রেডক্রিসেন্ট রাঙামাটির চেয়ারম্যান বৃষকেতুর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারের অভিযোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ২০:২৮

রেডক্রিসেন্ট রাঙামাটি জেলা কমিটির পদাধিকার চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমার বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয়করণের অভিযোগ করেছেন ভোটে নির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য সদস্যরা। বৃষকেতু চাকমা রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার সকালে বনরূপায় এক রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ অভিযোগ করা হয়।

এ সময় বিগত কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভুট্টো, সাধারণ সম্পাদক জিসান বখতিয়ার, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. গঙ্গা মানিক চাকমা, নাই উ প্রু মারমা মেরী, জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বলা হয়, চেয়ারম্যানের দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় কেন্দ্রীয় দপ্তরে একটি অভিযোগ দেন বৃষকেতু। এ অভিযোগের তদন্ত না করে কেন্দ্রীয় দপ্তর রাঙামাটি কমিটি ভেঙে দিয়ে একটি অ্যাডহক কমিটি করে দেয়। এতে যাদের সদস্য করা হয় তাদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

সম্মেলনে জিসান বখতিয়ার রাঙামাটি রেডক্রিসেন্টের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১৩ জুন পাহাড়ধসের পর রেডক্রিসেন্ট কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে দুর্গতদের জন্য পাঠানো ১০ লাখ টাকা যথাযথভাবে ব্যয় করা হয়নি। আশ্রয়কেন্দ্রে যেদিন দুর্গতদের খাবারে মাংস দেওয়ার কথা সেদিন তা না দিয়েও মাংসের খরচ দেখিয়ে বিল করা হয়। যেদিন জেলা প্রশাসন আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার খরচ দিয়েছে সেদিনও রেডক্রিসেন্টের খাবারের বিল তৈরি করা হয়। এসব বিল তৈরি করেন রেডক্রিসেন্টের ইউনিট লেভেল অফিসার আজরুউদ্দিন সাফদার।’ এসব বিলে অনিয়ম পরিলক্ষিত হওয়ায় তিনি স্বাক্ষর করেননি বলে দাবি করেন জিসান বখতিয়ার।

কিন্তু চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা এসব বিলে স্বাক্ষর করেছেন অভিযোগ করে জিসান বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে তিনি (বৃষকেতু) রেডক্রিসেন্টের টাকাগুলো আত্মসাৎ করার সুযোগ সৃষ্টি করেন। অনিয়মের অভিযোগে আজরুউদ্দিন সাফদারকে রাঙামাটি থেকে সরিয়েও নেওয়া হয়। কিন্তু চেয়ারম্যান সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে উল্টো অভিযোগ দেন।’

ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, বৃষকেতু চাকমা রেড ক্রিসেন্টকে জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগ মনে করেন। একাধিকবার তিনি এ রকম বক্তব্যও দিয়েছেন।

ভোটে নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে যে অ্যাডহক কমিটি পাঠানো হয়েছে তার প্রায় সব সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত দাবি করে ভুট্টো বলেন, মূলত অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে বৃষকেতু রেড ক্রিসেন্টকে দলীয় প্রতিষ্ঠান বানাতে চেয়েছেন। রাঙামাটি জেলা পরিষদ যেভাবে দলীয় প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে সেভাবে রেডক্রিসেন্টকেও দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’

ভেঙে দেয়া কমিটির সদস্যরা কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন দাবি করে মতবিনিময় সভার আয়োজকরা বলেন, যারা অবৈধ বিলে স্বাক্ষর করেছেন তারা এ দায় এড়াতে পারেন না।
এদিকে একটি রিট পিটিশনের শুনানি শেষে গত ১৩ নভেম্বর রেডক্রিসেন্ট রাঙামাটির অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। অ্যাডহক কমিটিকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার জন্য রুলও জারি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নায়মা হায়দার ও জাফর আহাম্মেদের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে এ আদেশ দেন।

(ঢাকাটাইমস/২৩নভেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত