ধর্ষণচেষ্টায় জরিমানার টাকা চেয়ারম্যানের পকেটে!

মঞ্জুর রহমান, মানিকগঞ্জ
| আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৫৩ | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:২৭
ছবির ইনসেটে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোল্লা

মানিকগঞ্জে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলা মীমাংসার কথা বলে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও মামলা তুলে নেয়ার খরচ বাবদ এই জরিমানা করেন সদর উপজেলা দিঘি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন মোল্লাসহ তার পরিষদের সদস্যরা।  

অভিযোগ রয়েছে জরিমানার আড়াই লাখ টাকার মধ্যে দেড় লাখ টাকা উঠিয়ে ভুক্তভোগীদের না দিয়ে মতিন মোল্লা নিজেই নিয়েছেন। তবে জরিমানা করার বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত এই চেয়ারম্যান।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস ধরে সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করতেন ভাটবাউর গ্রামের নবীন হোসেন (৩৫)। বিষয়টি নিয়ে ছাত্রীর পরিবার ওই যুবকের পরিবারকে বারবার জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। গত ৩১ অক্টোবর ভোরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে বখাটে নবীন। এ সময় মেয়েটির ডাকচিৎকারে বাড়ির লোকজন গিয়ে ওই যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাফর শিকদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ওই বাড়িতে যান। এরপর চেয়ারম্যানের বিচারের আশ্বাসে ওই যুবককে ছেড়ে দেয় এলাকাবাসী। এরপর ঘটনার ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও সালিস না হওয়ায় গত ৬ নভেম্বর ওই ছাত্রীর দাদা বাদী হয়ে জেলা নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালে অভিযুক্ত নবীন এবং তাঁর বাবা আনসার উদ্দিন ও ছোট ভাই রাকিব হোসেনকে আসামি করে কের্টে মামলা করেন।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে উভয়পক্ষের পরিবার ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামলা হওয়ার পর বিষয়টি মীমাংসার জন্য গত সোমবার ভাটবাউর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য জহির উদ্দিনের বাড়িতে শালিসের আয়োজন করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মোল্লার সভাপতিত্বে দুই পরিবারের লোকজনসহ ওই শালিসে চারজন ইউপি সদস্য, মাতব্বর ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সালিসে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাফর শিকদার, ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জহিরুল ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নাসির উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম, স্কুলশিক্ষক আবদুস সামাদ ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদকে সদস্য করে সমাঝোতা কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি অভিযুক্ত নবীনকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে।

এই প্রতিবেদককে অভিযুক্ত নবীনের ছোট ভাই রাকিব হোসেন ও ইউপি সদস্য জাফর শিকদার বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে উভয়পক্ষকে নিয়ে শালিসে বসে জরিমানা করে গত সোমবারই জরিমানার দুই লাখ ৫০ হাজার টাকার মধ্যে দেড় লাখ টাকা চেয়ারম্যান মতিন মোল্লার কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। বাকি টাকা মাফ করে দেয়ার জন্য তকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তারা।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা ঢাকাটাইমসকে বলেন, সালিসে দুই পক্ষ্সহ এলাকার শতশত মানুষের উপস্থিতিতে জুড়ি বোর্ডের মাধ্যমে অভিযুক্ত নবীনের পরিবারকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু সেই টাকা তিনি নিজে আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। 

এদিকে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ চেষ্টার মামলা আপস ও জামিন অযোগ্য বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের নারী ও শিশুনির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌসুঁলি (স্পেশাল পিপি) একেএম নূরুল হুদা রুবেল। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা শালিসে আপসের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি সালিসে যাঁরা মীমাংসার উদ্যোগ কিংবা মীমাংসার চেষ্টা করেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা যেতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/১৬নভেম্বর/প্রতিনিধি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত