‘সিএনজির’ ‘রাজত্বে’ ধস, অ্যাপে চালানোর উদ্যোগ

এম গোলাম মোস্তফা, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:১২

অ্যাপনির্ভর গাড়ি ও মোটর সাইকেল ভাড়া সেবা উবার ও পাঠাও বন্ধের দাবি তোলা সিএনজি মালিক-শ্রমিকরা নিজেরাই একই ধরনের সেবা চালু করতে চায়। তারাও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অটোরিকশা ভাড়া করার সুযোগ দিতে চায় যাত্রীদের। উবার ও পাঠাও সেবা চালুর কারণে ভাড়া কমে যাওয়ায় নিজেদের পাল্টানোর এই উদ্যোগ নিয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মালিক, শ্রমিকরা। 

ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের একজন নেতা ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই সেবা চালুর জন্য এরই মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন সিএনজি মালিক-শ্রমিকরা। শিগগিরই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তারা।

ওই নেতা এমন কথা জানালেও অ্যাপভিত্তিক গাড়ি ও মোটর সাইকেল ভাড়ার সেবা বন্ধের দাবিতে আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৪৮ ঘণ্টা সিএনজি অটোরিকশা ধর্মঘট ডেকেছে সংগঠনটি। তাদের পাল্টা কর্মসূচির ডাক এসেছে আবার যাত্রীদের পক্ষ থেকে। ‘এবার হোক প্রতিবাদ’ নামে একটি সংগঠন ২৪ নভেম্বর অটোরিকশা বর্জনের ডাক দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে।

রাজধানীতে যাত্রীর ইচ্ছামত গন্তব্যে যাওয়া এবং মিটার অনুযায়ী ভাড়া নেয়ার শর্তে চালু হয়েছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশা। কিন্তু প্রথম দিন থেকেই শর্ত অমান্য করে নিজের ইচ্ছামত গন্তব্যে যাওয়া, নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত দাবি করার কারণে যাত্রীদের বিরক্তির কারণ হয় অটোরিকশা চালকরা। দুই দফা বাড়িয়ে ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করার পরও তাদের অযুহাতের শেষ নেই। মিটারের বদলে ইচ্ছামত ভাড়ায় যাত্রীদেরকে যেতে বাধ্য করত তারা। এ কারণে তাদের প্রতি জনক্ষোভ ছিল স্পষ্ট।

এই অবস্থায় অ্যাপভিত্তিক গাড়ি ভাড়া করার আন্তর্জাতিক সেবা উবার ঢাকায় গাড়ি এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের মোটর সাইকেল ভাড়া সেবা চালু হয় চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে। শুরুতেই জনপ্রিয় হয় সেবা দুটি। শুরুতে উবার কেবল গাড়ি এবং পাঠাও মোটর সাইকেল সেবা দিত। এখন উবারে মোটর সাইকেল ভাড়া করা যাচ্ছে। পাঠাও মোটর সাইকেলের পাশাপাশি গাড়ি ভাড়ারে সেবা আনতে যাচ্ছে।

যারা স্মার্টফোন চালান তারা ঘরে, অফিসে বা বিপনিবিতানে থেকেই মোবাইল ফোনে ভাড়া করে ফেলেন যানবাহন। ঝক্কি, ঝামেলা নেই, চালকের সঙ্গে দর কষাকষি নেই, সবচেয়ে বড় কথা, চালক কোথাও যাবে কি যাবে না, এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসার কোনো কারণই নেই। ফলে যাতায়াতে টাকা খরচ করেও এতদিন সেবা পাচ্ছিলেন না, তারা এখন মহাখুশি।

আর উল্টো পরিস্থিতি অটোরিকশা চালকদের। যাত্রীর ডাকাডাকি উপেক্ষার সুযোগ এখন তাদের নেই বললেই চলে। আর ব্যবহারও আগের চেয়ে ভালো করতে হচ্ছে। তারপরও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না আগের মতো।

অটোরিকশা চালক মনির হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘উবার আওনের পরে আমাগো ভাড়া কইম্যা গেছে। বাচতে হলে এখন অন্য কোন পেশায় যাওয়া ছাড়া কোন উপায় দেখছি না।’

মনির বলেন, ‘আগে সব খরচ বাদ দিয়াও সাত আটশ টাকা থাকত, এখন দুইশ টাকাও ঘরে নিতে পারি না। খরচও তো কম না, জমা এক হাজার সাথে গ্যাস পথের খরচ নিয়ে সাতশ, এই সতেরশ টাকা তুলে তার পর নিজের। সাড়া দিনে দুই হাজার টাকার খেপ হয় না এখন।’

এই অবস্থায় নানা দাবিতে তারা ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মালিক শ্রমিকরা তার মধ্যে একটি আছে অ্যাপভিত্তিক উবার, পাঠাওয়ের মতো গাড়ি ভাড়া করার সেবাগুলো বন্ধ করে দেয়া।

তবে এখন সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ দাবি করছে, তাদের দাবি গণমাধ্যমে ভুলভাবে এসেছে। পরিষদের ঢাকা জেলা কমিটির সদস্য সচিব সাখাওয়াত হোসেন দুলাল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা অ্যাপনির্ভর সেবার বিরোধিতা করিনি। এটি ভুল প্রচার হয়েছে। আমাদের দা‌বি ছিল, মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজি অপসারণ ও অনুমোদন ছাড়া যেন অ্যাপনির্ভর এসব সেবা না চলে। কারণ আমরা নিজেরাও অ্যাপে চলে যাচ্ছি।’

দুলাল বলেন, ‘অ্যাপেই সিএন‌জি অটো‌রিকশা চালাবেন চালকরা। এজন্য আমরা স্মার্টফোনের ব্যবহার শিখছি। আর দেড়মাস পর সিএ‌নজি অটো‌রিকশা মিলবে উবার, পাঠাও এর মতো।’

এই সেবা চালু করতে 'হ্যালো সিএন‌জি' নামে এক‌টি অ্যাপ প্র‌তিষ্ঠা‌নের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলে জানিয়েছেন দুলাল।

ধর্মঘটের বিপরীতে অটোরিকশা বর্জনের ডাক

এর আগে একাধিকবার সিএনজি ধর্মঘট পালিন হয়েছে নানা দাবিতে। প্রতিবাদ এমন কর্মসূচি ডাকা হলে উদ্বেগ ছড়ালেও এবার যাত্রীদের পক্ষ থেকেই এসেছে প্রতিরোধের ডাক।

সিএনজি অটোরিকশা মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ধর্মঘটের কর্মসূচি আসার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রচার শুরু হয় ‘হোক প্রতিবাদ’ ব্যানার দিয়ে।

আগামী ২৪ নভেম্বর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টা ঢাকা ও চট্টগ্রামে সিএনজি অটোরিকশার সেবা নেয়া থেকে বিরত থাকতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান হচ্ছে হোক প্রতিবাদের পেজ থেকে।

ওই ইভেন্টে বলা হয়, দেশের সর্বত্র UBER, PATHAO, AMAR RIDE, MUV ও SAM-এর সার্ভিস চালুর দাবি ও এর চালক বন্ধুদের আরও বেশি তৎপর হবার অনুরোধ জানাচ্ছি...। যারা এই ধরণের স্মার্টফোন ভিত্তিক পরিবহন সেবা সম্পর্কে অবগত নন, তারা জেনে নিবেন এবং যারা বোঝেন তারা অন্যদের জানতে সাহায্য করবেন।

সিএনজিচালিত অটোরিক্সায় বিড়ম্বনার শিকার রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চালকদের নৈরাজ্য এত বেশি যে সিএনজি অটোরিকশা না থাকাটাই উত্তম।’

অপূর্ব নামের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সিএনজির তুলনায় উবার অনেক ভালো। উবারে আগে থেকেই বুক করা যায়। আর অন্য দিকে সিএনজিওয়ালাদের অনুরোধ করলেও যেতে চায় না।’

ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত