এডিবির ঋণে চারলেন হচ্ছে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল মহাসড়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ২০:৪৪

চারলেন হচ্ছে এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক। এই প্রকল্পে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮০ টাকা দরে)।

বুধবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের(ইআরডি) সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি)

বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টও মনমোহন পারকাশ। এ সময় ইআরডি, এডিবি এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দক্ষিণ এশিয়া উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ এর আওতায় ঋণ সহযোগিতা দিচ্ছে এডিবি। এর মাধ্যমে নেপাল, ভুটান ওভারতের সঙ্গে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম বলেন, আমরা এখন অর্থছাড়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। চলতি বছর এডিবির ঋণ প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের পরিমাণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হবে। আমাদের ৬-৭টি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এসব প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ ছাড় ও প্রক্রিয়াধীন। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ছাড়কৃত

বিদেশি সাহায্যের পরিমাণ প্রায় ১৫০০ মিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ। আশা করছি বাজেটে সাত বিলিয়ন ডলার বিদেশি সাহয্যের যে টার্গেট দেয়া হয়েছে তা অর্জন করতে পারবো।

মনমোহন পারকাশ বলেন, আলোচ্য প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়িত হলে প্রকল্প এলাকার মানুষের জন্য বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। উন্নত সড়ক যোগাযোগ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং প্রতিবেশী ভারত নেপাল ও ভুটানের সাথে সংযোগ সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনমানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

জানা গেছে, এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়কটি জাতীয় মহাসড়কের অংশ। এটি চার-লেনে উন্নীত হলে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সাথে যানবাহন চলাচল বাড়বে। এ ছাড়া এটি ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল এবং বুড়িমারী দিয়ে ভারত ও ভুটানের সাথে উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ সহজতর হবে।

প্রকল্পের আওতায় এ সড়কের দু’পাশে ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের লেনও তৈরি করা হবে, যার ফলে এটি ছয়-লেনে প্রশস্ত হবে। এর পাশাপাশি মহাসড়কে দুই হাজার ৬৩৫ মিটারের তিনটি ফ্লাইওভার, ৪১১ মিটারের একটি রেলওয়ে ওভারপাস, ৩২টি ব্রিজ, ১৬১টি কালভার্ট, ১১টি পথচারী ওভারপাস, ৩৯টি আন্ডারপাস এবং একটি ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৮৮১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে এডিবি ঋণ দেবে নয় হাজার ৩৩৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বাকি দুই হাজার ৫৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেয়া হবে। সেপ্টেম্বর ২০১৬ থেকে আগস্ট ২০২১ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এডিবির মাল্টি-ট্র্যান্স ফিন্যাসিং ফ্যাসিলিটিজ (এমএফএফ) বা স্তরভিত্তিক অর্থায়ন সুবিধার আওতায় রয়েছে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প (দ্বিতীয় পর্যায়)। ‘এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি এর অংশ। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন পায়।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর বাস্তবায়নকারী সংস্থা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

এডিবির অর্থায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সর্বমোট ১২০ কোটি মার্কিন ডলার এমএফএফ ঋণের প্রথম কিস্তির (ট্র্যান্স-১) জন্য মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৭১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ১৭১ দশমিক ৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এডিবি ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেবে।  এডিবির দেয়া ওসিআর ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে। সুদের হার  হবে লাইবর (লন্ডন আন্তঃব্যাংক সুদ হার) শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ ও ম্যাচুরিটি প্রিমিয়াম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। এছাড়া অব্যয়িত ঋণের ওপর কমিটমেন্ট চার্জ শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ। কনসেশনাল ঋণ পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে পরিশোধ করতে হবে এবং প্রকল্পের মেয়াদে বার্ষিক সুদের হার ২ শতাংশ।

(ঢাকাটাইমস/২২নভেম্বর/জেআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত