ইসি সংলাপ

সেনা মোতায়েনসহ ১২ প্রস্তাব এলডিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ২২:২০ | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৭, ২২:০৭

নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে সংসদীয় আসনের বিদ্যমান সীমানা বহাল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো করে সেনা মোতায়েনসহ ১২ দফা প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

বৃহস্পতিবার বিকালে দলটির প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সংলাপে এসব সুপারিশ দিয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে সংলাপ হয়।

সংলাপ শেষে অলি আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি ১০ বছর পর পর সীমানা পুনর্নির্ধারণের জন্য ব্যবস্থা করতে হয়। এটা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। পৃথিবীর অনেক সভ্য দেশেও এ ব্যবস্থা চালু নেই। এ জন্য ২০১৩ সালে যে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে কারো আপত্তি রয়েছে বলে মনে করি না। এ জন্য সীমানা পুনর্নির্ধারণে কাজ বন্ধ করার কথা বলেছি আমরা।’

এলডিপির প্রেসিডেন্ট জানান, ভোটের ১৫ দিন আগে থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনা মোতায়েন অপরিহার্য। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সেনার তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনুরূপ ক্ষমতা দেওয়া জরুরি।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ও ফ্রিঙ্গার প্রিন্ট নেওয়ার সুপারিশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ইভিএম শর্তসাপেক্ষে চালু করতে পারে, তবে এ বিষয়ে সব দলের মতামত নিতে হবে।

অলি আহমেদ বলেন, ‘শুধু সংলাপ করে হবে না, রাতেই যেন ভোট হয়ে না যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।’ তিনি উদাহরণ হিসেবে তার এলাকায় একটি ভোটকেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে ভোররাতে ভোট শেষ হয়ে যায়, সকালে ভোটাররা গিয়ে ঘুরে আসে। আমরা ইসিকে বলেছি সু্ষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আপনাদের দয়িত্ব সম্পন্ন করুন, না হলে জনগণ আপনাদের আজীবন ঘৃণা করবে।’

বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেন অলি আহমদ। তবে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব ইসিকে তারা দেননি বলে তিনি জানান সাংবাদিকদের। তিনি বলেন, ‘এটা ইসির এখতিয়ারে নেই। এ ব্যাপারে সরকারকে প্রস্তাব দেব। সবাইকে নিয়ে আলোচনা করে এটা নির্বাচনী পদ্ধতি ঠিক করতে হবে। বর্তমান পদ্ধতিতে তারা (সরকার) যদি বলে আমরা কেয়ারটেকার সরকার হব সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলি আহমদ বলেন, সংসদ ভেঙে নির্বাচন দিতে হবে। কারণ একজন সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবে আর একজন সাধারণ হিসেবে নির্বাচন করবে এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয় না।

ইসির রোডম্যাপ বিভ্রান্তিকর, সময়ক্ষেপণ ও অহেতুক জনগণের অর্থ ব্যয়ের একটি প্রস্তাব বলে মন্তব্য করেন অলি আহমদ। বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসির ভূমিকা আরো স্পষ্ট হওয়া উচিত। কথা বলে নির্বাচন হয় না। আমরা বলেছি রোডম্যাপ করে লাভ নেই। যে রোডম্যাপ আছে সেটা কীভাবে কার‌্যকর করা যায় বাধ্যবাধকতার মধ্য নিয়ে আসা যায়, সেটা দেখতে হবে।’

১৬তম সংশোধনীর প্রসঙ্গে দলটির পক্ষে লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, ১০ম ও ১১তম সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে রায়ে বলা হয়েছে। ইসিকে শক্তিশালী করারও নির্দেশনা দিয়েছেন আদালত। কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই। ইসি এখনো দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে দেশের প্রয়োজনে নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান করে দলটি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ করছে ইসি। এই সাংবিধানিক সংস্থাটির ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩১ জুলাই নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে ইসি। গত ২৪ আগস্ট থেকে সংলাপ শুরু হয় ইসির নিবন্ধিত ৪০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে, যা আজ শেষ হলো।

এরপর ২২ অক্টোবর পর্যবেক্ষক, ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রী এবং ২৪ অক্টোবর নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপসূচি নির্ধারণ রয়েছে ইসির।

(ঢাকাটাইমস/১৯আক্টোবর/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত