ভারতে ঘুরে বেড়াচ্ছে হাওর দুর্নীতি মামলার আসামি

সিলেট ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৩৫

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত হাওর দুর্নীতি মামলার আসামি ঠিকাদার আব্দুল হান্নান এখন ভারতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সিলেট মহানগর যুবলীগের এই সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ আছেন বলে জানা যাচ্ছে। আর এসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন হান্নান নিজেই।

গত মঙ্গলবার দুপুরে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে প্রকাশ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তের তামাবিল ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে চলে যান ঠিকাদার আব্দুল হান্নান। অথচ বলা হচ্ছে তিনি পলাতক।

আবার পলাতক আসামি আবদুল হান্নানের সঙ্গে পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের সখ্য থাকার অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে। ১২ নভেম্বর ঠিকাদার হান্নানের নিজের বাসায় বিমানবন্দর থানা এলাকার হাউজিং এস্টেট এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এস এম রোকনউদ্দিনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এমন একটি ছবিও প্রকাশ পেয়েছে নানা মাধ্যমে।

এ ব্যাপারে পুলিশ কর্মকর্তা রোকনউদ্দিন দাবি করছেন, ওটা ছিল একটা পারিবারিক অনুষ্ঠান। হান্নান যে আসামি তা জানতেন না তিনি!

সুনামগঞ্জে বাঁধ ভেঙে বোরো ফসলহানির পর গত ২ জুলাই দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ বাদী হয়ে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ২১ নম্বর আসামি করা হয় মেসার্স হান্নান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হান্নান আহমেদকে।

দুদকের মামলায় পাউবোর ১৫ জন ছাড়াও সুনামগঞ্জের ১৩ জন, ঢাকার ৯ জন, সিলেটের ৬ জন, কুমিল্লার ৩ জন, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও সাতক্ষীরার ২ জন করে এবং টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, পটুয়াখালি, খুলনা, ময়মনসিংহ, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গার একজন করে ঠিকাদারকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ঠিকাদারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজ পেয়েছিলেন ফরিদপুরের খন্দকার শাহীন আহমদ, টাঙ্গাইলের মো. আফজালুর রহমান, সুনামগঞ্জের সজীব রঞ্জন দাশ ও সিলেটের আব্দুল হান্নান। হান্নান নয়টি বাঁধের কাজ পেয়েছিলেন।

সিলেটে আবদুল হান্নান অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। গত মঙ্গলবার দুপুরে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ স্ত্রী-পুত্র নিয়ে ভারতে গেছেন। একই দিন ভারত গেছেন আবদুল হান্নান। তবে দুটি পরিবার একই সময়ে ভারতে গেলেও তারা একসঙ্গে ছিলেন কি না এ প্রশ্নে মন্তব্য করতে রাজি হননি ইমিগ্রেশন সংশ্নিষ্টরা।

তবে হান্নানের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে আপলোড করা ছবিতে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে উভয় পরিবারকে একসঙ্গে দেখা গেছে।

তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) এম এ হান্নান চৌধুরী বলেন, মঙ্গলবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে হান্নানসহ অন্যরা ভারতের উদ্দেশে তামাবিল ইমিগ্রেশন ত্যাগ করেন। হান্নান দুদকের মামলার আসামি কি না তা আমাদের জানা নেই। এ জন্য তাকে দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়া যায়নি। তবে পরে তিনি ফিরে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে অকাল বন্যায় সুনামগঞ্জের হাওরের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যাপক ফসলহানির ঘটনা ঘটে। বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় সুনামগঞ্জসহ দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সফরে গিয়ে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এমন পরিস্থিতিতে গত ২ জুলাই পাউবোর ১৫ কর্মকর্তা, ৪৬ জন ঠিকাদারসহ ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ।

এ ছাড়া গত ৩ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল হক বাদী হয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৪১ জনকে আসামি করে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন।

আইনজীবী সমিতির এ মামলায় মোট ৪৬ জন ঠিকাদারকে আসামি করার পাশাপাশি দুদকের মামলার ৬১ জন আসামির সবাই রয়েছেন। আদালতের বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে এই মামলাও দুদককে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

গত ১৬ আগস্ট মামলার অন্যতম আসামি সুনামগঞ্জ জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ও নুর ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার খায়রুল হুদা চপল সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে দুদক তাকে গ্রেপ্তার করে।

(ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত