হত্যার মধ্য দিয়ে জাতির কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়।’ বঙ্গবন্ধুর শাহাদত বরণের পর দলটির কঠিন পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন সিইসি।

জাতীয় চার নেতা হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বহু বাধা বিপত্তি, প্রতিকূলতা, ভয়ঙ্কর সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দলকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ছয় বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের প্রথম মহিলা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন এবং রায় কার্যলকর করেন।’

কেএম নুরুল হুদা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে। উন্নয়নের প্রতিটি খাতে শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণ আজ বিশ্ব ধরিত্রীর মুকুট প্রধানমন্ত্রীর মাথায়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ে পরিণত হয়েছে।’

সিইসি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান অর্জন বিশ্ব মাতৃকা্র আসনে সমাসীন প্রধানমন্ত্রী। ইসির আইন-বিধি বিধানের প্রায় সবগুলোই আওয়ামী লীগের আমলে তৈরি করা। বর্তমান ইসি আজ বিশ্বের অনেক দেশের তুলনায় বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে, যা আওয়ামী লীগ সরকারই প্রদান করেছে।’

সাবেক এই আমলা বলেন, ‘এখানে উপস্থিত অনেকের কাছ থেকে আগের অনেক পর্যায়ে শিক্ষা, দীক্ষা, সাহস, অনুপ্রেরণা পেয়েছি। অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছি। আজ ভিন্ন পরিস্থিতিতে ইসির দায়িত্ব পালনে আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ, সুপারিশ কীভাবে নেয়া যায়; সাহস পুঁজি করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করতে সে সহযোগিতা পেতেই আজকের এ সংলাপ আয়োজন ও প্রয়োজন।’

(ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/টিএ/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত