লালমনিরহাট-২: তিন দলেই প্রার্থিতার চাপ নেই

রাহেবুল ইসলাম টিটুল, লালমনিরহাট
| আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৭, ১১:৪২ | প্রকাশিত : ১৬ নভেম্বর ২০১৭, ১০:০৪

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে লালমনিরাহট-২ আসন এলাকা আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। আর এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান এমপি ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবে অনেকটা কোণঠাসা জাপা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখানে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের তেমন চাপ নেই।

তিন দল মিলে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের নাম শোনা যাচ্ছে নির্বাচনী মাঠে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থীই মনোনয়নে থাকবেন বলে জানা যাচ্ছে।

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ-আদিতমারী দুই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত লালমনিরহাট-২ আসনে ইতিমধ্যে আগাম নির্বাচনী আমেজ চারদিকে। নির্বাচনে অংশ নিতে তিন প্রধান দলের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে প্রস্তুতি।

স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র বলছে, ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে এখন পর্যন্ত দুজন সম্ভাব্য প্রার্থী তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান এমপি সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন আদিতমারী উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সিরাজুল হক। স্থানীয় রাজনীতিতে কোন্দল না থাকায় আওয়ামী লীগের একক  প্রার্থী বাছাইয়ে তেমন বিপত্তির আশঙ্কা নেই।

হারানো অবস্থান ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় থাকা জাতীয় পার্টির হয়ে আগামী নির্বাচনে একক প্রার্থী হিসেবে প্রার্থিতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপি থেকে আসা রোকন উদ্দিন বাবুল।

আর বিএনপির মনোনয়ন-প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এমপি সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল।

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান আহমেদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তাকে প্রথমে খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয় তাকে। তার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আগের চেয়ে শক্ত অবস্থান অর্জন করেছে।

এদিকে সাবেক এমপি মজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর জাপার সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগ: আগামী নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে বর্তমান এমপি নুরুজ্জামান আহমেদই রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রে। এমপি হওয়ার আগে দুই মেয়াদে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন একাধিকবার। তবে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। অবশেষে ২০১৪ সালে এমপি হওয়ার সুযোগ পান কালীগঞ্জের এই সন্তান।

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিজয় কুমার জানান, এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর দলকে সুসংগঠিত করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নুরুজ্জামান আহমেদ। মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকেও ঐক্যবদ্ধ করেছেন তিনি।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেফাজ রাঙ্গা বলেন, বর্তমান এমপির নেতৃত্বে সবাই কাজ করে যাচ্ছেন। এমপি হয়ে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে ভোটারদের আস্থাও অর্জন করেছেন তিনি।

নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকা-, দুই উপজেলার মানুষের ভালোবাসাসহ সব দিক বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আবার দলীয় মনোনয়ন দেবেন বলেই আমি মনে করি।’

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সিরাজুল হকের নাম। এর আগে তিনি একাধিকবার মনোনয়ন চেয়েও পাননি। আদিতমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী এই জনপ্রতিনিধি উপজেলা পরিষদের সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান। আগামী সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার কর্মী হিসেবেই কাজ করবেন।

জাতীয় পার্টি: সাবেক এমপি মজিবুর রহমানের মৃত্যুর পর এই আসনে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিএনপি থেকে এসে রোকন উদ্দিন বাবুল জাপার হারানো ঐতিহ্য ফেরানোর চেষ্টা শুরু করেন। দুবার ইউনিয়ন পরিষদ ও দুবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দল গোছাচ্ছেন বাবুল। নিয়মিত নানা কার্যক্রম ও কর্মসূচি পালন করে দলীয় রাজনীতি চাঙ্গা করার চেষ্টা করছেন।

বছর দুয়েক আগে কালীগঞ্জের চাঁপারহাটে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এই আসনের জাপার প্রার্থী হিসেবে রোকন উদ্দিন বাবুলকে পরিচয় করিয়ে দেন।

রোকন উদ্দিন বাবুল বলেন, প্রতিটি নির্বাচনেই আসনটিতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীই জিতে এসেছেন। দলকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে এগোচ্ছি। আবার এ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের সুদিন ফিরবে বলে আশাবাদী তিনি।

বিএনপি: এই আসনে বিএনপির প্রধান সমস্যা দলীয় কোন্দল। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে এখনো আটকে আছে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠন। এর প্রভাব পড়তে পারে আগামী সংসদ নির্বাচনেও।

নেতাকর্মীরা জানান, মূলত জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু ও জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলালের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মতবিরোধের কারণেই এ উপজেলার কমিটি গঠন নিয়ে চলছে টানাপোড়েন।
তবে আদিতমারী উপজেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এ দুই উপজেলায় কোনো রকমে টিকে আছে দলটি। তারেক রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল অন্যবারের মতো এবারও এ আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সীমিত আকারে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং গণসংযোগ চালাচ্ছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফ্রেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, শেষ পর্যন্ত তিনিই এখানে একক  প্রার্থী হিসেবে টিকে থাকবেন। সালেহ উদ্দিন আহমেদ হেলাল বলেন, ‘আমি এর আগেও সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এ আসনের মানুষের সঙ্গে আছি, তাদের জন্য কাজ করছি। এবারও দলীয় মনোনয়ন পাব বলে আশা করি।’

হেলালের পাশাপাশি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও চন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমও বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন। এর আগেও তিনি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিএনপি মনোনীত প্রার্থী  হিসেবে অংশ নিয়ে হেরে যান। পেশায় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত। তিনি বিএনপিতে যোগদানের পরপরই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দল যেহেতু করি, তাই মনোনয়ন চাইব। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।’

(ঢাকাটাইমস/১৫নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত