পাঁচ সন্তানের শতবর্ষী পিতার ঠাঁই যখন সড়কে!

সাইফুল ইসলাম, নাটোর
| আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:২১ | প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:০৫

‘মানুষের বৃদ্ধ হওয়াটাই যেন সবচেয়ে বড় অপরাধ? আমার ঘর-সংসার, ছেলে-মেয়ে সব থাকার পরও আজ আমি রাস্তায় পড়ে রয়েছি। সারাদিন জোটেনি কোন খাবার। নেই কোন আশ্রয়। কে তোমরা বাবা! জীবনের এই শেষ সময়ে আমার শুধু একটু আশ্রয় চাই। স্ত্রী, ছেলে-মেয়েরা কেউ তো ঘরে রাখতে চায় না।’

ঢাকাটাইমসকে কাতরকন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন- নাটোরের সিংড়া পৌর শহরের রাস্তায় পড়ে থাকা শতবর্ষী অসুস্থ বৃদ্ধ মনতাজ আলী।

জানা গেছে, তার এই বৃদ্ধ বয়সের অচলাবস্থা দেখে স্ত্রী ও পাঁচ ছেলে-মেয়ের কেউ যেন তার আর দায়িত্ব নিতে চায় না। তাই তারা রাস্তায় ফেলে চলে গেছে। অথচ বড় ছেলে আব্দুল আজিজ মরুর নিংগইন পেট্রোল পাম্পের পার্শ্বে সকাল সন্ধ্যা চলনবিল হোটেলে খাবারের যেন কোন অন্ত নেই। 

প্রতিবেশী ছবেজান বেওয়া ও হাসিনা বেগম জানান, সোমবার বিকালে পৌর শহরের চাঁদপুর বাংলালিংক টাওয়ারের পাশে শতবর্ষী এই বৃদ্ধকে পড়ে থাকতে দেখে তারা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য তুলে ভ্যান যোগে বড় ছেলে আব্দুল আজিজ মরুর বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে কেউ তাকে আশ্রয় দিতে চায় না। মরুর ছেলে শুভ হোসেন তাদের মারপিট করে বের করে দিয়েছে। পরে মেয়ে মোমেনা বেগম ও মেজ ছেলে মস্তাকের বাড়িতে নিয়ে গেলেও তারা কেউ ঘর থেকে বের হয়নি। পরে রাত ৮টায় ওই বৃদ্ধকে সিংড়া থানার গেটে ফেলে রেখে চম্পট দেয় ভাড়া করা ভ্যানচালক।

এদিকে খবর পেয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নাটোর জেলা শাখার নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম ও সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক শাহেদ আলী অসুস্থ শতবর্ষী মনতাজ আলীকে উদ্ধার করে সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। থানা থেকে রাতেই ওই বৃদ্ধের ছেলেদের খবর দেয়া হলেও মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিংড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোন ছেলের দেখা পাওয়া মেলেনি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডের ভর্তিকৃত কমেদ আলীসহ অন্যান্য রোগীরা জানান, সকাল থেকেই দেখছি এই অসুস্থ বৃদ্ধের কেউ আসেনি। কেউ কোন খবর ও নেয়নি।

সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টার্ফ নার্স মনোয়ারা বেগম জানান, এই বৃদ্ধের আত্মীয় স্বজনের এখন পর্যন্ত কোন খোঁজ নেই। চিকিৎসার সেবার পাশাপাশি সকালে হাসপাতাল থেকে একটি রুটি, কলা ও ডিম দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বৃদ্ধের বড় ছেলে আব্দুল আজিজ মরু বলেন, তার সৎ মা আলুফা বেগম ও ভাই আরিফুল ইসলামের কাছে তার বাবা থাকে। সে এসবের দায়িত্ব নিতে পারবে না। ছেলে তো আরো রয়েছে সবাইকেই ডাকেন।

সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, একজন শতবর্ষী বৃদ্ধকে রাতে রাস্তায় ফেলে চলে যাওয়া অমানবিক বিষয়। ওই বৃদ্ধের চার ছেলেকে থানায় দেখা করার জন্য খবর পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৪নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত