ডিআরইউর লেখক সম্মাননা পেলেন হাবিবুল্লাহ ফাহাদ

জহির রায়হান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৭, ১০:৩৩ | প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর ২০১৭, ২৩:৩৩

মূলধারার নিউজপোর্টাল ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক ‘এই সময়’-এর প্রধান প্রতিবেদক হাবিবুল্লাহ ফাহাদসহ ৪৩ জন সদস্য-লেখককে সম্মাননা দিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)।

শুক্রবার বিকালে ডিআরইউর সাগর-রুনি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে সম্মাননা তুলে দেয়া হয়।

‘ডিআরইউ সদস্য লেখক সম্মাননা-২০১৭’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা।

তরুণ সাংবাদিক ও লেখক হাবিবুল্লাহ ফাহাদ গত বইমেলায় রোদেলা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তার ‘দানামাঝির বউ’ গল্পগ্রন্থের জন্য সম্মাননা পান।

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ নিয়মিত লিখছেন দেশের পাঠকনন্দিত সাহিত্য পত্রিকাগুলোতে। ২০১৭ সালের একুশে বইমেলায় ‘দানামাঝির বউ’ ছাড়াও আরও দুটি বই প্রকাশিত হয় তার। এর মধ্যে দুজন সেক্টর কমান্ডার ও একজন রণাঙ্গনের সাংবাদিকের আত্মজৈবনিক সাক্ষাৎকার বিষয়ক বই ‘তিন যোদ্ধার মুখোমুখি’ প্রকাশ করেছে বিদ্যাপ্রকাশ। সম্পাদনা করেছেন কথাসাহিত্যিক স্বকৃত নোমানের সাক্ষাৎকার সংকলন, যার নাম ‘গহিনের দাগ’। প্রকাশ করেছে বিদ্যাপ্রকাশ।

আসছে বছরের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে হাবিবুল্লাহ ফাহাদের প্রথম উপন্যাস ‘বসন্ত রোদন।’

ডিআরইউর সম্মাননা পাওয়া অন্য সদস্যরা হলেন- বাসসের শামসুল আলম বেলাল, চপল বাশার, হালিম আজাদ, অজিত কুমার সরকার, মুহম্মদ আবদুল বাতেন, পাক্ষিক অনন্যার হাসান হাফিজ, সমকালের মুস্তাফিজ শফি ও ইন্দ্রজিৎ সরকার, প্রথম আলোর মাসুদ আলম, চ্যানেল আইয়ের জাহিদ নেওয়াজ খান ও মোস্তফা মল্লিক, চ্যানেল ২৪-এর আমীন আল রশীদ, ইত্তেফাকের পিনাকি দাসগুপ্ত, বাংলাভিশনের মোস্তফা কামাল, জিয়াউল হক সবুজ ও ইমরুল কায়েস, জনকণ্ঠের তৌহিদুর রহমান, রাইজিং বিডির উদয় হাকিম, এবি নিউজ ২৪ বিডি.কমের শাহীন চৌধুরী, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের রেজাউল কারীম, সারাবাংলা.নেট-এর মেসবাহ শিমুল, শেয়ারবিজের মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ ও জাকারিয়া পলাশ, ভোরের কাগজের শামসুজ্জামান শামস ও ঝর্ণা মনি, প্রিয় দেশ নিউজের রকিবুল ইসলাম মুকুল, পিটিবি নিউজ ডটকম-এর আশীষ কুমার দে, মাই টিভির আমিরুল মোমেনীন মানিক, নিউজ প্রেস বিডির আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মানিক মুনতাসির, অবজারভারের জীবন ইসলাম, সংগ্রামের শাহেদ মতিউর রহমান ও মিয়া হোসেন, দিগন্ত টিভির জিয়াউল কবির সুমন, আমাদের অর্থনীতির জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, উত্তরবঙ্গ সংবাদের নির্মল চক্রবর্তী, আরটিভির মাইদুর রহমান রুবেল, বাংলা ট্রিবিউনের নুরুজ্জামান লাবু, ইনকিলাবের রফিক মুহাম্মদ, নতুন সংবাদের এম উমর ফারুক, মানবকন্ঠের আসাদ জোবায়ের ও আমাদের সময়ের এম এইচ রবিন। লেখক সদস্যদের ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতিসত্তার কবি হিসেবে খ্যাত নূরুল হুদা বলেন, ‘সাহিত্য এবং সাংবাদিকতা বিশেষ করে প্রতিবেদনের মধ্যে কোথায় যেন একটা পার্থক্য আছে। যারা সত্যিকারের সাংবাদিকতা করেন তারা সত্যিকারের সাহিত্যিক হতে পারেন কি না এ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও দেশে যারা সাংবাদিকতা করেন তাদের মধ্যেই প্রধান কবি হিসেবে অনেকে পরিচিত।’

তিনি বলেন, ‘সাহিত্য সম্পাদনা এবং প্রতিবেদক হওয়ার মধ্যে একটা দূরত্ব আছে। উৎস ছাড়া যে সংবাদ দেবেন, সেই সংবাদ সত্য সংবাদ নয়। সাহিত্য হল, যা বাস্তবতা তা লেখা হলে তখন সাহিত্য হবে না, সাহিত্যের বিষয় হচ্ছে যা ঘটে তা সত্য নয়, যা ঘটতে পারত বা যা ঘটাতে চাই এর সৃষ্টি।’

ডিআরইউর এই সদস্য লেখক সম্মাননা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে কবি নুরুল হুদা বলেন, ‘এই সম্মাননা যদি নিয়মিত দেওয়া হয় তাহলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রিপোর্টারদের থেকে আমাদের শ্রেষ্ঠ কবিও বেরিয়ে আসতে পারে। যদি প্রতি মাসে সাহিত্যসভা হয় তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে কার চেয়ে কে ভালো কবিতা লিখতে পারে সেই বিষয়ে টুকাটুকি লাগবে।’

ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানটি আমাদের গর্বের অনুষ্ঠান। সম্মাননা পাওয়া লেখকরা সাংবাদিকতা পেশায় জড়িত থাকার পরও তারা নিজেরে মেধা দিয়ে আরও কিছু করতে পারেন বলে তা প্রমাণ করেছেন।’

সাখাওয়াত হোসেন বাদশা আগামী দিনে সৃজনশীল, মননশীল এবং শিশুসাহিত্য বিষয়ে ডিআরইউ থেকে পুরস্কার প্রবর্তনের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে আশা প্রকাশ করেন, এ পুরস্কারের সঙ্গে অন্য লেখকদেরও সম্মাননা দেওয়া অব্যাহত রাখবেন।

ডিআরইউর সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে কবি হাসান হাফিজ, লেখক শফিকুল বাশার চপল (চপল বাশার), কবি শাসমুল আলম বেলাল, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানি বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন লেখক সম্মাননা অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও ডিআরইউর প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক কাফী কামাল।

অনুষ্ঠানে ডিআরইউর সহসভাপতি আবু দারদা যোবায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জিলানী মিলটন, দপ্তর সম্পাদক নয়ন মুরাদ, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক শেখ মাহমুদ এ রিয়াত, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য নূরুল ইসলাম হাসিব, হাবীবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, সাখাওয়াত হোসেন সুমন, মাইনুল হাসান সোহেল, হাফিজ আল আসাদ (সাঈদ খান) ও মো. আনিসুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৪নভেম্বর/জেআর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

গণমাধ্যম বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত