হাঁটু পানিতে তলিয়ে আছে মসজিদ

ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাভার (ঢাকা)
 | প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৪:৫৫

মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের পবিত্র স্থান মসজিদ। আর সেই মসজিদ কিনা গত তিন দিন ধরে হাঁটু পানির নিচে তলিয়ে থাকলেও তা দৃষ্টিগোচর হয়নি জনপ্রতিনিধি ও মসজিদ কমিটির। মসজিদটির ইমাম ও খাদেম সাহেব অনেকবার মসজিদ কমিটির নিকট ধর্ণা ধরেও কোন সমাধান না পেয়ে অসহায়ত্বে দিন পার করছেন। প্রতিষ্ঠার দেড় যুগ হতে চললেও নিরসন হয়নি মসজিদটির অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাজনিত সমস্যা। আর মসজিদ সংলগ্ন পঞ্চাশ শিক্ষার্থী সংকুলানের মাদ্রাসাটিও তলিয়ে রয়েছে পানিতে।

রাজধানীর নিকটবর্তী সাভারের আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জামগড়া এলাকার গাজীর দরগাহপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের চরম দুরাবস্থার চিত্র এটি। গত দুই দিনের ভারী বর্ষণের কারণে পানি জলাধার থেকে উঠে পড়েছে মসজিদে। মুসল্লিদের নামাজের স্থান ও ইমাম সাহেবের বসার জায়গায় পানি টইটুম্বুর করছে। কোন মতে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে পবিত্র কোরআন শরিফ, কায়দা বই ও হাদিসের পুস্তকগুলো।

মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. হোসাইন আহম্মেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, এই এলাকার কয়েকশ মুসল্লির নামাজের স্থানটি গত তিন দিন যাবৎ পানিতে তলিয়ে থাকলেও তা দেখার কেউ নেই। যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। সামান্য বৃষ্টিতেই প্রতি বছর মসজিদের বারান্দায় পানি ঢুকে পড়ে। কিন্তু এবার পানি মসজিদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে। এতে করে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগি একেবারেই বন্ধ রয়েছে। মুসল্লিরা নামাজের সময় আসলেও মসজিদের দুরাবস্থা দেখে ফিরে যাচ্ছেন।

এছাড়া মসজিদের পেছনে অবস্থিত জান্নাতুল কোরআন নামে পঞ্চাশজন শিক্ষার্থীর একটি মাদ্রাসাও পানিতে নিমজ্জিত। পানি ঢুকে পড়ার কারণে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা এখন বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মসজিদটি অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় হওয়ায় ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই ভেতরে পানি প্রবেশ করে। তাছাড়া মসজিদ সংলগ্ন একটি পুকুর রয়েছে। সেখানে এলাকার বাসিন্দাদের ব্যবহৃত পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের লাইন থাকায় অল্প বৃষ্টিতে তা উথলে যায়। এ সময় মসজিদের বারান্দায় পানি প্রবেশ করলে তিনি ও খাদেম মিলে সেই পানি সেঁচে ফেলেন। এতে মুসল্লিরাও তাদের সহায়তা করেন।

তবে অনেকবার মসজিদ কমিটিকে ব্যাপারটি অবহিত করা হয়েছে, এমনকি তারাও সরেজমিনে মসজিদের এসব সমস্যা প্রত্যক্ষ করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি যাতে ইবাদতের পবিত্র স্থানটি সুরক্ষিত থাকে। পানি প্রবেশ করে মুসল্লিদের ইবাদত বন্ধ করতে না পারে।

মসজিদটির খাদেম মনির হোসেন জানান, মসজিদে বর্তমানে হাঁটু পানি রয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও তিনি পানি নিষ্কাশন করতে পারেননি। অনেক দিন যাবৎ এই সমস্যা থাকলেও জনপ্রতিনিধি ও মসজিদ কমিটির কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামায়নি।

এলাকার চা দোকানদার তমজেদ আলী ও মামুন নামে অপর এক মুসুল্লি আক্ষেপ করে বলেন, মসজিদ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের নামাজ পড়া অনেক কষ্ট হয়ে পড়েছে। জনপ্রতিনিধিরা ব্যাপারটি জানলেও এ পর্যন্ত এই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য কোন ড্রেন নির্মাণ করে দেয়নি। যার ফলে অল্প বৃষ্টিতে মসজিদে পানি ঢুকে পড়েছে। এই সমস্যা যাতে দ্রুত সম্ভব নিরসন করে তাদের নামাজ পড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করা হয় সে জন্য সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

তবে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে জলাবদ্ধতার ব্যাপারে ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আনোয়ার হোসেন মৃধা ঢাকাটাইমসকে বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসাটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। এখন কি করা উচিৎ এ ব্যাপারে তিনি উল্টো সাংবাদিকের নিকট পরামর্শ চান।

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ রাসেল হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ নির্ণয়ের জন্য তিনি সোমবার মসজিদটি পরিদর্শনে যাবেন। কিভাবে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে মসজিদটিতে নামাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা যায় এনিয়ে স্থানীয়দের সাথে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

(ঢাকাটাইমস/২৩অক্টোবর/আইআই/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত