আপন জুয়েলার্সের তিন মালিক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১৭:৫৯ | প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর ২০১৭, ১৫:৩৮
ফাইল ছবি

শুল্ক ফাঁকির পাঁচ মামলায় আপন জুয়েলার্সের মালিক তিন ভাই দিলদার আহমেদ সেলিম, গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার মামলাগুলোতে এই আসামিরা আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) চারটি পৃথক আদালত তাদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিদের মধ্যে দিলদার আহমেদ সেলিম বহুল আলোচিত বনানীর দ্য রেইন ট্রি হোটেলে দুই তরুণীকে ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সাফাত আহমদের বাবা।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা এবং উত্তরা পূর্ব থানার ওই মামলাগুলোতে সিএমএম আদালতের জিআর শাখায় আসামিরা আত্মসমপণপূর্বক জামিনের আবেদন জমা দেন। বেলা ৩টা থেকে জামিনের আবেদনগুলোর ওপর শুনানি শুরু হয়।

প্রথমে আসামি দিলদার আহমেদ সেলিমের উত্তরা পূর্ব, ধানমন্ডি ও রমনা থানার তিন মামলায় জামিনের শুনানি হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো. মাহমুদুল হাসান, নুরুন্নাহার ইয়াসমিন ও দেবব্রত বিশ্বাস শুনানি শেষে তার জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম মো. আহসান হাবীব আসামি গুলজার আহমেদ ও আজাদ আহমেদের গুলশান থানার দুই মামলায় জামিন আবেদনের ওপর শুনানির পর নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট কাজী নজীব উল্লাহ হিরু ও ফেরদৌস সুলতানা কাকলী জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করেন।

শুনানিতে আইনজীবী হিরু দাবি করেন, কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই শুল্ক গোয়েন্দা অফিসাররা আপন জুয়েলাসের পাঁচটি শাখায় অভিযান চালিয়ে স্বর্ণালংকর জব্দের দোকানগুলো সিলগালা করে দেয়। স্বর্ণজব্দ ও সিলগালার বিরুদ্ধে আসামিরা যখন উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষ রিট শুনানিতে সময় নিয়ে গত ১২ আগস্ট এই মামলাসমূহে দায়ের করেন। মামলায় পাচারের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। টাকা কীভাবে কোথায় পাচার করা হয়েছে তা বলা নেই। আসামিরা অসুস্থ। তারা উচ্চ আদালতে গিয়ে জামিন পেয়েছিলেন। তাই তারা জামিন পেতে পারেন।

রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট থানাসমূহের জিআরও পুলিশের এসআই ফরিদ আহমেদ, মোজাম্মেল হোসেন, মকবুল হোসেন এবং শওকত হোসেন জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা বলেন, আসামিরা মামলাসমূহে গত ২২ আগস্ট হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করলে হাইকোর্ট তাদের চার সপ্তাহের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। চার সপ্তাহ পর তাদের নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করার কথা ছিল। কিন্তু তারা প্রায় নয় সপ্তাহ পর এসেছেন। তাই তারা জামিমের শর্ত ভঙ্গ করায় তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হোক। শুনানির পর আদালতসমূহ আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আসামিদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর কারাগারে তাদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা প্রদানের জন্য আবেদন করা হলে বিচারকরা কারাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কারাকর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ১২ আগস্ট চোরাচালানের মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও হীরা জব্দের ঘটনায় ওইসব মূল্যবান ধাতু কর নথিতে অপ্রদর্শিত ও গোপন রাখার দায়ে আপন জুয়েলার্সের মালিক ওই তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করে শুল্ক গোয়েন্দা।

মামলাগুলোয় আসামিরা গত ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন পান। এরপর তারা নিম্ন আদালতে জামিননামাও দাখিল করেন। হাইকোর্টের জামিনের মেয়াদ শেষে হলেও নিম্ন আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ২২ ও ২৩ অক্টোবর তিনটি মামলায় তাদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

শুল্ক গোয়েন্দার পাঁচ সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা যথাক্রমে এম আর জামান বাঁধন, বিজয় কুমার রায়, মো. শাহরিয়ার মাহমুদ, মোহাম্মদ জাকির হোসেন এবং মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ধারা ২ (ঠ) এবং কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ এর ধারা ১৫৬(৫) অনুযায়ী শুল্ক গোয়েন্দা ওই মামলা দায়ের করা হয়।

আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার মজুদের অভিযোগে কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ অনুযায়ী কাস্টম হাউস ঢাকায় আরও পাঁচটি কাস্টমস মামলা বিচারাধীন।

প্রসঙ্গত, বনানীর আলোচিত দ্য রেইন ট্রি হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই তরুণীতে জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার হোসেন সেলিম ছেলে সাফাত ও তার সহযোগীরা। ওই ঘটনার পরই রাজধানীতে আপন জুয়েলাসের পাঁচটি শোরুম থেকে প্রায় ১৫ মণ স্বর্ণ ও হীরার অলঙ্কার জব্দ করা হয়। পরে এসব অলঙ্কার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেয়া হয়।

(ঢাকাটাইমস/২৪অক্টোবর/আরজেড/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত