লোভে পাপ, পাপে লোকসান

আরিফ হাসান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৪৩ | প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:২২
ফাইল ছবি

অফিসে আজ বড় রুই মাছ রান্না হয়েছে। একেবারে ভুনা ভুনা। মাছ আনলে স্বাভাবিক ভাবেই মাথা নিয়ে চলে কাড়াকাড়ি। ক্যান্টিনে গিয়ে বাবুর্চিকে যিনি আগে গিয়ে ফরমায়েশ দিয়ে আসবেন মাথার মালিক তিনিই। এই অভিজ্ঞতা গত পাঁচ বছরের।

আজকের ঘটনা বলি। অন্যদিনের তুলনায় আজকের মাছটা একটু বড়ই এনেছেন আমিনুল ভাই(বাবুর্চি)। খুব গোপনে তাই সবার আগেই ঢুঁ মারলাম রান্নাঘরে। বাবুর্চিকে ম্যানেজ করে মাছের ধড় থেকে মাথা আগেই আলাদা করে নিয়ে নিলাম মালিকানা। এই মালিকানা হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় সিদ্ধান্ত নিলাম, মাথা ভাজার কাজটা নিজের হাতেই করব।

এদিকে, শুক্রবার হওয়াতে জুম্মার নামাজে যাওয়ার একটু তাড়া ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে তাই মাথাকে ধুয়ে হলুদ-লবন মাখালাম। তারপর ছেড়ে দিলাম কড়াইয়ের ভেতরে। বাবুর্চির তোয়াক্কা না করে নিজের হাতেই ভাজলাম অনেক সাধের মাথা। ভাজা শেষ হলে বড় একটা বাটিতে ভরে বড় মাথাটাকে চালান করে দিলাম অজ্ঞাত স্থানে। যেখানে মাথার ওপর নজর পড়বে না কারোই। আজকের এ মাথা শুধুই আমার।

নামাজ পড়তে যাওয়ার আগে বাবুর্চিকে বলে গেলাম, ‘মাছ ভুনা করার সময় মাথাটাও যেন তরকারির মধ্যে ছেড়ে দেয়। ভুনা তরকারির সঙ্গে জ্বাল হলে মাথাটা চিবাইতে হয়তো আরো সুস্বাদু হবে। শুধু তাই নয়, মাছ ভুনা হয়ে গেলে মাথাটা যেন আবার আলাদা করে আগের অজ্ঞাত স্থানে রেখে দেয়। মাথার ভাগিদারের তো অভাব নেই।

নামাজ পড়ে এসেই যথারীতি ছুটলাম রান্নাঘরে। মজা করে খাবো মাথা। লুকানো স্থান থেকে বের করতেই সবার চোখ মাথার দিকে। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো মজার মন্তব্য করছেন আমার মাছের মাথা বিষয়ক কর্মকাণ্ড নিয়ে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন, ‘এত বড় মাথা আমি কীভাবে খাবো? কত সময় নিয়ে খাবো?

যাহোক, সবার মন্তব্য ও নানা প্রশ্নকে অগ্রাহ্য করে শুরু করলাম খাওয়া। কিছুক্ষণ পরেই তো বুঝলাম কি লাভটাই আমি করেছি। মাথার উপরের চামড়া বাদে ভেতরের কিছুই সিদ্ধ হয় নাই। ভেতরে তাজা রক্ত। অন্য যা কিছু ছিল সবই কাঁচা। দেখেই তো গা গুলিয়ে গেল।

যাবেই বা না কেন। রান্নার আগে মাথার যে আরো বিভিন্ন অংশ কেটে ফেলে দিতে হয়, যাতে ভেতরে জ্বাল লেগে সিদ্ধ হতে পারে। কিন্তু মাথা খাওয়ার চিন্তায় এই বিষয়টা আমার মাথায়ই আসেনি। কাজেই, যা হওয়ার তাই হয়েছে। প্রজেক্ট লস।

সাধের মাথাকে স্বাদ করে আর খাওয়া হলো না। পুরো মাথাটারই স্থান হলো ময়লার ঝুড়িতে। এতোদিন শুধু শিখেছি, ‘লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু’। কিন্তু নিজ মাতবারির খেশারত দিয়ে অনেক সাধের মাথাটাকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে ফেলতে নতুন করে শিখলাম, ‘লোভে পাপ, আর পাপে লোকসান’ও হয়।

ঢাকাটাইমস/২৪নভেম্বর/এএইচ    

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত