বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের

বাগেরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ অক্টোবর ২০১৭, ২১:২৩

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট পৌরসভাসহ নিচু এলাকার বাড়িঘর তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে প্রায় সহস্রাধিক মাছের ঘের। বৃষ্টির পানি বসতঘরে উঠে যাওয়ায় অনেক বাড়িতে চুলা জ্বালাতে না পারায় রান্না খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র তালুকদার আব্দুল বাকি শহরের আলীয় মাদ্রাসা, রেলরোড বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ির সদস্যদের মাঝে চিড়া, মুড়ি ও গুড় বিতরণ করেন।

এদিকে, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাদে কাড়াপাড়া, ফুলতলা, দেয়ালবাড়ি, গোবরদিয়া ও মির্জাপুর গ্রামের পানি ওঠানামার একমাত্র স্লুইচ গেটটি জোয়ারের পানির চাপে ভেঙে যাওয়ায় অন্তত পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে চাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট জেলার কি পরিমাণ মাছের ঘের ভেসে গেছে তার হিসাব এখনো করতে পারেনি জেলা মৎস্য বিভাগ।

বাগেরহাট শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গত ৪/৫ বছর ধরে আমাদের এই এলাকার প্রবাহমান রেকর্ডীয় খালগুলোর সংস্কার না হওয়া এবং তা দখল হয়ে যাওয়ায় একটু বৃষ্টি হলেই আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়ি। তাছাড়া পানি সরানোর ড্রেনগুলোও সরু। যার কারণে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে।

গত দুই দিনের টানা বৃষ্টির পানি শহর থেকে বেরোতে না পারায় এই এলাকার অধিকাংশ বাসিন্দার বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। ফলে আমরা ঘরে পানিবন্দি হয়ে রয়েছি। দুপুরে আমাদের এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর শুকনো চিড়া, মুড়ি ও গুড় বিতরণ করেছেন।

জলাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বাগেরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর তালুকদার আব্দুল বাকি বলেন, ড্রেনগুলো সরু হওয়ায় পানি সরতে পারে না। যার কারণে আমার এলাকার অনেক বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। শুক্রবার থেকে আমার এলাকার বাসিন্দাদের দুঃখ দুর্দশার খোঁজখবর রাখছি। শনিবার আমি পানিবন্দি দরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি। আমার এলাকার ড্রেনগুলো পরিকল্পিকতভাবে করার জন্য বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলে করা হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের বাদে কাড়াপাড়া গ্রামের মাছ চাষি স্বপন শেখ বলেন, গোবরদিয়া বিলে দুই বিঘার একটি মাছের ঘের রয়েছে। এই ঘেরের সাদা মাছ দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের হয়েছিল। ধারদেনা করে এই জমিতে প্রায় আশি হাজার টাকা ব্যয় করেছি। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও অমাবশ্যার জোয়ারের পানি আমার সব মাছ ভেসে গেছে। এই বিলের অন্তত পাঁচ শতাধিক মাছের ঘের পানিতে ভেসে গেছে।

বাগেরহাট জেলা চিংড়ি চাষি সমিতির সভাপতি ফকির মহিতুল ইসলাম সুমন বলেন, টানা বর্ষণ ও অমাবশ্যার জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় বাগেরহাটের অন্তত চারটি উপজেলার সহস্রাধিক মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে চাষিরা দারুণভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে অনেক এলাকার মাছের ঘের ডুবে গেছে শুনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের তালিকা তৈরি করতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই কি পরিমাণ মাছের ঘের ডুবে গেছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত তা এখনই বলা যাবে না।

(ঢাকাটাইমস/২১অক্টোবর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত