ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, বাড়িছাড়া করলেন নানা

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৭, ২২:৪০

গাজীপুরের শ্রীপুরের সাইটালিয়া গ্রামে ধর্ষণে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে (১২) কে শ্রবণ প্রতিবন্ধী বাবা ও ভাইবোনসহ মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন কিশোরীর নানা আবুল হোসেন।

পুলিশী তদন্তে ধর্ষণে আপন মামা হুমায়ুন কবিরকে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রবিবার রাতে পুলিশ আটক করার পর সোমবার সকালে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। বর্তমানে তারা উপজেলার টেংরা সুতাপাড়া এলাকায় কিশোরীর ফুফা শাহাবউদ্দিনের আশ্রয়ে রয়েছেন।

অন্তঃসত্বা মেয়ে ও তার স্বজনরা জানায়, কিশোরীটি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মেয়েটির পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় তারা সাইটালিয়া গ্রামের নানা আবুল হোসেনের দেয়া জমিতে একটি ঘর তুলে বসবাস করে আসছেন। গত এক বছর আগে থেকে মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে তার আপন মামা হুমায়ুন কবির ও মামার খালাতো ভাই একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে আমানুল্লাহ ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করত, এরই একপর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে দুই মাস আগে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এসময় পরিবারের কাছে ধর্ষণের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামা হুমায়ুন কবিরের নাম বলায় নানা ও মামা কিশোরীকে হুমকি দেন। পরে শ্রীপুর থানায় আমানুল্লাহকে প্রধান আসামি করে গত ২১ সেপ্টেম্বর অভিযোগ করেন কিশোরীর মা। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আমানুল্লাহ পলাতক রয়েছেন।

এ দিকে মামলা হওয়ার পর পুলিশি তদন্তে নতুন মোড় নেয়। কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণে আপন মামা হুমায়ুন কবিরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খুঁজে পায় পুলিশ। কিন্তু হুমায়ুন কবির হয়ে যান লাপাত্তা। অভিযোগে মামার নাম আসার পর থেকে শুরু হয় কিশোরীটির পরিবারের উপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন। সে নির্যাতন চালায় কখনও তার নানা আবুল হোসেন, আবার কখনও মামা হুমায়ুন কবির। দুইবার নানা আবুল হোসেন গলায় ছুরি ধরেন জবাই করার উদ্দ্যেশে, কিন্তু বাবার প্রতিরোধে প্রাণে বেঁচে যায় কিশোরী। গত ৬ নভেম্বর নানা আবুল হোসেন কিশোরী ও তার পিতাকে মারধর করেন এসময় তার মা তাদের রক্ষা করতে আসলে নানার লাঠির আঘাতে তার মার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ হয়।

সবশেষ রবিবার রাতে পুলিশ মামা হুমায়ুন কবিরকে আটক করে নিয়ে যাওয়ার পর সোমবার সকালে নানা আবুল হোসেন কিশোরীর শ্রবণ প্রতিবন্ধী পিতা পাঁচ বছর বয়সী এক ভাই ও নয় বছর বয়সী এক বোনসহ কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

এসময় কিশোরীর মাকে তাদের সাথে যেতে দেয়া হয়নি। পরে তারা মাকে ছাড়াই উপজেলা টেংরা গ্রামের কিশোরীটির ফুফার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নানা আবুল হোসেনের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে।

মামলার তদারক কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. এখলাছ উদ্দিন বলেন, কিশোরীর জবানবন্দির ভিত্তিতে তার আপন মামা হুমায়ুন কবিরকে আটক করা হয়েছে। পরে সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আমানুল্লাহকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

শ্রীপুর থানার অপর উপ-পরিদর্শক সৈয়দ আব্দুল আজিজ বলেন, কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় সোমবার দুপুরেই অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে কিশোরীটিকে বাড়িতে নিরাপদে ফিরতে থানা পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরীটির দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন নিয়ে প্রাথমিক ভাবে তার পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তা করেছে। এসময় কিশোরীর লেখাপড়া, চিকিৎসা নিরাপত্তাব্যবস্থা, সন্তান প্রসব পরবর্তী পুনর্বাসনের দায়িত্বও প্রশাসন নিয়েছে। কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত