পুরান ঢাকা বদলে ফেলার প্রকল্পে ‘বিসমিল্লায় গলদ’

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ০৮:০৫

জমি ও বাড়ি মালিকদের অনীহায় শুরুতেই আটকে গেল পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকাকে আধুনিক নগরে পরিণত করার প্রকল্প। এই জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্প এগিয়ে নিতে নতুন কৌশলের সন্ধানে এখন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। আর এই পরিস্থিতিতে তাদেরকে ভরসা দেখাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। করপোরেশনের জমি বরাদ্দ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে বেদখলে থাকা এই জমি বরাদ্দও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

মেয়র জমি বরাদ্দ দিলে বাবু বাজারে সাত একর জমিতে পরীক্ষামূলক এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে রাজউক। তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে, পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি ছোট ছোট বাড়ির বদলে বসবাসের জন্য বহুতল বাড়ি করে বাকি ফাঁকা জায়গা বিনোদন, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত খোলা জায়গা রেখে তৈরি করা।

পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি এলাকাকে আধুনিক নগরে পরিণত করতে গত জুলাইয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক ‘আরবান রিডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’নামে এই কর্মসূচি হাতে নেয়। গত ৩০ জুলাই রাজধানীর বংশাল এলাকায় জরিপ কাজও শুরু করে রাজউক।

কর্মকর্তারা সেখানে পুরনো, ঘিঞ্জি ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন কতগুলো আছে, সেটি তালিকা তৈরি শুরু করেন। পরিকল্পনা ছিল ১০ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে এই কাজ শেষ করে নগরভবনে একটি অবহিতকরণ সভাও করার।

সেই সভা হয়েছিল বটে, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ওই সভাতেই প্রকল্পের বিষয়ে স্থানীয় বাড়ি-জমি মালিকরা বিরোধিতা ও তাদের অনাস্থা জানান। পরে পাইলট প্রকল্পটি বাতিল ঘোষণা করেন মেয়র সাঈদ খোকন।

মেয়র খোকন জায়গার দখল বুঝিয়ে দিলে এই প্রকল্প এগিয়ে নেয়া হবে। তবে এই জমির পুরোটা করপোরেশনের দখলে নেই। একটি বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে আছে। মেয়র খোকনকে প্রথমে এই জমি উদ্ধার করতে হবে এবং এর পর প্রকল্প শুরু করতে হবে। ফলে প্রকল্পটি যে দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেছে, সেটা স্বীকার করেছেন খোদ রাজউক কর্মকর্তারাই।  

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আশরাফুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘পুরান ঢাকাকে বদলে দেয়ার জন্য যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল, তা জমির মালিকদের সাথে কিছু জটিলতার কারণে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’

তাহলে প্রকল্পটি কি অনিশ্চয়তায় পড়ে গেল?- এই প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। মেয়র মহোদয় বাবু বাজারে সাত একর জায়গা দিচ্ছেন। সেখানেই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।’

রাজউকের পরিকল্পনা ছিল, এই প্রকল্পের অধীনে ছোট ছোট বাড়িঘরগুলো ভেঙে ফেলে একটি বা একাধিক বহুতল ভবন করা হবে। এই বহুতল ভবনে আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। আর ভেঙে ফেলা বাড়িঘরের জায়গায় নির্মাণ করা হবে চওড়া সড়ক, পানি নিষ্কাষণের নালা, পার্ক, রোপন করা হবে গাছ পালা।

কিন্তু এলাকার বাড়ির মালিকরা রাজি না হলে তো আর কিছু করার নেই-এমন প্রশ্নে আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকরা হয়ত আমাদের আস্থায় নিতে পারছেন না। তবে সিটি করপোরেশনের জায়গায় প্রকল্পটি এগিয়ে নেয়া হলে তাদের আস্থা ফিরতেও পারে।’ তিনি জানান, সর্বনিম্ন পাঁচ বিঘা জমি নিয়ে ব্লকভিত্তিক এলাকা গড়ে তোলা হবে। ব্লকভিত্তিক করা হবে পুরান ঢাকাকে। ওই ব্লকে স্কুল, হাসপাতাল, ৫০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা এবং এলাকার ভেতরে ৩০ ফুট প্রশস্ত রাস্তার ব্যবস্থা করা, বাচ্চাদের খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দেয়া হবে। তখন ওই এলাকায় দুঃসহ যানজট ও জলজট হবে না।

জাপানে একটি আরবান রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট বাস্তবায়নের ফলে ওই এলাকার চিত্র পাল্টে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পুরান ঢাকাকে আধুনিক মেগা প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসতে এই ‘আরবান রিডেভেলপমেন্ট প্রকল্প’নিয়েছিল রাজউক। তাদের চিন্তা ছিল বংলাশ এলাকায় তাদের পরীক্ষা সফল হলে অন্য এলাকাতে স্থানীয়রাই স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসবেন।

(ঢাকাটাইমস/২৪অক্টোবর/জিএম/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত