যমুনা পাড়েই ইলিশের হাট!

রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল
| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:১৮ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:০৯

অক্টোবরের শুরু থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ। কে মানে কার কথা। বরং বাজারে ইলিশ কম থাকায় এই সময়টাকে ইলিশ ধরার জন্য বেছে নেয় অসাধু একটি চক্র। রাতের অন্ধকার আর দিনের আলো কোন সময়েই মা ইলিশ ধরা থেকে থেমে থাকেনি ওই চক্রটি। নিষিদ্ধের পুরো সময়টাই যমুনায় পাল্লায় চলল মা ইলিশ নিধন। অবশ্য মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন নদীতে মা ইলিশ ধরা বন্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে।

হাজার টাকা দরের ইলিশ যমুনা পাড়েই বিক্রি করছে মাত্র দুইশ টাকা কেজি দরে। জেলার নাগরপুরের চর সলিমাবাদ এলাকার ভূতের মোর, সেতু সংলগ্ন গোরিলাবাড়ি, বেলটিয়ার মুকতলায় হাট বসিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে মা ইলিশ। এছাড়া ভ্রাম্যমাণভাবে ইলিশ বিক্রেতারা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মাসুম বিল্লাহ জানান, ভূঞাপুর যমুনা নদীতে মা ইলিশের মৎস্য জোন না থাকায় জেলেরা কোন সরকারি অর্থ সহায়তা পাচ্ছে না। ফলে অনেকেই গোপনে ইলিশ ধরার চেষ্টা করছে। তবে সারাদেশের ন্যায় ভূঞাপুরেও ইলিশ ধরা বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

কালিহাতী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল হালিম জানান, মা ইলিশ ধরার বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন জেলেদের পাওয়া যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনা নদী থেকে অবাধে অবৈধভাবে মা ইলিশ ধরা হচ্ছে। কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরছে। প্রতিদিন গড়ে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর ও কালিহাতী উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকার যমুনা থেকে প্রতিদিন প্রায় চার শতাধিক জেলে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টন মা ইলিশ ধরছে।

জেলেরা অভিযোগ করেন, নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের টাকা ও মাছ দিতে হয়।

মাছ বিক্রি করতে আসা জেলেরা জানান, মাছ ধরা নিষিদ্ধ জেনেও পেটের দায়ে মা ইলিশ ধরে বিক্রি করছি। সরকারিভাবে কোন অর্থ সহায়তা পাইনি। এছাড়া মাছ ধরতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের টাকা ও মাছ দিতে হয়। অনেক সময় প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে নদী থেকেই মাছ জোর করে ছিনিয়ে নেয়া হয়।

গোহালিয়াবাড়ির সচেতন মহল জানান, আফজালপুর পুরো গ্রামটাই নদীর মধ্যে। এখানকার সব মানুষই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। সরকারিভাবে কোন অর্থ সহায়তা তারা পায়নি। ইলিশ মাছ ধরা বন্ধের জন্য যদি সরকার আগে থেকে জেলেদের আর্থিক সহায়তা করত, তাহলে যমুনা নদী থেকে মা ইলিশ ধরা বন্ধ হত।

বঙ্গবন্ধু সেতু নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাবর আলী জানান, স্বল্পসংখ্যক লোকবল দিয়ে রাতে যমুনা নদীতে অভিযান পরিচালনা করা খুবই কষ্টের। এছাড়া ফাঁড়িতে বরাদ্দ বোডটি (নৌকা) অনেকদিন যাবত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ সংকটের কারণে মাছ ধরা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তারপরও নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, ইলিশ রক্ষায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যমুনা নদীকে ইলিশ জোন ঘোষণা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর তা করা গেলে জেলেরা আগামী বছর থেকে সবরকমের সুবিধা পাবে।

(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/নিজস্ব প্রতিবেদক/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত