২১ আগস্টের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন

প্রকাশ | ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ১৬:২৩

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার হত্যা ও বিস্ফোরক দুই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেছে।

সোমবার ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটির স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউর সৈয়দ রেজাউর রহমান এ যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আংশিক যুক্তি উপস্থাপনের পর বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন মঙ্গল ও বুধবার পর্যন্ত যুক্তি উপস্থাপন মুলতবি করেন।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর মামলা দুইটিতে আসামি পক্ষের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ধার্য করেন।

এরও আগে গত ১২ জুন মামলাটিতে জামিনে ও কারাগারে থাকা ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শুরু হয়, যা গত ১১ জুলাই শেষ হয়। আত্মপক্ষ শুনানিতে ৩১ আসামির সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। এরপর শুরু হয় সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ। কারাগারে থাকা ২৩ আসামির মধ্যে ২০ জন আসামি সাফাই সাক্ষ্য দেন।

প্রসঙ্গত, মামলাটিতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ শুনানির সুযোগ পাননি। এর আগে গত ৩০ মে মামলাটিতে সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

মামলাটিতে ২০০৮ সালের ১১ জুন ২২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি। ওই বছর ২৯ অক্টোবর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২০০৯ সালের ৯ জুন পর্যন্ত ৬১ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

২০০৯ সালের ৩ আগস্ট রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে অধিকতর তদন্তের নির্দশ দেয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০১১ সালের ৩ জুলাই অধিকতর তদন্ত শেষে তারেক রহমাসসহ আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি।

২০১২ সালের ১৮ মার্চ বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সম্পূরক চার্জশিটের ৩০ আসামির অভিযোগ গঠন করে ফের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

মামলাটিতে আসামি খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, সাবেক আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলাটির তিন তদন্ত কর্মকর্তা সাবেক বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে রয়েছেন।

অন্যদিকে সাবেক স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। মামলার আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাই কমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনের নির্মম মৃত্যু হয়। গ্রেনেডের স্পিন্টারের আঘাতে আহত হন কয়েক শতাধিক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

(ঢাকাটাইমস/২৩অক্টোবর/আরজেড/জেবি)