এবার রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০১৭, ০৮:১৮
ফাইল ছবি

ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতার পর এবার আলোচনায় রাজশাহী-কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন। এরই মধ্যে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। আগামী মাসে এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে দেশগুলোর অংশগ্রহণে আগামী মাসে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত হবে নীতিনির্ধারণী আলোচনা। সেখানেও বিষয়টি গুরুত্ব পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে সরকারি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে।

একসময় অবিভক্ত বাংলায় মালদহ কিংবা মুর্শিদাবাদ হয়ে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগের কেন্দ্র ছিল রাজশাহী। ১৯৪৭ সালের পর সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু নানা কাজে এ অঞ্চলের মানুষের ভারতে যাতায়াত থেমে থাকেনি। প্রতিদিন বহু অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার জন্য যান ভারতে। তাদের যাতায়াত সুবিধার কথা চিন্তা করে সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী থেকে কলকাতা পর্যন্ত একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর প্রস্তাব করেন।

সম্প্রতি তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের মাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাঠান ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা জানান, ভারতের রেলপথ বিভাগ প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। আগামী মাসে তিনি আবার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে কথা বলবেন। তখন বিষয়টির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-কলকাতা ও খুলনা-কলকাতা দুটি মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন গেদে সীমান্ত দিয়ে চলাচল করলেও রাজশাহী-কলকাতার প্রস্তাবিত ট্রেনটি যাবে মালদার সিঙ্গাবাদ সীমান্ত দিয়ে। রাজশাহীর মানুষের ভারত যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে ট্রেনটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের সিঙ্গাবাদ, মালদা, ফারাক্কা, কাটোয়া, খাগড়াঘাট হয়ে হাওড়ায় পৌঁছাবে।

এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক খায়রুল আলম বলেন, এই রুট দিয়ে এখন মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু খুব বেশি কঠিন হবে না। ট্রেনটি চালুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েকে একটি চিঠি লিখেছেন। দুই দেশ থেকেই আলাপ-আলোচনা করে ট্রেনটি দ্রুতই চালুর চেষ্টা চলছে।

রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চালুর উদ্যোগের খবরে রাজশাহীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে বর্তমানে ভারতের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রেন যোগাযোগ চালু রয়েছে। এ জন্য দুই দেশের রেলপথও সংস্কার করা হয়েছে। নেপাল এ রুট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সার আমদানি করেছে। নেপাল ভারত হয়ে তাদের সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যসামগ্রী পরিবহনে এ রুট ব্যবহার করতে রাজি হয়েছে বলে জানা গেছে।

তৃতীয় এ মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হলে রহনপুর রেলস্টেশন চত্বরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সুবিধা চালু করতে হবে। বর্তমানে রহনপুরে কাস্টমস অফিস থাকলেও তাদের নিজস্ব ভবন নেই। রহনপুর রেলবন্দর চত্বরে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস স্টেশন নির্মাণ করার জন্য রেলওয়ের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। সে জায়গাতেই প্রয়োজনীয় সব অফিস খোলা হবে বলে রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে।

সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা মনে করেন, তৃতীয় এই মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হলে ভারতের পাশাপাশি নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব পাবে রাজশাহী। তখন রাজশাহী হয়ে উঠবে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। তাছাড়া ভারতগামী এ অঞ্চলের বহু মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করবে এই মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন।

(ঢাকাটাইমস/২১নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত