ভূতের সরকারের অধীনে নির্বাচন চান খালেদা: ইনু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৪০ | প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:০৭

কখনও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাধায়ক সরকার এবং কখনও সহায়ক সরকারের দাবি তোলা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আসলে কী চান সে প্রশ্ন রেখেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) কখনও সহায়ক সরকার, কখনও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা বলছেন। উনি কার্যত দেশে একটি ভূতের সরকারের অধীনে নির্বাচন করার কথা বলছেন।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন। রবিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির সমাবেশে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে এই ব্রিফিং ডাকেন তথ্যমন্ত্রী।

ইনু বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকে খালেদা জিয়া অস্বাভাবিক পথে হেঁটেছেন, এখনও তিনি সেই পথেই আছেন। উনি বদলাননি। সেজন্যই পরিষ্কারভাবে বলেছেন, শেখ হাসিনার অধীনে, সংবিধানের অধীনে তিনি নির্বাচন করবেন না।’

‘তিনি একটি ভূতের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান, অস্বাভাবিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চান।’

ইনু বলেন, ‘শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন না করার ঘোষণা মানে হচ্ছে উনি বাংলাদেশকে সংঘর্ষের দিকে, অস্বাভাবিক পথে ঠেলে দেয়ার একটা চক্রান্তের চাল বুনলেন। তিনি সংবিধানের অধীনে নির্বাচন চান না। যা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে।’

সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি হলে কীভাবে মোকাবেলা করবেন- এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে যেভাবে অতীতে মোকাবেলা করেছি ঠিক একই পদ্ধতিতে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করে যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জাতীয় নির্বাচনে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে খালেদা জিয়া যে দাবি করেছেন তারও বিরোধিতা করেন ইনু। বলেন, ‘সমাবেশে তিনি সেনাবাহিনী সম্পর্কে কথা বলেছেন। অথচ অতীতে কোনো দিনই সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ছিল না। সশস্ত্র বাহিনী নিয়েও যেহেতু কথা বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া, আমি এর ভেতরেও একটি ষড়যন্ত্রের বিষয় লুকোনো দেখছি।’

নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করতে খালেদা জিয়ার দাবির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইভিএম হচ্ছে একটি আধুনিক প্রযুক্তিগত ব্যাপার। আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার হবে সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে, আলোচনা হবে। এটা নিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হওয়ার কারণ নেই।

শেখ হাসিনার সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে-খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের বিষয়ে ইনু বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। ৯৩ দিনের ‘আগুন যুদ্ধে’ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তার কতিপয় সহকর্মী যারা সরাসরি মানুষ পোড়ানোর সাথে জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা নয়।’

বেগম খালেদা জিয়া এবং তার স্বামী জিয়াউর রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন ইনু। বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জিয়াউর রহমান এবং একুশে আগস্টের ঘটনা ঘটিয়ে, মানুষ পুড়িয়ে এবং জঙ্গি আক্রমণ করে খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি করছেন।’

জাসদ সভাপতি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম বিদেশ থেকে ফিরে আদালতে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়া তার ভাষণে আগুন সন্ত্রাস, মানুষ পোড়ানো, রাজাকারদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য জাতির কাছে মাফ চাইবেন। আশা করেছিলাম রাজনীতি থেকে জামায়াত ও জঙ্গি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন। নির্বাচন নিয়ে আরও গঠনমূলক কথা বলবেন। তবে সে আশা পূরণ হয়নি।’

‘খালেদা জিয়া উল্টো সামরিক বাহিনী, মানুষ পোড়ানো, টাকা পাচারকারী, জঙ্গি-সন্ত্রাস এবং ছেলে ও পরিবার পরিজনদের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।’

(ঢাকাটাইমস/১৪নভেম্বর/এমএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত