না.গঞ্জে জাপার দুই সাংসদ নিয়ে বিপাকে আ.লীগ

মো. মাজহারুল ইসলাম রোকন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১১ | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:২৩

নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে দুটিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির (এরশাদ) দুই সাংসদ।  নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা ও নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে নির্বাহ দলের কেন্দ্রীয় সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমান।

দুটি আসন এলাকাতেই আওয়ামী লীগের একাংশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন এ দুজন এমপি। এখানে নেতাকর্মীদের বানানো একই ব্যানার-ফ্যাস্টুনে দেখা যায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতাদের ছবি।

দ্বৈত নিয়ন্ত্রণের কারণে নানা সমস্যার মুখোমুখী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ এবার জোরালো দাবি তুলেছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি আসন থেকেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেয়ার। একই দাবি জেলার পাঁচটি আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন-প্রত্যাশী প্রায় ২৫ জন আওয়ামী লীগ নেতা। তাদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে দাবি তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশরেন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীও।

গত ২৮ অক্টোবর সোনারগাঁয়ে এক অনুষ্ঠানে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী জেলার ৫টি আসনেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, সোনারগাঁয়ের মানুষ আর জাতীয় পার্টির এমপি চায় না।

একাদশ নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন-প্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের এখন পর্যন্ত আগাম নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসংযোগের মূল সুর নারায়ণগঞ্জ থেকে এবার লাঙ্গল ঠেকাও। বিএনপি নিয়ে তাদের জোরালো কোনো বক্তব্য তেমন একটা নেই।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ সংসদীয় আসন। জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দফায় দফায় সোনারগাঁয়ে এসে নৌকার পক্ষে প্রার্থী চেয়ে ঘোষণা দিচ্ছেন। এ আসনের নির্বাচনী মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের আটজন মনোনয়ন-প্রত্যাশী।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় মনোনয়নে পাওয়ার প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলালও। দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে তিনি এলাকায় অনেকটা সাড়া ফেলেছেন। তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও অনেক।

গত ৫ নভেম্বর সোনারগাঁয়ে জেল হত্যা দিবসের জনসভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল জানান, আগামী নির্বাচনে যদি মহাজোট থাকে তাহলে দেশের অন্য কোথাও ছাড় দেয়া হোক। নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টিকে আর ছাড় দেবেন না তারা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন। কিন্তু দল মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিলে মোশারফ হোসেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকা।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সোনারগাঁর সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন ছিল। ওই নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত।  

আওয়ামী লীগের জেলা নেতারা সোনারগাঁ এসে দলীয় প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিলেও জাতীয় পার্টির এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার পক্ষে নির্বাচনের দাবি তুলেছেন সোনারগাঁয়ের ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও মেম্বারদের সংগঠন জনপ্রতিনিধি ঐক্য ফোরাম। এ ফোরামে রয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

জেলার সদর থানা ও বন্দর থানা এলাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসনে বর্তমান এমপি এ কে এম সেলিম ওসমান আগামী নির্বাচনের জন্য এখনো কোনো ঘোষণ বটে, কিন্তু এখানে তিনিই একক প্রার্থী বলে দাবি জাপার নেতাকর্মীদের।  সোনারগাঁয়ের মতো সেলিম ওসমানের পক্ষে কোনো ফোরাম গঠন না হলেও আওয়ামী লীগের অনেক নেতার সখ্য রয়েছে তাদের সঙ্গে। তাদের একাংশ সেলিম ওসমানের সঙ্গে উন্নয়কাজে জড়িত।

এ আসনে আওয়ামী লীগের সাতজন মনোনয়ন-প্রত্যাশী জোর দাবি তুলেছেন এখানে তারা আর জাতীয় পার্টিকে দেখতে চান না। ক্ষমতাসীন দলের এসব মনোনয়ন-প্রত্যাশীর মধ্যে বিরোধ-বিভক্তি থাকলেও তাদের নিজ নিজ বলয়ের নেতাকর্মীদের নিয়ে নিয়মিত জনসংযোগ ও সভা-সমাবেশে নৌকার পক্ষে দাবি তুলছেন।

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের অনন্য ভূমিকা রয়েছে, সেখানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকবে না সেটা আর হতে পারে না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটিও জাতীয় পাটিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। দল প্রথমে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দিয়েছিল শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি শুক্কুর মাহামুদকে। পরে আসনটি ছেড়ে তিনি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। ফলে প্রয়াত নাসিম ওসমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি নির্বাচিত হন। তিনি বর্তমান এমপি সেলিম ওসমানের বড় ভাই।  

২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল নাসিম ওসমান মারা গেলে ওই বছরের ২৬ জুন উপনির্বাচনে এ কে এম সেলিম ওসমান লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন নাগরিক ঐক্যের নেতা সাবেক এমপি এস এম আকরাম। এই উপনির্বাচনেও প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ।

(ঢাকাটাইমস/১৯নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত