মুগাবের নিয়োগ বাতিল করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১২:৪২

জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শুভেচ্ছা দূত নির্বাচিত করায় সমালোচনার ঝড় উঠার প্রেক্ষাপটে তার নিয়োগ বাতিল করছে সংস্থাটি।

সমালোচনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেছেন, জিম্বাবুয়ের প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবেকে তাদের শুভেচ্ছা দূত নিয়োগের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে। আমরা সকলের মতামত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন প্রধান ড. টেড্রোস গেব্রেয়াসুস। জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে সংক্রামক নয় এমন রোগ ঠেকাতে ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতে' জিম্বাবুয়ের সরকারের নেয়া বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন তিনি।

ইথিওপিয়ার নাগরিক টেড্রোস আফ্রিকা থেকে নির্বাচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম শীর্ষ নির্বাহী। বুধবার তিনি সংক্রামক নয় এমন রোগ ঠেকাতে অবদান রাখায় মুগাবেকে সংস্থার শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিয়োগ দেন।

এ নিয়োগের পর ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র হতাশা ব্যক্ত করেছে। বিস্ময় প্রকাশ করে ব্রিটেন বলেছে, রবার্ট মুগাবেকে দূত নিয়োগ করার ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনেক ভালো কাজ আড়াল হয়ে যাবার আশংকা আছে।

সমালোচকেরা বলছেন, মুগাবের নিজের দেশে মানুষের অধিকারের যে অবস্থা তা বিবেচনা করলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন গুরুত্বপর্ণ পদে মুগাবেকে মনোনয়ন দেয়াটা হতাশাজনক সিদ্ধান্ত এবং এতে সংস্থাটির ঐতিহ্য ম্লান হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে কেউ কেউ।

জিম্বাবুয়ের বিরোধী দল ও ক্যাম্পেইন গ্রুপগুলো বলছে এমন সিদ্ধান্ত এক ধরনের রসিকতা। তবে, মুগাবের এই মনোনয়নটিকে রবার্ট মুগাবের জন্য একটি ইতিবাচক বিষয় বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন মুগাবের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র মাজি-উইসা।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ আর নিষেধাজ্ঞায় জর্জরিত দেশের প্রায় ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তিনি একজন অবিসংবাদিত নাম। বিভিন্ন রকমের কঠিন পরিস্থিতিতেও তার সাধ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে তিনি সবচেয়ে ভালো করার চেষ্টা করেছে।

জিম্বাবুয়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ও অর্থনৈতিক দুর্দশার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মুগাবেকে দায়ী করে আসছে। দেশটির স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাপনাও সন্তোষজনক নয় বলে সমালোচকরা বলে আসছেন।

মুগাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণত শুভেচ্ছা দূত হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত মানুষদেরই বেছে নেয়। যেমন- চলচ্চিত্র তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, টেনিস তারকা রজার ফেদেরার জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হয়ে কাজ করেছেন।

কিন্তু ৯৩ বছর বয়সী রবার্ট মুগাবের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় নিয়েগের ঘোষণার পর অনেকেই মনে করছেন, একনায়কতান্ত্রিক শাসক আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য পশ্চিমা জগতে যার দুর্নাম রয়েছে, তাকে শুভেচ্ছা দূত করাটা যথার্থ সিদ্ধান্ত হয়নি।

(ঢাকাটাইমস/২৩অক্টোবর/জেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত