যে পরিবারের সবাই বৈমানিক!

হানিয়া সুলতানা, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:৩৮ | প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর ২০১৭, ১৩:২০

পেশাদার বৈমানিক হবার ঐতিহ্য এ পরিবারের তিন প্রজন্মের। সব মিলিয়ে ১০০ বছরের পারিবারিক ঐতিহ্যও বলা যায় একে। বলা হচ্ছে ভারতের ভাসিন পরিবারের কথা। এ পরিবারের দাদা, বাবা, মা, ছেলে এবং মেয়ে সবাই পেশায় বৈমানিক। বৈমানিক পেশায় এ পরিবারের অগ্রদূত হলেন ক্যাপ্টেন জেয় দেব ভাসিন, যিনি ১৯৫৪ সালে ভারতের সাতজন কমান্ডারের মধ্যে একজন ছিলেন। পেশাদার বৈমানিক হিসেবে নিজের পরিবারের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন তিনিই। তবে সেখানেই থেমে থাকেনি এ ঔজ্জল্য। তার ছেলেও বড় হয়ে নাম লেখান বৈমানিকের খাতায়। আর শুধু তার ছেলে ক্যাপ্টেন রোহিত ভাসিনই নন, তার পুত্রবধু নিবেদিতা জেইনও একজন বৈমানিক হিসেবে পরিবারের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

মাত্র বিশ বছর বয়সে নিবেদিতা ১৯৮৪ সালের ২৪ জুন ভারতের বিমান সংস্থার কাছ থেকে তার প্রথম নিয়োগপত্রটি পান। ২৬ বছর বয়সে নিবেদিতাই পৃথিবীর সর্ব কনিষ্ঠ বৈমানিক যিনি কমান্ডার হিসেবে বোয়িং ৭৩৭-এ যোগ দেন। পরে তিনি এয়ারবাস-৩০০ এর কমান্ডার হয়েছিলেন।

নিবেদিতা শুধুমাত্র এতটুকুতেই থেমে ছিলেন না। তিনি বিশ্বের প্রথম শতভাগ নারী ক্রু নিয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করেন। বৈমানিক হিসেবে তার সফলতার কথা বলে শেষ করা যাবে না।

রোহিত ও নিবেদিতার সন্তানরাও থেমে থাকেনি। তারাও তাদের পরিবারের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে গেছে সফলতার দ্বারপ্রান্তে। তাদের সন্তানরা হলেন– রোহান ভাসিন ও নীহারিকা ভাসিন। সন্তানদের এমন সাফল্যে গর্বিত ভাসিন পরিবারের সবাই। রোহিত ভাসিন ও নিবেদিতা জেইন দম্পতির মেয়ে নীহারিকা সম্প্রতি এয়ারবাস-৩২০ এর কমান্ডারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আর ঠাকুরদা, বাবা-মা এবং বড়বোনের দেখা দেখি ছেলে রোহানও বৈমানিকই হয়েছেন।

প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে কথা বলছেন ক্যাপ্টেন জেয় দেব ভাসিন, যিনি এই পরিবারের প্রথম বৈমানিক।

অথচ, রোহান ও নীহারিকার বৈমানিক বাবা-মা বেশিরভাগ সময়ই ঘরের বাইরে বাইরেই থাকতেন। সন্তানদের তেমন একটা সময় দিতে পারতেন। কিন্তু এর কোনো মন্দ প্রভাব কখনই তাদের ওপর পড়তে দেননি এ বৈমানিক দম্পতি। বরং তারাও তাদের বাবা-মার পরিশ্রম দেখে নিজেদের জীবনের লক্ষ্যকে সাজিয়েছেন সেভাবেই। বাবা-মার মতো নিজেরাও পাইলট হবার স্বপ্ন দেখতেন ছোটোবেলা থেকে। অন্য কোনো পেশার কথা তার ভাবতেও পারেননি। শুধুমাত্র নিজেদের বাবা-মা কে অনুসরণ করেই তারা বৈমানিক হবার জন্য একান্ত চেষ্টা করে গেছেন। তিনি বোয়িং-৭৭৭ এর কমান্ডার হয়েছেন সম্প্রতি। এতে পরিবারের সবাই খুব খুশি। পিতা-পুত্র দুজনই বোয়িং-৭৮৭ এ প্রায় ১০ বার একসাথে পাইলট এবং কো-পাইলট হিসেবে উড়ানোর সুযোগ পেয়েছেন। 

কঠোর পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের এক অনবদ্য মিশেলে তৈরি যেন এ পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ। আর এরকমটা হলে যে সফলতা আসে সেটাই প্রমাণ করে দিয়েছেন তারা পুরো পরিবার মিলে। যেন সমগ্র বিশ্বকেই আরো একবার মনে করিয়ে দিলেন- পরিশ্রমের সাথে নিজের লক্ষের দিকে কেউ দৃঢ়ভাবে এগুতে থাকলে কেউ তাকে আটাকাতে পারে না!

(ঢাকাটাইমস/৭ নভেম্বর/এইচএস/কেএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত