জগন্নাথে ‘টিএসসি’র সংস্কারে ছাত্রলীগ

ইসরাফিল হোসাইন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:১০

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রতিষ্ঠার একযুগ পার করলেও এখনো গড়ে উঠেনি ব্যবহার উপযোগী শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্র (টিএসসি)। ২০১৪ সালের মার্চ মাসে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলের জন্য আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একটি পরিত্যক্ত জায়গাকে টিএসসি বলে ঘোষণা করেন। সে সময় জায়গাটি টিএসসি বলে ঘোষণা করলেও অব্যস্থাপনার কারণে সেখানে টিএসসির কার্যক্রম গড়ে উঠেনি।

অবশেষে সেই জায়গাটি টিএসসির উপযোগী করে দিলো বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। সেখানে জমে থাকা ময়লার স্তুপ সরিয়ে বালু ফেলার ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। রয়েছে ফ্রি ওয়াই-ফাইয়ের ব্যবস্থাও। জায়গাটি টিএসসি হিসেবে শিগগির জমে উঠবে বলে আশা করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

জানা য়ায়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বঘোষিত টিএসসিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো জায়গা ছিল না। এটি একটি বেসরকারি ব্যাংকের জায়গা ছিল। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে এবং সরকারের মধ্যস্থতায় ব্যাংক জায়গাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বর্তমান টিএসসিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা না হওয়ায় প্রশাসনের উদ্যোগে এখনো কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত করেনি। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সেখানে চাঁদা আদায়ের জন্য নিজেদের নির্বাচিত কিছু দোকানপাট বসিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর শাখা ছাত্রলীগের কমিটি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমে টিএসসিটি দখলমুক্ত করে। তবে দীর্ঘদিন জায়গাটি বেদখল থাকায় সেখানে ময়লা আবর্জনায় স্তুপ ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে ১১টি দাবি তুলে ধরে শাখা ছাত্রলীগ। এর একটি দাবি ছিল টিএসসি সংস্কার ও ব্যবহার উপযোগী করে তোলা। তবে টিএসসির জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জায়গা না হওয়ায় প্রশাসন সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ করতে আগ্রহ দেখায়নি।

অবশেষে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত শিক্ষক-ছাত্র কেন্দ্রের (টিএসসি) সংস্কার কাজ এবং সেখানে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দিল নবগঠিত শাখা ছাত্রলীগ। গতকাল শনিবার রাতে টিএসসি থেকে সবধরনের ময়লা-আবর্জনা সরিয়ে সেখানে বালু ফেলা হয়েছে।

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান প্রকৌশলী সুকুমার সাহা, জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদিন রাসেল, জবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা নির্বাচিত হওয়ার পরেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে ১১ দফা দাবি তুলে ধরি। এর মধ্যে টিএসসি সংস্কারের বিষয়টি ছিল। তবে এটা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব জায়গা না হওয়ায় প্রশাসন সরাসরি আমাদের কোনো সাহায্য করতে পারেনি। তবে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছে প্রশাসন।’

সভাপতি বলেন, ‘টিএসসি আগে বেদখল ছিল। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পর এটাকে দখলমুক্ত করেছি। এখানে কোনো চাঁদাবাজি ও মাদকের আখড়া হতে দেয়া হবে না। এটাকে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত করা হবে।’

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদীন রাসেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল এই টিএসসি। এটিকে প্রকৃত টিএসসির রূপ দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এখানে সবধরনের ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষার্থীদের আড্ডাস্থল ও মিলনমেলায় পরিণত হবে এ টিএসসি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে অতীতের মতো অগ্রণী ভূমিকা পালন করে যাবে জবি শাখা ছাত্রলীগ।’

সম্পাদক বলেন, ‘আমরা গত বৃহস্পতিবার এ কাজটির উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলাম। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেদিন কাজ করা সম্ভব হয়নি। তাই গতকাল শনিবার রাত থেকে সংস্কারমূলক কাজ করা শুরু করা হয়েছে। আর শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা করেছি।’

(ঢাকাটাইমস/১৯নভেম্বর/আইএইচ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত