নারায়ণগঞ্জ-৫

সেলিম ওসমানকে ঠেকাতে মাঠে আ.লীগের সাত নেতা

মাজহারুল ইসলাম রোকন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৯:২১ | প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:২৬

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে আবার নির্বাচনের কোনো ঘোষণা এখনো দেননি জাতীয় পার্টির (জাপা) এমপি এ কে এম সেলিম ওসমান। তবে জাপার নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, এ আসন থেকে আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হবেন সেলিম ওসমান।

তবে সেলিম ওসমানকে ঠেকাতে মাঠে নেমেছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আওয়ামী লীগের সাত মনোনয়ন-প্রত্যাশী। নিজেদের মধ্যে বিরোধ-বিভক্তি থাকলেও সেলিম ওসমান প্রশ্নে তারা একাট্টা। তারা এবার নৌকার ছায়ায় জাপার প্রার্থী দেখতে চান না। তারা চান নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে এই দাবি তুলে আসছেন।

দলের বিভিন্ন স্তরে কথা বলে জানা যায়, ওসমান পরিবারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যেসব নেতার সখ্য রয়েছে, তারাও এবার নৌকার পক্ষে দাবি তুলেছেন। এমনকি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির বদলে নিজেদের সরকারের অংশিদার জাপার বিরোধিতায় তাদের পুরো মনঃসংযোগ নিবদ্ধ। দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ভূমিকা রাখা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকবে না সেটা আর হতে দিতে চান না তারা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও জোর দাবি তুলেছেন জেলার পাঁচটি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেয়ার। কোনো অবস্থাতেই নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থীরা আগামী নির্বাচনে জাপাকে ছাড় দিতে নারাজ।

সদর ও বন্দর থানা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে পড়েছে সিটি করপোরেশনের প্রায় পুরো এলাকা (বন্দর থানার ৫টি ও সদর থানার দুটি ইউনিয়ন বাদে)। ফলে একসময় মেয়র আইভীর বিরোধিতা করেছিলেন এমন কিছু নেতা, যারা মনোনয়ন-প্রত্যাশী, তারা চাচ্ছেন এখন তার সুদৃষ্টিতে আসতে। গত সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র  নির্বাচিত হন আইভী।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসিম ওসমান। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০১৪ সালের ২৬ জুন উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন বিকেএমইএর সভাপতি সেলিম ওসমান। দুই নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ আসনটি ছাড় দেয় জাপাকে।

২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ। পরে দল আসনটি জাপাকে ছেড়ে দিলে শুক্কুর মাহমুদ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন এবং নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এবারও দলের মনোনয়ন পেতে আবার মাঠে নেমেছেন শুক্কুর মাহমুদ।  নিয়মিত জনসংযোগ করছেন। 

দলের আরো অন্তত ছয়জন মনোনয়ন-প্রত্যাশী মাঠে সক্রিয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আরজু রহমান ভুইয়া ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আবদুল কাদির।

আওয়ামী লীগের এসব নেতা বিএনপিকে নিয়ে আপাতত ভাবছেন না কিছু। তারা বলছেন, এ আসনে নিজ দলের এমপি না থাকায় সাংগঠনিকভাবে সমস্যায় পড়ছে আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে বন্দরের মুছাপুর ইউনিয়ন এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের কর্মিসভা নিয়ে নিজ দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা বলেন, ‘মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কার্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। আমরা কর্মিসভা করে সেটি আবার চালু করেছি। ওই ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হতো, তাই আমরা তাদের সাহস দিয়েছি।’
সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম আরাফাত বলেন, ‘এ আসনে নিজেদের এমপি না থাকায় সাংগঠনিক সমস্যায় পড়তেই হচ্ছে আওয়ামী লীগকে।’

(ঢাকাটাইমস/ ৫নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত