আস্থাহীনতা থেকে আস্থার প্রতিষ্ঠান

সাইদুর রহমান
 | প্রকাশিত : ১৮ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৪৯

আস্থাহীনতা দিয়ে শুরু করলাম। ফিরবো আস্থায়। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ক্যাডার হওয়া প্রতিটি পরীক্ষার্থীর কাছে স্বপ্ন। কেননা দেশসেবায় নিয়োজিত রাখা, ভালো বেতন, ক্ষমতা, সামাজিক সম্মান আর চাকরির নিশ্চয়তা-এসব অংকের হিসাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় চাকরি বিসিএস ক্যাডার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দিনরাত নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্রম করতে দেখেছি উচ্চ শিক্ষিত মেধাবীদের। কিন্তু পরিশ্রম করার পরও কি চাকরির নিশ্চয়তা পেয়েছে তারা? বিগত দিনে তিনটি, চারটি বিসিএসের ভাইভা দিয়ে চাকরি পাননি-এমন অসংখ্য পরীক্ষার্থী আছে। তাদের কাছে সহসায় অধরা ছিল চাকরি নামক সোনার হরিণটি। এ নিয়ে সর্বত্র ছিল হতাশা আর হতাশা। শত যোগ্যতা থাকার পরও চাকরি না পাওয়া ওই সব মেধাবীর কান্না আর পিএসসি নামক প্রতিষ্ঠানটির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখেছি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আস্থার পরিবর্তে আস্থাহীনতা, রাজনৈতিক পরিচয় আর টাকার বিনিময় চাকরি পাওয়ার অসংখ্য অভিযোগও পেয়েছি। গণমাধ্যম কর্মী হিসাবে পত্রিকায় লিড নিউজ করেছে 'আস্থা হারিয়েছে পিএসসি'। 

'পরিস্থিতির উত্তরণ'

সময়ে পরিক্রমায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। এখন পরিশ্রমের মূল্য পাচ্ছেন মেধাবীরা। ৩৪, ৩৫ এবং সর্বশেষ ৩৬তম বিসিএসের দিকে একটু নজর দিলে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। ৩৪ বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন প্রায় ২২শ। ৩৫তম বিসিএস থেকে ক্যাডারের বাইরে নন-ক্যাডারে দুই হাজার ১৬৩ জন। সর্বশেষ ৩৬ তম বিসিএস থেকে ২৩২৩ জনকে ক্যাডারের জন্য সুপারিশ । সামনে ৩৩শ মতো উত্তীর্ণ নন-ক্যাডারের জন্য সুপারিশের অপেক্ষায়। বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়া অধিকাংশ মেধাবী চাকরি পেয়েছেন বা পাবেন। বিসিএস চাকরি প্রার্থী মেধাবীদের বড় একটি অংশ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। যে ছেলেটি দিনরাত লাইব্রেরিতে পড়ে থেকে পরিশ্রম করেছেন তারা একবাক্য বলবে-পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। বেড়েছে লাইব্রেরিতে গাদাগাদি করে পড়াশোনা প্রবণতা, বিসিএসে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর আবেদন, বন্ধ হয়েছে রাজনৈতিক নিয়োগ, বিশেষ এলাকার চাকরি হওয়া বা না হওয়ার কথাও বাতাসে ভাসে না। পরীক্ষার্থীদের পিএসসির প্রতি বেড়েছে আস্থা আর কদর। অনেকটা বন্ধ হয়েছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। আগের মতো হরহামেশায় প্রশ্ন ফাঁসের গুজব কানে আসে না। পরীক্ষা পদ্ধতিতে এসেছে পরিবর্তন। ডিজিটাল ছোঁয়ায় স্বচ্ছতা শতভাগ। মেধাবীদের কান্নার পরিবর্তে এখন দেখি আনন্দ আর উল্লাসের দৃশ্য। সত্যি এসব দেখে মনটা ভরে যায়। 

'ব্যক্তির চাওয়া থেকে নয়'

গণমাধ্যমের কাজ যেকোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা, ভালো কাজের প্রসংশা ও মূল্যায়ন করা। বিগত ১০টি বছর পিএসসি নিয়ে এই কাজগুলো বেশি করেছি। প্রসংশার চেয়ে বদনামের খবরের শিরোনাম বেশি স্থান পেয়েছে আমার লেখনিতে। তাহলে হঠাৎ পিএসসিকে প্রসংশা কেন? বলে রাখা ভালো, সাংবাদিক হওয়ার বাসনা আর বিসিএস সংশ্লিষ্ট পড়াশোনা না থাকার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পরও আমি ব্যক্তি জীবনে কোন বিসিএস পরীক্ষা দেয়নি। বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষা দেয়ার বয়সও নেই। কোন বিসিএস বা পিএসসির কোনো পরীক্ষার জন্য বর্তমান পিএসসি কর্তৃপক্ষের কাছে তদবিরও নেই। পিএসসির কাছ থেকে আমার চাওয়া-পাওয়ারও কিছু নেই। তাই বলে ভালো কাজের কথা বলবো না, তা কেমনি হয়। কাছ থেকে ভালো কাজগুলো দেখে প্রসংশা করার লোভ সামলাতে পারলাম না বলেই এই প্রসংশা। সরি প্রশংসা নয়, সত্য কথাগুলো তুলে ধরা। 

'পরিবর্তনের নেপথ্যে যিনি'

এই অবস্থার পরিবর্তনে নেপথ্যে যিনি তিনি আর কেউ নন-শ্রদ্ধেয় ড. মোহাম্মদ সাদিক স্যার। একজন ব্যক্তি যে একটি প্রতিষ্ঠান তার উজ্বল দৃষ্টান্ত পিএসসির বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক। পরীক্ষার্থী বান্ধব মোহাম্মদ সাদিক স্যার নন-ক্যাডার পরীক্ষা আলাদাভাবে না নিয়ে বিসিএস থেকে উর্ত্তীণদের চাকরির ব্যবস্থা করছেন। গত আটটি বছর স্যারকে কাছ থেকে দেখেছি নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে কাজ করতে। অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে। সদস্য থেকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অসাধ্যকে সাধন করেছেন তিনি। গরিব মেধাবীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসাবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আশা করি তরুণরা আর হতাশায় ভুগবে না, ঘুচে যাবে বিগত দিনের সব বদনাম। ধন্যবাদ পিএসসিকে, ধন্যবাদ স্যারকে।

লেখক: সিনিয়র রিপোর্টার, দৈনিক ইত্তেফাক

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত