ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে নেসকোর নতুন গাড়ি চুরমার

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১৯:২৭

রাজশাহীতে ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (নেসকো) নতুন একটি প্রাইভেটকার চুরমার হয়ে গেছে। প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের এ প্রাইভেটকারটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এক সহকারী প্রকৌশলীর ভাই ড্রাইভিং শিখতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটান।

দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটির নিবন্ধন মেলেনি এখনো। এরই মধ্যে এমন ঘটনায় নেসকোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি গাড়িতে প্রকৌশলীর ভাই ড্রাইভিং শিখতে পারেন কী না- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

গত সোমবার দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় গাড়িটি। এরপর বিষয়টি গোপন রাখে নেসকো কর্তৃপক্ষ। তবে রাজশাহী মহাগরীর একটি গ্যারেজে গাড়িটি মেরামতের জন্য দেয়া হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এরপর থেকে নেসকোর কর্মকর্তাদের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে।

প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানান, গত ৬ নভেম্বর ঢাকার একটি অটোমোবাইল শো-রুম থেকে টয়োটা ভিআইওএস-২০১৬ ব্র্যান্ডের প্রাইভেটকারটি কেনে নেসকো। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের এ প্রাইভেটকার বরাদ্দ ছিল উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম, বাণিজ্যিক পরিচালন বিভাগ) ফারুক হোসেন সরকারের জন্য।

পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলে সোমবার দুপুরে প্রাইভেটকারটি নিয়ে যান সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে সেটি নগরীর নওদাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনায় পড়ে।

নেসকোর কর্মকর্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম সম্প্রতি পদোন্নতি পেয়ে সহকারী প্রকৌশলী হয়েছেন। এর আগে তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ছিলেন। এখনও তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ রয়েছে, প্রকৌশলী সংগঠনের নেতা হবার সুবাদে তিনি নেসকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর অনৈতিক প্রভাব খাটান। আর প্রভাব খাটিয়েই তিনি ডিজিএম ফারুক হোসেন সরকারের কাছ থেকে প্রাইভেটকারটি নিয়ে যান। এরপর তিনি তার ভাইকে ড্রাইভিং শেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একটি গরুবাহী ভটভটিকে সামনাসামনি ধাক্কা দেন প্রকৌশলী জাহাঙ্গীরের ভাই। এতে কারটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বুধবার রাতে নগরীর ডিঙ্গাডোবা এলাকার একটি গ্যারেজে গাড়িটি মেরামত করতে দেখা গেছে।

গ্যারেজ মালিক আনারুল ইসলাম বলেন, প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম তাকে গাড়িটি মেরামতের জন্য দিয়েছেন। গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে ভেতরে ঢুকে গেছে। ভেঙে গেছে সামনের কাঁচও। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাম্পার, বনাট, রেডিয়েটর ও এসি।

আনারুল ইসলাম জানান, গাড়িটির সামনের অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেঙে যাওয়া কাঁচের দাম লাখ টাকার ওপরে। এছাড়া চেসিস, এসি এবং রেডিয়েটের মেরামতে বড় অঙ্কের টাকা খরচা হবে। ইতোমধ্যে কিছু যন্ত্রাংশ ঢাকা থেকে আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গাড়িটি সম্পূর্ণভাবে নতুন অবস্থায় আনা সম্ভব নয়। তবে মেরামতে সবমিলিয়ে খরচ হবে পাঁচ লাখ টাকা।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়ি ড্রাইভিং শেখাতে ভাইকে দিতে পারেন কী না- এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এর বাইরে কোন কিছু জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন।

তবে ডিজিএম ফারুক হোসেন সরকার প্রকৌশলী সমিতির নেতাদের দাপটে অনেকটা অসহায় বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গাড়িটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর চেয়েছিলেন। আমি না করতে পারিনি। এভাবে অধঃস্থনদের গাড়ি ব্যবহার করতে দেয়া বিধিসম্মত কী না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনিও কোনো মন্তব্য করেননি।

(ঢাকাটাইমস/২৩নভেম্বর/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত