রাজধানীতে নবান্ন উৎসব

শেখ সাইফ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৩০ | প্রকাশিত : ১৫ নভেম্বর ২০১৭, ১৪:৫৮

অগ্রহায়ণের প্রথম দিন আজ। বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়ানো একটি উৎসবের দিন। উৎসবের সঙ্গে দিনটিতে মিশে আছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি। নতুন ধান কাটা আর পিঠাপুলির উৎসবে মাতোয়ারা প্রতিটি বাঙালি। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পিঠা উৎসব থেকে শুরু করে নানা আয়োজন সারাদেশে বরণ করে নেয়া হয়েছে অগ্রহায়ণের প্রথম দিনটিকে। সারাদেশের মতো রাজধানীতেও নানা আয়োজনে নবান্ন উৎসব পালন করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় ল্যাব এইড ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় উদযাপিত হচ্ছে জাতীয় নবান্ন উৎসব। ‘এসো মিলি সবে নবান্নের উৎসবে’ স্লোগানে ‘জাতীয় নাবন্নোৎসব উদযাপন পর্ষদ’ নবান্ন উৎসব ১৪২৪ আয়োজন করেছে।

বুধবার সকাল সাতটায় দলীয় নৃত্যানুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় নবান্ন উৎসব। একে এক নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তির পর শুরু হয় বোধন। এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘নবান্ন উৎসব উদারনৈতিক এবং সার্বজনীন। এটা বাঙ্গালির উৎসব বাংলার উৎসব। আশ্বিন-কার্তিক মাস ‘দারুণ’ মাস। এর পরে ঘরে আসে আমন ধান। এই সময়ে বাঙ্গালি কৃষক পরিবারের ঘরে ঘরে আনন্দ আসে। সেই কষ্ট থেকে আমরা কৃষকের আনন্দ উদযাপন করি।’

ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ. এম. শামীম বলেন, ‘নবান্ন উৎসব যেন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। আমরা ছোটদের কাছে, তরুণদের কাছে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। বাঙ্গালি ঐতিহ্য, কৃষ্টি আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই সবখানে।’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, নবান্ন উৎসব জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে পালিত উৎসব। আজ আমাদের সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই নতুনদের এসব উৎসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে হাজার বছরের সংস্কৃতিকে ধারণ করতে হবে।

জাতীয় নবান্নোৎসব উদযাপন পর্ষদের চেয়ারম্যান লায়লা হাসান বলেন, ‘নবান্ন উৎসব হাজার বছরের ঐতিহ্য নতুনদের কাছে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমাদের সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য। পিঠা-পুলির সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার একটা সেতুবন্ধন তৈরির জন্য আমরা এটা উদযাপন করছি।’

লায়লা হাসান বলেন, ‘এই দিন ছুটির দিন হিসেবে পালন করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি। এছাড়া এটাকে যেন জাতীয় দিবস হিসেবে সারাদেশে পালন করা হয় এটা আমাদের চাওয়া।’

নবান্ন উৎসব উপলক্ষ্যে সকাল নয়টায় বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। চারুকলা থেকে বের হয়ে শোভাযাত্রাটি টিএসসি মোড় ঘুরে আবারো চারুকলায় গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাক-ঢোল, বাঁশি বাজিয়ে, মুড়ি-মুড়কি, পিঠা-পুলি খাওয়ানো হয়। দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পীরা হাজার বছরের বাংলার ঐতিহ্য নিয়ে রঙ তুলির আঁচড়ে বিভিন্ন ছবি আঁকেন। গান পরিবেশন করেন শামা রহমান, ফরিদা পারভীন, শাহীন সামাদ, সুমা রাণী রায়, সত্যেন শিল্পী গোষ্ঠী। আবৃত্তি করেন শিমুল মুস্তাফা, বেলায়েত হোসেন ও নায়লা তারান্নুম।

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাংবাদিক তোয়াব খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নবান্ন উৎসব পর্ষদের আহ্বায়ক শাহরিয়ার সালাম,  ল্যাব এইডের করপোরেট কমিউনিকেশনস প্রধান সাইফুর রহমান লেনিন, শিল্পী সমরজিৎ রায় চৌধুরী, আব্দুল মান্নান, আবদুস শাকুরসহ আরও অনেকে।

দিনব্যাপী এই উৎসব উদযাপন করা হবে। বিকাল চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলাসহ ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরবরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকাটাইমস/১৫নভেম্বর/এসএস/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত