জাবিতে তীরে এসে তরী ডুবল আরো দুই জালিয়াতের

রাইয়ান বিন আমিন, জাবি প্রতিনিধি
| আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:১২ | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ২২:৩২

প্রায় ভর্তি হয়ে গিয়েছিলেন তারা। আজ তো ভর্তি হতেই এসেছিলেন। কিন্তু বিভাগের দুই শিক্ষকের যাচাই-বাছাইয়ে গিয়ে ধরা পড়ে গেলেন তারা। তীরে এসে তরী ডুবে দুই জালিয়াত ভর্তিচ্ছুর জায়গা হলো জাহাঙ্গীরনগরের সবুজ ক্যাম্পাসের বদলে আশুলিয়া থানায়। এর আগে গত ১৬ নভেম্বর একই ধরনের ঘটনায় ধরা পড়ে শ্রীঘরে যায় চার জালিযাত ভর্তিচ্ছু।

আজকের ঘটনার আগে তার পেছনের গল্পটা বলে নেয়া যাক।    
প্রথম বছর অল্পের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেননি। এতে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়েন নেয়ামুল হক রিমন। দ্বিতীয়বারে পরীক্ষায় ভর্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন তিনি। এরই মধ্যে স্কুলের এক বন্ধু তাকে প্রস্তাব দেন ভিন্ন পথে ভর্তি হওয়ার। যদি রিমন চায়, তিনি যোগাযোগ করিয়ে দিতে পারেন।

কথা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘ছাত্রলীগ নেতা’ আইয়ুবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন বন্ধু। আইয়ুব তাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্সির মাধ্যমে ভর্তি করাতে পারবেন বলে সাড়ে তিন লাখ টাকার চুক্তি করেন রিমনের সঙ্গে।

কথা অনুযায়ী রিমনের অনুপস্থিতিতেই পরীক্ষা হয়ে যায় এবং তিনি কলা ও মানবিক অনুষদে (সি ইউনিট) চান্স পেয়ে যান। আর চুক্তি অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধ করে দেন। এরই মধ্যে ঢাবির টিএসসিতে বসে হাতের লেখাও অনুশলীনের কাজ সম্পন্ন করে ফেলেন রিমন। যথারীতি ভাইবা পরীক্ষা দিতে আসেন। তবে কিছুটা সংশয় নিয়ে। যদি ধরা পড়ে যান। কিন্তু ভাইবা বোর্ডে উপস্থিত শিক্ষকরা তাকে নতুনভাবে জীবন দান করেন। সেখানে  নিয়ম অনুযায়ী হাতের লেখা পরীক্ষা করা হলেও উপস্থিত শিক্ষকদের গাফিতিতে তিনি পার পেয়ে যান। ফলে তিনি সি ইউনিটে ২৪তম স্থান লাভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে ভর্তির জন্য মনোনীত হন। আজ সোমবার ভর্তি হতে এলে তিনি বিভাগের শিক্ষকদের কাছে ধরা পড়েন।

বলছি রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজ থেকে এসএসসি ও আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থী নেয়ামুল হক রিমনের কথা। রিমন বরিশালের বোয়ালিয়া থানার বাকেরগঞ্জ গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

সোমবার দুপুরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগে ভর্তি হতে এলে বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ আদনান ফাহাদ এবং সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মন্ডল তথ্য যাচাই-বাছাই করেন। এ সময় তার হাতের লেখার গরমিল পাওয়া যায়। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে নেয়ামুলকে ডিন অফিসে নিয়ে গেলে তিনি এই প্রতিবেদকের কাছে জালিয়াতির এসব তথ্য দেন।

পরে তাকে র্লিখিতভাবে তার জালিয়াতির কথা লিখতে বললে তিনি তা দিতে অ্স্বীকৃতি জানান। পরে তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করে তাকে আশুলিয়া থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

এ ব্যাপারে জানতে ঢাবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও ‘ছাত্রলীগ নেতা’ আইয়ুবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার কিছুক্ষণ আগে ভিন্ন পরিচয়ে আইয়ুবের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।   

এদিকে নেত্রকোনা জেলার নকুল চন্দ্র দেবনাথের ছেলে সীমান্ত দেবনাথকেও একই অভিযোগে আটক করা হয়েছে।  তিনি বিজনেস স্ট্যাডিজ অনুষদে (ই ইউনিট) ১১৬তম হয়ে মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হতে এসেছিলেন। ভর্তির সময় হাতের লেখা ও কথাবার্তায় অসংগতি পেলে বাণিজ্য অনুষদের ডিন নিলাঞ্জন কুমার সাহা তাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন।

এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হওয়ায় তাদের পুলিশে দেয়া হয়েছে। আশুলিয়ায় থানায় এ-সংক্রান্ত মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি ও পরে সাক্ষাৎকারেও জালিয়াতরা পার পেয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানান, ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রে এবং পরবর্তী সাক্ষাৎকার বোর্ডে যেসব শিক্ষক ছিলেন তারা যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেননি বলেই তারা মনে করছেন।

এর আগে গত ১২ নভম্বের বভিন্নি ইউনটিে মধো তালকিার প্রথম দকিে স্থান করে নয়ো চার র্ভতচ্ছিু একই রকম জালযিাতরি ঘটনায় আটক হয়। তারা এককেজন তনি থকেে ছয় লাখ টাকায় অন্যকে দয়িে নজিরে র্ভতি পরীক্ষা দয়িছেলি।  কন্তিু সাক্ষাৎকারে হাতরে লখোয় গরমলিে ধরা পড়লে তাদরে আটক করে থানায় সোর্পদ করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২০আগস্ট/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত