সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আজ কলঙ্কিত: নাসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:১১

ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খালেদা জিয়ার গত রবিবারের জনসভার দিকে ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন, যে উদ্যানে বাঙালি বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছিল, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান আজ কলঙ্কিত হলো। ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে এই উদ্যানে দাঁড়িয়ে। হুমকি দেয়া হচ্ছে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের স্বীকৃতির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে এ সংক্রান্ত আলোচনার প্রস্তাব করেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

নাসিম বলেন, ‘ধর্মের নামে, বর্ণের নামে, জাতিগোষ্ঠীর নামে বাঙালি পরাধীন ছিল। নেতাজী সুভাষ  পারেননি, কোনো বাঙালি রাষ্ট্রনায়ক পারেননি বাঙালিকে মুক্ত করতে। একমাত্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই এই বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ধর্মের নামে, গোত্রের নামে, নারী-পুরুষ, উচ্চবিত্ত-মধ্যবিত্ত সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন তিনি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতিকে ঐক্যবদ্ধের পরে ৭ মার্চের এই মাহেন্দ্রক্ষণে মাত্র ১৯ মিনিটের জন্য তিনি তার জীবনের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। তিনি সেদিন ভাষণ দেননি, ওইদিন তিনি সমগ্র বাঙালিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, উৎসাহিত করেছেন মরণপণ যুদ্ধের জন্য। তিনি বাঁশের লাঠিকে মারণাস্ত্রে পরিণত করেছেন।’

নাসিম বলেন, ‘কেউ সেদিন ছিল না। আজকে আমাদের সেই মহানায়ককে খলনায়ক বানানো হয়। এই নিপীড়িত বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান। আর আজকের খলনায়করা ক্ষমতায় এসে বারবার ইতিহাস বিকৃত করেছে। তারা বঙ্গবন্ধুকে ছোট করার চেষ্টা করেছে।’

স্বাস্থমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া, এরশাদ সাহেব থেকে শুরু করে তখন অনেকেই ক্ষমতায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে তখন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। রেডিও-টেলিভিশণে আমরা শুনতে পারতাম না। নতুন প্রজন্মও জানার কোনো সুযোগ ছিল না যে বঙ্গবন্ধুর ভাষণটা কী। কিন্তু আজকে ইতিহাসের নিয়মে সারা বাংলাদেশে এই ভাষণটি বাজে। আমরা পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে এই ভাষণটি নিয়ে কথা বলতে পারি।’   

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আজকে আমরা কৃতজ্ঞ যে, ইউনেস্কো এটাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তারা স্বীকৃতি না দিলেও যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বাঙালির হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ থাকবে। কোনো স্বীকৃতির জন্য বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেননি। তার ভাষণ আজকেও যখন মানুষ শুনে অনুপ্রাণিত হয়। শুধু বাঙালির জন্য নয়, যুগে যুগে যত মুক্তি সংগ্রাম আসবে, যতদিন সংগ্রাম চলবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের করা মানুষ চিন্তা করবে।’  

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। যার কারণে আজ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমরা সম্মানিত হয়েছি বঙ্গবন্ধুর ভাষণের জন্য। কিন্তু ভয় হয় ওই দানবের দল যদি আবার কোনোদিন ক্ষমতায় আসে, আবার নিষিদ্ধ হয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণটি। বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠ নিষিদ্ধ হয়ে যাবে।’

নাসিম বলেন, ‘তাই বলতে চাই, ওই দানবের শক্তিকে পরাজিত করতে হবে। যতদিন ক্ষতায় আছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় কাজ করে যাবো।’  

 (ঢাকাটাইমস/১৪নভেম্বর/এএকে/জেবি)

  

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত