মনোনয়ন-প্রত্যাশী

জামালপুর-৫: আ.লীগে ছয় প্রভাবশালী বিএনপিতে ওয়ারেস

জামালপুর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:১৮

আওয়ামী লীগের দুর্গ বলে পরিচিত জামালপুর সদর আসনে (জামালপুর-৫) দলের মনোনয়ন নিয়ে কোন্দলের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। কেননা এখানে দলের অন্তত ছয়জন প্রভাবশালী মনোনয়ন-প্রত্যাশী, যাদের সবার জনপ্রিয়তা রয়েছে দলে। তাদের বিপরীতে বিএনপির প্রায় একক প্রার্থী এগিয়ে যাচ্ছেন, তৃণমূলে তৈরি করে নিচ্ছেন নিজের শক্ত অবস্থান।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হীরা এমপি এবারও এই আসনে মনোনয়ন-প্রত্যাশী। চারবারের নির্বাচিত এই জনপ্রিয় সাংসদ আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে দুর্গ ধরে রাখতে কাজ করছেন। কিন্তু তার আগে তাকে ডিঙাতে হবে কঠিন মনোনয়ন-পরীক্ষা।

এই সুযোগ নিচ্ছেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা জামালপুর পৌরসভার পর পর দুবারের নির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। তিনি পৌরসভার সীমানা ছাড়িয়ে সদর উপজেলার সাধারণ মানুষের মন জয় করে গ্রামপর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করছেন। পাশাপাশি গড়ে তুলেছেন দলের বিশাল কর্মী বাহিনী।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগের একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগের দুর্গে আঘাত হানতে পারে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ওয়ারেস মামুন।

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী অন্য মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জেলা আইনজীবী সমিতির তিনবার নির্বাচিত সভাপতি মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ চৌধুরী অন্যতম।

ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় কর্মকা-ের পাশাপাশি এমপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে উপজেলার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সামাজিক (মসজিদ-মাদ্রসা, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) উন্নয়নকাজে তার সহায়তার কারণে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি কাছে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

আর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েও অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ অনেক আগে থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি দলীয় সভা-সমাবেশে যোগ দিয়ে নিজের অবস্থান নেতাকর্মীদের কাছে তুলে ধরছেন। নৌকায় ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি এমপি মনোনয়নের জন্য নেতা-কর্মীদের দোয়া ও সমর্থন চাইছেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলার ধনাঢ্য ব্যবসায়ী রেজাউল করিম রেজনু (সিআইপি)। তিনি একসময় জেলা আওয়ামী লীগের একজন পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শহরের বাণিজ্যিক এলাকা তমালতলায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের জন্য তার মায়ের নামে থাকা মার্কেটের একটি ফ্লাট ১০১ টাকায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে লিখে দেন। এই ফ্লাটেই পরিচালনা হয়ে আসছিল আওয়াম লীগের দলীয় কার্যক্রম। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে তিনি এখন দলের মূল¯্রােতের বিপরীতে পড়লেও এ আসনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে রয়েছেন তরুণ এই নেতা।       

জামালপুর শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও আইনজীবী এইচ আর জাহিদ আনোয়ারও এবার মনোনয়ন-প্রত্যাাশী। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক আহাম্মেদ চৌধুরীর কাছে পরাজিত হন। সম্ভাব্য এই প্রার্থী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

এ আসনের অপর মনোনয়ন-প্রত্যাশী হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেন। নির্বাচন এলেই তিনি এলাকায় আসেন এবং তার কিছু সমর্থক নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন।

এ ছাড়া এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মারুফা আক্তার পপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ব ম জাফর ইকবাল জাফু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আব্দুল মান্নান, আওয়ামী লীগ নেতা শিল্পপতি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলী ও জামালপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বিজন কুমার চন্দ। তবে মাঠে তেমন গণসংযোগ নেই এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীর।

এই আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন-প্রত্যাশী থাকলেও এখন পর্যন্ত একজনের নাম সামনে আসছে বারবার। আওয়ামী লীগের দুর্গে বিএনপির জয়ের পতাকা উড়াতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন ময়মনসিংহ বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও  জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেছ আলী মামুন। ইতিমধ্যে দলের সাংগঠনিক অবস্থা শক্তিশালী করে গড়ে তুলছেন। গড়ে তুলেছেন বিশাল কর্মীবাহিনী।

বিএনপির দুর্দিনের কান্ডারি হিসেবে পরিচিত ওয়োরেছ মামুন পৌরসভার গন্ডি পেরিয়ে পুরো সদর উপজেলায় মানুষের মনে নিজের অবস্থান তৈরি করে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের দুর্গ জয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে যারা তার বিপক্ষে রয়েছেন তাদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তার সমর্থকদের দাবি, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনিই আওয়ামী লীগের দুর্গে আঘাত হানতে পারবেন।

এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক ও সাবেক মহিলা এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি। তবে দলীয় কর্মকা-ে তাদের তেমন কোনো অবস্থান নেই।  

এ ছাড়া জামালপুর-৫ আসনে জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির নেতা মো. জাকির হোসেন খান ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি জুলফিকার মোহাম্মদ জাহিদ জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তারা দলীয় মনোনয়ন পেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ দলের প্রায় এক ডজন শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তারা মনে করছেন, এই অবস্থায় রেজাউল করিম হীরা ছাড়া আর কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের মনোনয়ন-প্রত্যাশীর মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির পাশাপাশি দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তির সৃষ্টি হতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/৪ডিসেম্বর/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত