রোহিঙ্গা শিশুরা গাইছে ‘আমরা করব জয়’

মোসলেহ উদ্দিন, উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
| আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ২১:৪০ | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ২১:৩৭

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র বর্মিদের নির্মম নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ শিশু। এসব শিশুকে সুন্দর পরিবেশে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা। ইতিমধ্যে ইউনিসেফ বর্মি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা দিতে বিভিন্ন ক্যাম্পে ২২৮টি পাঠদান কেন্দ্র খুলেছে।

ইউনিসেফ বলছে, আগামী ছয় মাসে শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্রা হাজার খানেক হবে, যেখানে দুই লাখ শিশু বর্মি ও ইংরেজি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

জানা গেছে, শিশুদের বর্মি ভাষা শিক্ষা দেয়ার জন্য শিক্ষিত রোহিঙ্গা যুবকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আইওএমর তথ্যমতে, ক্যাম্পে বর্তমানে ৯ হাজার গর্ভবতী মহিলা রয়েছেন। ইতিমধ্যে সন্তান প্রস্ব করেছেন ৬৩৫ জন। এমএসএফসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থা এসব গর্ভবতী ও প্রসূতিদের চিকিৎসা দিচ্ছে।  

গত ৮ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ শুরু করার পর ক্যাম্পের পরিবেশ উন্নত হয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এনজিওরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে শুরু করে।

বালুখালী, কুতুপালং, লম্বাশিয়া এলাকায় অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়, ইউনিসেফ পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে শিশুরা জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘আমরা করব জয়’ গান পরিবেশন করছে। পাহাড় ঘুরে দেখা যায় সারি সারি ঝুপড়িতে চলছে ইংরেজি ও বার্মিজ ভাষায় পাঠদান।

ইউনিসেফের প্রোগ্রাম অফিসার হুমায়ুন কবির বলেন, এসব শিশুকে এখন থেকে গড়ে তোলা না হলে তারা বিভিন্ন অপরাধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়তে পারে। স্কুলগুলোতে ইংরেজি, গণিত ও বর্মি ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বর্মি ভাষায় শিক্ষা দেওয়ার জন্য একজন করে শিক্ষিত রোহিঙ্গা ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, শিশুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় শিফট করে ক্লাস নেয়া হচ্ছে। ৪ থেকে ৬ বছর ও ৭ থেকে ১৪ বছর  বয়সী শিশুদের আলাদা দল করা হয়েছে। প্রতি শিফটে ৩৫ জন শিশু নিয়ে তিন শিফটে ১০৫ জন করে লেখাপড়ার সযোগ পাচ্ছে।

ইউনিসেফ কর্মকর্তা ফারিয়া সেলিম বলেন, বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই কঠিন মুহূর্তে পাঠদান কেন্দ্রগুলো হলো শিশুদের স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার একটি জায়গা। তিনি বলেন, ২২৮টি কেন্দ্রে ১৯ হাজার শিশু শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া ঝুপড়িতে থাকা এসব শিশু ভালো পরিবেশে পাঠদান করতে পারছে বলে স্বাস্থ্যের দিক দিয়েও অনেকাংশে সহায়তা পাচ্ছে তারা।

ইউনিসেফ বলছে, আগামী ছয় মাসে শিক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা হাজারে উন্নীত করা হবে। এতে প্রায় দুই লাখ শিশু অনানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।

বেশ কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে পাঠ্যরত শিশুদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখানে ভালো আছে। রোহিঙ্গাদের আঞ্চলিক ভাষার পরিবর্তে বাংলায়ও ভালোভাবে কথা বলতে পারছে তারা।

এখন সেনাবাহিনী, ইউনিসেফ, বিভিন্ন এনজিও রোহিঙ্গাদের সব দেখভাল করলেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার প্রথম দিকে তাদের জন্য খাদ্য, কাপড়, বাঁশ, গাছ, পলিথিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে এগিয়ে আসে স্থানীয় গ্রামবাসী।

উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী বলেন, চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী সরবরাহ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রোহিঙ্গাদের আসা মাত্র আশ্রয়ের জন্য জায়গা দিয়েছেন অংশীদারির ভিত্তিতে সামাজিক বনায়নের সদস্যরা। এ ছাড়া স্থানীয় গ্রামের মহিলারা তাদের খাবার পানি সরবরাহ করে আতিথেয়তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসে, এখনো আসছে।

গত ২৪ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার অভিযোগ এনে সে দেশের সেনাবাহিনী ও উগ্র বর্মিরা রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। তারা পুড়িয়ে দিচ্ছে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর। ধর্ষণ করছে নারীদের। বীভৎস নির্যাতন থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গারা দলে দলে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ে নিচ্ছে। গত ২৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয় লাখের মতো রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত