বিপিএল তুমি কার?

দেলোয়ার হোসেন, জহির উদ্দিন মিশু ও সদর উদ্দীন লিমন
| আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৯ | প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৪৪

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটা বাদ দিলে গত তিন বছরে অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানরা অভূতপূর্ব সাহস দেখিয়েছেন বিশ্ব ক্রিকেটে। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ সাত নম্বর দল। সুনীল গাভাস্কার এই উত্থানের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা দেখেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএলের। আরেক ক্রিকেট কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামেরও মত, তামিম-সাকিবদের সাহসী ব্যাটিং শিখিয়েছে বিপিএল। ২০১২ সালের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো দাগ আড়ালে রাখলে বিপিএল অনেক কিছুই দিয়েছে এই দেশের ক্রিকেটকে। এই আসর এখন বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত লিগগুলোর একটি। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএলের পর কোনটা বেশি জনপ্রিয়? পিএসএল, সিপিএল, বিগব্যাশ নাকি ইংলিশ টি-টোয়েন্টি কাউন্টি লিগ? এগুলো নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় লিগ। তবে দর্শক সংখ্যা, বিশ্বজোড়া সম্প্রচার, বিদেশি তারকাদের উপস্থিতিÑ এসব যদি বিচার করা হয়, তাহলে এগুলোর কোনোটাই নয়, দুই নম্বরে থাকবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল। জেনে রাখুন, শুধু বাংলাদেশেই টিভিতে অন্তত ৪ কোটি মানুষ বিপিএল দেখেন। দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়া, ওশেনিয়া থেকে আফ্রিকা, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ সম্প্রচারের ব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে। ভারতীয় ক্রিকেটার না থাকলেও সেখানে টিভি দর্শক আছে ঠিকই। সবটা মিলে অন্তত ১৫ কোটি মানুষ টিভিতে দেখে থাকে বিপিএল।

কে হবে চ্যাম্পিয়ন?
২০১২ থেকে ২০১৭ সাল। ছয় বছর। কিন্তু ম্যাচ ফিক্সিং-কা-ে ২০১৪ সালে হতে পারেনি বিপিএল। মোট পাঁচবার মাঠে গড়িয়েছে বিপিএল। গত চার আসরের তিনবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা। আর একবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মজার ব্যাপার হলো, অধিনায়ক হিসেবে তিনবার ট্রফি জয়ের গৌরব অর্জন করেন মাশরাফি। দুইবার ঢাকার অধিনায়ক হিসেবে এবং আরেকবার কুমিল্লার অধিনায়ক হিসেবে। এবার কে? টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এগিয়ে রাখা হয়েছিল রংপুর রাইডার্স ও ঢাকা ডায়নামাইটসকে। ঢাকা আছে কক্ষপথেই। ফেভারিটের মতোই এগুচ্ছে তারা। রংপুর আশানুরূপ ভালো করতে না পারলেও গেইল ও ম্যাককালাম যোগ দেওয়ায় চিত্রটা পাল্টে যাবে নিশ্চয়ই। তবে ঢাকাকে থামানো খুবই কঠিন। সাকিবের এই দলও হট ফেভারিট একঝাঁক বাঘা বাঘা অলরাউন্ডার আছে দলে। আফ্রিদি, সাকিব, নারাইন, সাঙ্গাকারা, এভিন লুইস, পোলার্ড। ঢাকা ও রংপুরের বাইরে সেভাবে শক্তিশালী দল গড়েনি কেউ। রাজশাহী, খুলনা মাঝারি মানের দল। শক্তির বিচারে সবচেয়ে নিচের দুটি দল হলো সিলেট ও চট্টগ্রাম। যদিও ঘরের মাঠে টানা তিন ম্যাচ জিতে চমক দেখিয়েছিল সিলেট। কিন্তু সেটা ঢাকাতে তারা ধরে রাখতে পারেনি। তবে এই লেখা পাঠক যখন পড়বেন, তখন সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের তালিকা বদলে যেতে পারে।

দেশি পেসারদের গতির ঝলক
যারা নজর রাখছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন যে, এবার পারফরম্যান্সের দিক থেকে বিদেশি খেলোয়াড়রাই এগিয়ে থাকছে। ব্যাটিংয়ে এখন পর্যন্ত সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের চারজন বিদেশি। বোলিংয়েও সেরা পাঁচে দুইজন বিদেশি। তবে বোলিংয়ে এক ও দুই নম্বর অবস্থান দখল করে আছেন দুই বাংলাদেশি। তারা তারকা কোনো ক্রিকেটার নন। তরুণ ক্রিকেটার। তারা হলেন আবু হায়দার রনি ও আবু জায়েদ রাহি। ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বিপিএলে আবু হায়দার রনি সবার নজর কাড়লেও আবু জায়েদ রাহি এর আগে তেমন আলোচনায় আসেননি।


ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে খেলছেন আবু হায়দার রনি। এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে ১১টি উইকেট নিয়ে সেরা উইকেটশিকারিদের তালিকায় এক নম্বর অবস্থানে রয়েছেন তিনি। তার বোলিং ইকোনোমি রেট ৬.৮৩। বেস্ট বোলিং ফিগার ৩/১১। বোলিং গড় ১২.৬৩।
অন্যদিকে খুলনা টাইটানসের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন আবু জায়েদ রাহি। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচ খেলে ১০টি উইকেট নিয়ে সেরা উইকেটশিকারিদের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন তিনি। রাহির বোলিং ইকোনোমি রেট ৮.১০। বেস্ট বোলিং ফিগার ৪/৩৫। বোলিং গড় ১৫.৪০।

আইকনদের হালচাল
চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে লড়ছে সাতটি দল। সাতটি দলে রয়েছেন সাতজন আইকন খেলোয়াড়। তারা হলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, তামিম ইকবাল, সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকার। নিজেদের মর্যাদা কতটা রাখতে পারছেন তারা?
ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা খেলছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। দলটির অধিনায়কত্ব করছেন তিনি। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে খেলে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে করেছেন ৩৩ রান।


টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম খেলছেন রাজশাহী কিংসের হয়ে। প্রথমে তাকে দলটির সহ-অধিনায়ক করা হলেও ড্যারেন স্যামি ইনজুরিতে থাকায় দুইটি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিকুর রহিম। এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচ খেলে ৬৫ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান খেলছেন ঢাকা ডায়নামাইটসের হয়ে। দলটির অধিনায়কও তিনি। এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচে ৭৬ রান করেছেন। বল হাতে নিয়েছেন পাঁচটি উইকেট।
‘আনসাং হিরো’ বলে খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অধিনায়ক হিসাবে খেলছেন খুলনা টাইটানসের হয়ে। তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে করেছেন ১৩৩ রান ও নিয়েছেন চারটি উইকেট।
তামিম ইকবাল আছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সে। এখন পর্যন্ত তিনি তিনটি ম্যাচ খেলেছেন। তাতে তিনি ৪৩ রান করেছেন। ইনজুরির কারণে শুরুর তিনটি ম্যাচে খেলতে পারেননি।
সাব্বির রহমান খেলছেন সিলেট সিক্সার্সের হয়ে। এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলে ১৩৩ রান করেছেন তিনি। সৌম্য সরকার খেলছেন চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে। এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে ম্যাচে ১০৭ রান করেছেন তিনি।

রান খরায় ঘরের ছেলেরা
এখন পর্যন্ত ঘরের ছেলেরা ধরতে পারেননি ভালো কোনো সাফল্য। বল হাতে রনি, জায়েদ, তাসকিনরা কিছুটা আলো ছড়ালেও ব্যাটসম্যানরা একেবারেই ফ্লপ। ফলে অনুমিতভাবেই সেরার আসনগুলো লুফে নিয়েছেন বিদেশি তারকারা।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম ২২ ম্যাচে বাংলাদেশের মাত্র চারজন হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। তারা হলেন মুমিনুল হক, জাকির হাসান, সাব্বির রহমান ও এনামুল হক বিজয়। ইমরুল কায়েস হাফ সেঞ্চুরি না পেলেও মোটামুটি ভালো রান পাচ্ছেন। কিন্তু সৌম্য সরকার, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিমরা ব্যর্থতার ঘরে বন্দি। দেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেশি রান ইমরুলের। ছয় ম্যাচে ২০১ রান করেছেন তিনি। সর্বোচ্চ ৪৭। 


কেবল জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাই নন, জাতীয় দলের বাইরে থাকা কেউ সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি। প্রথম দিন লাসিথ মালিঙ্গা ও থিসারা পেরেরার মতো বোলারের বিপক্ষে দাঁতে দাঁত লাগিয়ে লড়াই করেন রনি তালুকদার। সেদিন ব্যাট হাতে দলকে উপহার দেন ৪৭ রানের ঝকঝকে ইনিংস। এরপর আর তার দেখা নেই। 
দেশি ব্যাটসম্যানদের রানখরা নিয়ে ক্রিকেটবোদ্ধারা বলছেন, অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই বেকায়দায় স্থানীয় ব্যাটসম্যানরা। এভিন লুইস, জস বাটলার, ব্র্যাথওয়েট, কাইরণ পোলার্ডরা শারীরিক দিক থেকে অনেক বেশি সুঠাম ও দীর্ঘদেহী। তাদের বিগ হিটগুলো যে খুব ক্রিকেটীয় ব্যাকরণ মেনে একদম শরীর ও পা ঠিক বলের পেছনে গিয়ে নেয়াÑ তা নয়। বেশির ভাগই পাওয়ার হিটিং। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শারীরিক সামর্থ্য তুলনামূলক কম। তারা কোনোভাবেই তেমন পাওয়ার হিটিং করতে পারবেন না। তারা বরং নিজের মেধা-বুদ্ধি খাটিয়ে যতটা সম্ভব দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করলে সফল হবেন।

একাদশে কেন পাঁচ বিদেশি?
বিপিএলে প্রতিটি দল পাঁচজন বিদেশি মাঠে নামাতে পারে। একটি ম্যাচে প্রায় অর্ধেক ভিনদেশি ক্রিকেটার! বিসিবির এমন সিদ্ধান্তে দেশি খেলোয়াড়রা মোটেও খুশি নন। এটা বিসিবির সিদ্ধান্ত বটে, কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো থেকে এমন জোরালো দাবিই ছিল বিসিবির প্রতি। দেশি খেলোয়াড়রা অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিসিবিতে কোনো অভিযোগ করেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো যেহেতু কোটি কোটি টাকা খরচ করে দল গড়ে তাই তাদের কথা না শুনে উপায় থাকে না আয়োজকদের। এছাড়া দেশি যেসব তারকা ক্রিকেটার রয়েছেন, শুধু তাদের দিয়ে আসর জমবে না বলে মনে করছেন আয়োজক ও মালিকরা। তাদের যুক্তি হচ্ছে, বিশ্বের সব নামি তারকার মিলন মেলা হচ্ছে প্রতিবেশী দেশের আইপিএল। আর যেখানে তারকা খেলোয়াড় সেখানেই দর্শক আর স্পন্সর। তাই একাদশে ৫ বিদেশির বিকল্প কিছু দেখছে না তারা।

অবশেষে গেইল-ম্যাককালাম
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট মানেই চার-ছক্কার ধুম-ধাড়াক্কা। শেষ ওভারের উত্তেজনা। কিন্তু এবারের বিপিএলে তেমনটি দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে দু-একটিতে এভিন লুইস, শহীদ আফ্রিদি, কাইরন পোলার্ড, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ঝড় তুলেছেন। বেশিরভাগ ম্যাচেই বোলারদের আধিপত্য। শুরুতে না এলে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলতে এখন ঢাকায় ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বড় দুই বিজ্ঞাপন তারা। ১৪ নভেম্বর ঢাকায় আসেন ম্যাককালাম। আর ১৬ নভেম্বর ভোরে ঢাকায় পৌঁছেছেন ক্রিস গেইল।

দুইজনই ইতোমধ্যে দুইটি করে ম্যাচ খেলেছেন। দুই ম্যাচে গেইলের সংগ্রহ যথাক্রমে ১৭ ও ৫০। ম্যাককালামের সংগ্রহ যথাক্রমে ১৩ ও ৩৩। ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশা ক্রিস গেইল ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ব্যাটে এবার জমবে বিপিএল। মাঠে নিশ্চয়ই এবার বইবে চার-ছক্কার বন্যা। কারণ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ক্রিস গেইলই একমাত্র ক্রিকেটার যিনি ১০০ এর বেশি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ৫২টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১০৩টি ছক্কা মেরেছেন তিনি। ৭১ ম্যাচ খেলে ৯১টি ছক্কা মেরে এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

আয়ে পিছিয়ে দেশি ক্রিকেটাররা
গত কয়েক আসর থেকে দেশি খেলোয়াড়দের কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো বেঁধে দিয়েছে। যদিও এ পদ্ধতিতে খুশি নন দেশি খেলোয়াড়রা। সাত দলে সাত জন আইকন খেলোয়াড় আছেনÑ তারা পাবেন ৫০ লাখ টাকার মতো। ২ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখে মিলছে অন্যান্য ক্যাটাগরির দেশি খেলোয়াড়দের।
দেশি তারকাদের চেয়ে অনেক বেশি কখনো দ্বিগুণ এমনকি তিনগুণ টাকা কামাচ্ছেন বিদেশি তারকারা। মাশরাফি, সাকিব, তামিমরা ১২-১৩ ম্যাচ খেলে কামাবেন ৫০ লাখ। অথচ ক্রিস গেইল, আফ্রিদি, মালিঙ্গা, ম্যাককালামরা ১২ ম্যাচ খেলে নিয়ে যাবেন দেড় কোটি টাকা। এছাড়া ফ্রাঞ্চাইজগুলোর করার তেমন কিছু ছিলও না। কারণ দেশি খেলোয়াড়দেরও যদি চড়া দামে কেনা লাগতো তাহলে তাদের ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যেত। সেটা সামর্থ্যরে বাইরে। অন্যদিকে বিদেশি খেলোয়াড়দের চড়া দামে না কিনেও উপায় নেই। পছন্দ মতো দাম না পেলে তারা আসবে কেন? বিদেশি তারকা খেলোয়াড় ছাড়া বিপিএল পুরো ফ্লপ শোতে পরিণত হবে।

বিসিবির আয়ের বড় উৎস
দেশের সবকটি ঘরোয়া ক্রিকেট লিগে বিসিবিকে ভর্তুকি দিতে হয়। বিপিএলই একমাত্র লিগ যেখান থেকে উল্টো বিসিবির কোষাগারে কোটি কোটি টাকা যোগ হয়। আগের চার আসরে সব মিলে প্রায় ১২০ কোটি টাকা আয় করেছে বিসিবি। এবার অন্তত ৩০ কোটি টাকা আয় হবে। মানে পাঁচ আসর থেকে বিসিবির ১৫০ কোটি টাকা! টাইটেল স্পন্সর, টিভি স্বত্ব, ম্যাচ টিকিট, মাঠের বিলবোর্ডÑ এসব থেকে টাকা পায় বিসিবি। পরে বিপিএলে দল আরো গোটা দুয়েক যোগ হতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের আয়ও বাড়বে।
বিশ্ব বিবেচনায় অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেছনের সারিতেই আছে। কিন্তু বিসিবি ক্রিকেট বিশ্বে একটি ধনী প্রতিষ্ঠানই। তাদের ফিক্সড ডিপোজিট প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। বিসিবির আয়ের প্রধান উৎস অবশ্য আইসিসি। গত সাত বছরে আইসিসি থেকে ৭০০ কোটি টাকার উপরে পেয়েছে তারা। আগামী আট বছরে শুধু আইসিসি থেকে বিসিবির ফান্ডে জমা হবে এক হাজার কোটি টাকার উপরে। এছাড়া অন্যান্য খাতের আয় তো বাড়বেই।

লাভ-লোকসানের হিসাব
বিপিএল থেকে লাভ করবেনÑ এই মানসিকতা নিয়ে সবাই আসেননি। যেমন বসুন্ধরা গ্রুপ। তারা ঢাকার প্রিমিয়ার ডিভিশনের দল শেখ রাসেল পরিচালনা করে আসছে। বছরে অন্তত তিন কোটি টাকা এখানে অনুদান দিতে হয় তাদের। বিপিএলে তাদের আসাও আসলে ক্রিকেট ভালোবেসে। এখান থেকে অবশ্য দলগুলোর আয় করারও সুযোগ আছে। দলের পেছনে কত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, আর কত আয়- সেটা অনেকটাই গোপনীয় বিষয়। এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। তবে যতদূর জানা যায়, এবার প্রায় ৬-৭ কোটি টাকা খরচ হবে রংপুর রাইডার্সের। তবে প্রচুর স্পন্সর পেয়েছে দলটি। যার আর্থিক মূল্য অন্তত ৬ কোটি টাকা। তার মানে তেমন লোকসান গুনতে হবে না দলটিকে।
সিলেট সিক্সার্স বড় বাজেটের দল গড়েনি। সাধারণ মানের খেলোয়াড় দিয়ে দলটি অবশ্য সিলেট পর্বে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করেছে। এই দলটি শিরোপা জেতার মতো না হলেও বেশ লাভের মুখ দেখবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের স্পন্সরের অভাব হয়নি। বিজ্ঞাপনে কম যায়নি রাজশাহী কিংসও। তাদের তেমন লোকসান হওয়ার কথা নয়। লোকসান গুনতে হতে পারে চিটাগাং ভাইকিংস ও খুলনা টাইটানসকে। তবে খুলনার মালিকরা এ নিয়ে তেমন ভাবছেন না। আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স তো লাভ-ক্ষতির হিসাব তেমন দেখেই না। কারণ বছর বছর ক্রিকেটের উন্নয়নে অর্থ খরচ করার কথা নিশ্চয়ই উদার দৃষ্টিতেই দেখে থাকেন ক্রিকেটের মানুষ পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

দল পরিচালনায় প্রভাবশালীরা 
এবারের বিপিএলে ভিআইপিদের সমাগম বেশি। এই দেশে ক্রিকেটে এতটাই গ্ল্যামার্স যে, এখানে এসে নিজেকে জানান দেন অনেক খ্যাতিমানই। কেউ কেউ দলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগাগোড়া ক্রিকেটের মানুষ। আবাহনীর পরিচালক, বিসিবির প্রেসিডেন্ট, আইসিসির ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলাচ্ছেন। তবু ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে দেননি। বিপিএলের প্রথম আসর থেকেই তিনি দল পরিচালনা করে আসছেন। প্রথমে সিলেট রয়েলস এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। তার ব্যস্ততার শূন্যতা পূরণ করছেন তারই কন্যা নাফিসা কামাল। রাজশাহী কিংসের অন্যতম মালিক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। আ হ ম মুস্তফা কামালের মতো তিনিও সময় পেলেই মাঠে ছুটে আসেন।
এই বয়সে এসেও অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিতের স্পিরিট মুগ্ধ করার মতো। দল কিনে তিনি এবার চমকে দিয়েছেন সবাইকে। অর্থমন্ত্রীর বিপিএলে আসায় এ টুর্নামেন্টের গুরুত্বও বেড়ে বেছে। দুজন প্রভাবশালী মন্ত্রী থাকায় গত যেকোনো আসরের চেয়ে এবার বেশি স্পন্সর পেয়েছে দলগুলো। রংপুর রাইডার্সের মালিকানায় আছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তার মানে এই গ্রুপের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা আহমেদ আকবর সোবহানও বিপিএলের সঙ্গে যুক্ত। এ দলের সঙ্গে আছেন সংসদ সদস্য এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও। ঢাকা ডায়নামাইটসের মালিক আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সালমান এফ রহমান। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপিও আছেন এই দলটার সঙ্গে। খুলনা টাইটানস পরিচালনা করছে কাজী ফার্মস গ্রুপ। দলটির চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদ সরকারি দলের সংসদ সদস্য। তিনি আবাহনী লিমিটেডের ডিরেক্টর ইনচার্জ। তার বাবা প্রখ্যাত ব্যবসায়ী কাজী শাহেদ আহমেদও এই দায়িত্বে ছিলেন। চিটাগাং ভাইকিংসের মূল মালিক ডিবিএল গ্রুপ হলেও এর পেছনে আছেন চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী।

(ঢাকাটাইমস/২১ নভেম্বর/ডিএইচ/এসইউএল/জেইউএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত