না.গঞ্জ বিএনপির নেতারা আছেন ছাত্রদল-যুবদলেও

মো. মাজহারুল ইসলাম রোকন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
 | প্রকাশিত : ০৩ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:২০

তারা দুজন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তারাই আবার জেলা ছাত্রদল ও  স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। জেলা যুবদলের বড় পদের একজন জেলা বিএনপিতেও বড় নেতা। কেউ আবার তৃণমূল থেকে কেন্দ্র- সব কমিটিতে আছেন। একই অঙ্গে এত শক্তি- ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির ভার বইছেন তারা।

কেন্দ্রীয় বিএনপির গত বছরের ১৮ মার্চেও সম্মেলনে দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে এক নেতার এক পদ’ নীতি নেয়্ াহয়। এটি বাস্তবায়নের জন্য দলের নির্দেশে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতা একটি পদ রেখে বাকিগুলো ছেড়ে দেন। তাদের মধ্যে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

কিন্তু নারায়ণগঞ্জে এর ভিন্ন চিত্র। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে প্রায় নয় মাস। কিন্তু বিভিন্ন কমিটিতে থাকা নেতারা এখনো আঁকড়ে আছেন একাধিক পদ। ওই প্রতিবেদনে ছোটখাটো একাধিক পদধারীদের হিসাবে আনা হয়নি। শীর্ষ পদের অন্তত ১০ জনের দখলে আছে ২৪টি পদ।

জেলা কমিটি সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির। তিনি একই সঙ্গে বহন করছেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব। রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য পদেও।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহামুদ একই সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্যসচিব।

জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শিল্পপতি শাহ আলম একই সঙ্গে রয়েছেন তিন পদে। অন্য দুটি পদ হলো ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি,  কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য।

জেলা কমিটির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস একই সঙ্গে ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

জেলা বিএনপির দুই সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান রোজেল ও মাসুকুল ইসলাম রাজীব। রোজেল একই সঙ্গে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। আর রাজীব জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদেও রয়েছেন।

রোজেল ও রাজীব ঢাকাটাইমসকে বলেন, অচিরেই স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটি হয়ে যাবে। তখন তারা এ পদে থাকতে পারবেন না।
আজহারুল ইসলাম মান্নান কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে থেকেও সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।

সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফরও জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন।

মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল হয়েছেন মহানগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে। একই পদে তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতেও রয়েছেন।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুকুল একই সঙ্গে সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক।

আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ এম বদরুজ্জামান খান খসরু কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন।

তবে এখানে ভিন্ন হলেন মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তাকে মহানগর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হলে তিনি এ পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন।

এসব নেতা ছাড়াও জেলার সাতটি থানায় বিএনপির মূল দলসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতা একাধিক পদে রয়েছেন।

এক নেতার একাধিক পদ আঁকড়ে রাখায় ক্ষোভ আছে তৃণমূলের নেতাকর্মীদেও মধ্যে। তারা বলছেন, একজন নেতা একাধিক পদ আঁকড়ে রাখায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না।

(ঢাকাটাইমস/৩ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত